শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো বকেয়া বিল আদায়ে হিমশিম খাচ্ছে

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকের কাছে গ্যাসের বকেয়া বিল বাবদ বিতরণ কোম্পানিগুলোর পাওনা সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে গৃহস্থালি ও শিল্পসহ বেসরকারি খাতের কাছেই বিতরণ কোম্পানিগুলো পাবে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও এসব গ্রাহক পাওনা টাকা পরিশোধ করছে না। দেশে গ্যাস উত্তোলন ও বিতরণে মোট ১১টি কোম্পানি নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ করছে ছয়টি বিতরণ কোম্পানি। গৃহস্থালি পর্যায়ের পাশাপাশি এসব কোম্পানির গ্যাস বিল বকেয়া রাখা গ্রাহকের তালিকায় বিভিন্ন শিল্প-কারখানা ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ইটভাটা এবং চা বাগানের মতো প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। সব মিলিয়ে বেসরকারি খাতে মোট নয় শ্রেণীর গ্রাহকের কাছে বিতরণ কোম্পানিগুলোর গ্যাস বিল বকেয়া রয়েছে। এ বকেয়া আদায়ে সহসা পথ দেখছে না গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো। বকেয়া পরিশোধে গ্রাহকরা কয়েক দফা সময় চাইলেও সে প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো বকেয়া বিল আদায় করতে হিমশিম খাচ্ছে।
পেট্রোবাংলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত গ্যাস বিল বাবদ বিতরণ কোম্পানিগুলোর বকেয়া পাওনার পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু বেসরকারি খাতের গ্রাহকদের কাছেই বকেয়া রয়েছে ৭ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। পেট্রোবাংলার আওতাধীন ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির বকেয়া এ পাওনা আদায়ে এরই মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গত মাসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক সভায় এ সুপারিশ করা হয়।
বিতরণ কোম্পানিগুলোর বেসরকারি খাতে বকেয়া পাওনা সবচেয়ে বেশি অনাদায়ী রয়েছে গৃহস্থালিতে। এ শ্রেণীর গ্রাহকের কাছে বিতরণ কোম্পানিগুলো পাবে ২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। এর পরই রয়েছে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা। এসব শিল্প-কারখানার কাছে গ্যাস কোম্পানিগুলোর বকেয়া বিলের পরিমাণ ১ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। এছাড়াও ক্যাপটিভ পাওয়ার বা শিল্প-কলকারখানায় নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন বাবদ বকেয়া রয়েছে ১ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এর বাইরেও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) কাছে ১ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা, সিএনজি স্টেশনগুলোর কাছে ৮০৯ কোটি, সার কারখানায় ৯২ কোটি, বাণিজ্যিক খাতের ১৭৮ কোটি, ইটভাটার ৪ কোটি ও চা বাগানের কাছে ১ কোটি টাকার পাওনা বকেয়া রয়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলোর।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ জুনে সমাপ্ত গত অর্থবছরের শেষ নাগাদ বেসরকারি খাতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর বকেয়ার পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, বকেয়া টাকা আদায় করতে বারবার সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের চিঠি দেয়া হলেও সন্তোষজনক সাড়া মিলছে না। কিছু প্রতিষ্ঠান বকেয়া পরিশোধ করলেও সেটির পরিমাণ খুবই সামান্য। বকেয়া আদায়ে জ্বালানি বিভাগের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তবে তা আদায় করতে না পেরে এরই মধ্যে আর্থিকভাবে মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, গ্যাসের বকেয়া বিল আদায়ে জ্বালানি বিভাগ থেকে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কভিড মহামারীর কারণে বকেয়া আদায়ে কিছুটা ছাড় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন সে সুযোগ আর নেই। গ্যাসের বকেয়া পরিশোধ না করায় অনেক গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বকেয়া আদায়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওনা বকেয়া রয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (তিতাস)। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সংস্থাটির গ্রাহকদের কাছে পাওনা বকেয়া ছিল মোট ৬ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের বকেয়া রয়েছে ৫ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। সংস্থাটি বেসরকারি তিন শ্রেণীর গ্রাহকের কাছে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাবে। এর মধ্যে আবাসিক শ্রেণীর গ্রাহকের কাছে ১ হাজার ৮২৯ কোটি, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৯৯৪ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে সংস্থাটির।
তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশিদ মোল্লাহ বলেন, বকেয়া আদায়ে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের চিঠি দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে ভালো সাড়াও পাচ্ছি আমরা। তবে কত দ্রুত এ বকেয়া বিল আদায় করতে পারব, সেটি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আগামীতে বকেয়া ও অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদে আরো জোরালো ভূমিকা পালন করবে তিতাস। কভিড উত্তরণের মধ্যে আমাদের বকেয়া আদায়ে কার্যক্রম আরো জোরালো করা হচ্ছে।
এছাড়া অন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড পাবে ৫৫৯ কোটি টাকা। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড পাবে ৪৭৬ কোটি টাকা। এর বাইরেও বেসরকারি গ্রাহকদের কাছে জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ৪৯১ কোটি, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের ১২৭ কোটি ও সুন্দরবন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ৩ কোটি টাকার বকেয়া পাওনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে গ্যাসের বকেয়া বিল আদায়ে জ্বালানি বিভাগের নেতৃত্বে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় চলতি বছরের জুনে দেশের বৃহৎ একটি শিল্প গ্রুপের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তিতাস। এছাড়া অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধেও নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৫৭১টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com