শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্য বেলাব

প্রদীপ কুমার দেবনাথ বেলাব (নরসিংদী) :
  • আপডেট সময় বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০২১

হালকা কুয়াশার ধোঁয়াটে পরিবেশ জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। মাঝরাতে গ্রামের ভিতর দিয়ে হাঁটলে মনে হবে শীত এসে গেছে প্রায়। কিছুটা কাঁপুনিও অনুভূত হয় যদিও হিমশীতল আবহাওয়ার দেখা মিলেনি এখনও। করোনায় দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর বিধিনিষেধ কেটে গিয়ে প্রাণ ফিরেছে জনমনে। দীর্ঘ করোনায় প্রকৃতি ও মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছিল বৈপরীত্য, বিচিত্র হয়ে উঠেছিল মানুষের মানসিকতা। লকডাউন বা বিধিনিষেধ কাটলেও তাদের শূন্যতা আর অপূর্ণতা কাটেনি। সেই অপূর্ণতা ঘুছাতে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে কয়েক হাজার পরিযায়ী পাখি উড়ে এসে সেই লাল পদ্মশোভিত বিল, খালগুলোয় জলকেলি ও গাছে গাছে কলকাকলিতে মুখরিত করে জানান দিচ্ছে তাদের উপস্থিতি। উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের চারদিকে এখন সরব উঠছে পাখিদের কলরবে। নিজ আনন্দে তারা গান গেয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে এক বিল থেকে বিলে, এক গাছ থেকে অন্য গাছে । এমন আচরণে মনে হচ্ছে যেন কোনো উৎসবে মেতেছে তারা। কেউ সাঁতার কাটছে, কেউ ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে শাপলা পাতার উপর, কেউ আবার খুঁজছে খাবার, কারো বা অন্যদের সাথে খুনসুটি করেই কাটছে সময়। এই বেলাবতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আপন মনে বিচরণ তাদের। উপজেলার বিলকেন্দ্রী, বড় বিল, রইন্নার বিল, পেট কাটা বিল, নাপতের বিল, বিভিন্ন খাল, শীতলক্ষা নদ সহ সকল বিল খাল, গাছ আর মাঠে তাদের অবাধ বিচরণ। সবচেয়ে বেশি পাখি দেখা যায় বিলকেন্দ্রী ও নাপতের বিলে। সমগ্র বিলজুড়েই এদের রাজত্ব। শীতলক্ষ্যা নদেও এদের আধিক্য লক্ষণীয়। হিমালয়ের উত্তরের সুদূর সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া, নেপাল প্রভৃতি দেশ থেকে প্রচন্ড তুষারপাতের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে না পেরে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে শীতের শুরুতেই আসতে শুরু করে এসব পাখি। অতিথি পাখিদের অধিকাংশই হাঁসজাতীয়। এর মধ্যে পাতি সরালি, পান্তামুখী, পাতারি, পচার্ড, ছোট জিরিয়া, মুরগ্যাধি, গার্গেনি, কোম্বডাক, পাতারী হাঁস, জলকুক্কুট, খয়রা, ফ্লাইফেচার ও কামপাখি প্রধান। এছাড়া লাল গুড়গুটি, নর্দানপিনটেল, কাস্তে চাড়া, কলাই, ছোট নগ, জলপিপি, মানিকজোড়, খঞ্জনা, চিতাটুপি, বামুনিয়া হাঁস, নাকতা, লাল গুড়গুটি, নর্দানপিনটেল ও কাস্তে চাড়া প্রভৃতি নামের হাজার হাজার পাখিও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসে এই ক্যাম্পাসে। কথা হয় বেলাব উপজেলার বিশিষ্ট পাখি প্রেমি ভাবলার শিক্ষক রাজীব চক্রবর্তী পিন্টুর সাথে। তিনি বললেন, ‘এই পাখিগুলো আমাদের এলাকার অতিথি নয় বরং তারা আমাদের উপজেলার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। বন্ধুদের ঘুরিয়ে দেখানোর এবং গর্ব করার মতো অনেক উপাদানের ভেতর অতিথি পাখি অন্যতম। তাছাড়া পাখিদের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। শীতের শেষে যখন পাখিরা নিজ গন্তব্যে উড়াল দেয়, তখন আমারও স্মরণ হয় এই পৃথিবীতে আমিও স্থায়ী নই। আমাকেও চলে যেতে হবে।’ এ সময় তিনি নিরীহ এসব পাখি শিকার ও ভয় দেখানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানান সকলকে। সোহেল রানা বলেন, পাখিগুলো আমাদের প্রকৃতির অমূল্য সম্পদ। এদেরকে নিরাপদ রাখতে আমাদের সতর্ক থাকা আবশ্যক।’ পাখি বিশারদরা জানা, শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই ক্যাম্পাসেও বাড়তে থাকবে অতিথি পাখির সংখ্যা। ডিসেম্বরের শুরু থেকে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অতিথি পাখির উপস্থিত লক্ষ করা যেতে পারে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com