মাঠে মাঠে এখন সরিষা ফুলের অপরূপ দৃশ্য। পুরো মাঠ যেন ঢেকে আছে সুন্দর এক হলুদের চাদরে। তাই এই সুযোগে মধু চাষিরাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সরিষার ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহে। ফসলি জমির পাশে পোষা মৌমাছির শতশত বক্স নিয়ে হাজির হয়েছেন শুদুর সাতক্ষীরা জেলা থেকে আসা মৌচাষিরা। ঐসব বক্স থেকে হাজার হাজার মৌমাছি উড়ে গিয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে সরিষা ফুলের মাঠে। এতে প্রতিবছর হাজার হাজার মন মধূ সংগ্রহ করে একদিকে দেশের চাহিদা মিটানো হয় অন্যদিকে তাদের উপার্জনে পরিবার বাচে। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গত ২৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে ব্যবসায়ীক প্রতিহিংসার প্রেক্ষিতে শিকারী পালিত মৌমাছির বক্সে বিষ প্রয়োগে মাছি নিধন করে প্রায় ৯ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার হরিনগর গ্রামের মৃত আব্দুল গাজীর ছেলে ফজর আলী অভিযোগে বলেন, প্রতিবছর সাতক্ষীরা থেকে প্রতি বছর সরিষা মৌসুমে রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে এসে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে থাকি। ১ মাস যাবত এই এলাকায় মধু সংগ্রহ করছি। গত ২২ ডিমেস্বর রৌমারী সদর ইউনিয়নের কড়াইকান্দি গ্রামের পশ্চিমে জাফর আলীর জমিতে মধু সংগ্রহের জন্য বক্স স্থাপন করি। ২৩ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে স্থানীয় সায়দাবাদ গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ এর ছেলে ফরহাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি তাহার সহযোগীতা বা অনুমতি ছাড়া মধু চাষ না করিলে মোবাইল ফোনে এবং সরাসরি সাক্ষাতে বিভিন্ন গালমন্দ, আর্থিক ক্ষতি করা এবং প্রাণ নাশের হুমকি ধামকি দেয়। ঐ রাতেই ঘুমন্ত অবস্থায় থাকাকালিন সময়ে ১২০ টি মৌমাছির বক্স সমুদয় বিষ প্রয়োগে মারিয়া ফেলা হয়। এতে প্রায় ৯ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে। বিবাদীর এমন অমানবিককর্ম ও আর্থিক ক্ষতি সাধনে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এব্যাপারে অভিযোগ কারি ফজর আলী বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে রৌমারীতে মৌমাছির দ্বারা মধু সংগ্রহ করে আসছি এবং তা দিয়ে আমাদের বেশ কয়ক জনার সংসার চলে। কিন্তুু ব্যবসায়ীক প্রতিহিংসার বলিতে আমার মৌমাছির খামারে বিষ প্রয়োগে প্রায় সব মৌমাছি মেরে ফেলছে। যারা এই কাজ করছে তাদের বিচার চাই এবং সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগীতা চাই। অভিযুক্ত ফরহাদ আলীর সাথে কথা হলে বিভিন্ন অজু হাত দেখিয়ে পাশ কাটিয়ে যান এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা বলে জানায়। উপজেলা কৃষি সমপ্রসারন কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত পুর্বক দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান জানান, এ বিষয়ে আমি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবো এবং তাদেরকে কোন সহযোগীতার ব্যবস্থা করা যায় কি না বিষয়টি দেখবো।