বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
শ্রীমঙ্গলে বিলাসছড়ার ব্রিজ ভেঙে ৬ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হাটহাজারীতে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু তদন্তে সঠিক হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে-ডা:সোহানিয়া বিল্লাহ স্কুলছাত্রী ফারিয়া হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে লামায় আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল রৌমারীতে ৬৩ জেলার সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ উল্লাপাড়ায় ইউএনও’র হস্তক্ষেপে চেয়ারম্যানের উদ্যোগে রক্ষা পেল কয়েকশ একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতা থেকে পুকুরে কীটনাশক ঢেলে মাছ নিধন, দুই লাখ টাকার ক্ষতি নেত্রকোনায় জেলা বিএনপির দোয়া মাহফিল হাটহাজারীতে যুবলীগের মানববন্ধন ও কালো পতাকা প্রদর্শন

সব ওয়াদা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি: প্রধানমন্ত্রী

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি এতদিন যত ওয়াদা দিয়েছেন গত ১৩ বছরে তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন। গতকাল শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা জানান। টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় বর্ষপূর্তি ও চতুর্ষ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে এ ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য বলেই আমি মনে করি। গত ১৩ বছরে আমরা আপনাদের জন্য কী কী করেছি, তা আপনারাই মূল্যায়ন করবেন। তবে, আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি আমরা যেসব ওয়াদা দিয়েছিলাম, তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমি কয়েকটি বিষয় আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। তার মধ্যে বিদ্যুৎ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। ২০০৯ সালে আমাদের সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কথা আপনাদের মনে আছে। তখন সর্বসাকুল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল ৪২০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে। মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা সে প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করেছি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পটুয়াখালীর পায়রাতে এরই মধ্যে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। রামপাল, পায়রা, বাঁশখালী, মহেষখালী এবং মাতারবাড়িতে আরও মোট ৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে যা ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের অব্যাহত চাহিদা মেটাতে ২০১৮ থেকে তরলিকৃত গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। নববর্ষের শুরুতে আমাদের জন্য সুখবর হচ্ছে:
বঙ্গোপসাগরে যে গ্যাস হাইড্রেটের সন্ধান পাওয়া গেছে তার পরিমাণ ১৭ থেকে ১০৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। সরকারপ্রধান বলেন, আজ খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমানে দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখ মেট্রিক টন। বাংলাদেশ বিশ্বে ধান, সবজি ও পেঁয়াজ উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে উন্নীত হয়েছে। অব্যাহত নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে এ বিপ্লব সাধিত হয়েছে। মাছ-মাংস, ডিম, শাকসবজি উৎপাদনেও বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ মুক্তজলাশয়ে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে এবং ইলিশ উৎপাদনকারী ১১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন মোকাবিলায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের পাশাপাশি দ্রুত টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে আমাদের বিগত ২০২০ এবং ২০২১ সাল অতিক্রম করতে হয়েছে। সেই সংকট এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন করে করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, আমাদের এখনই সাবধান হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যারা টিকা নেননি তাদের দ্রুত টিকা নেওয়ার অনুরোধ জানাই। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে সরকারের হাতে সাড়ে ৯ কোটিরও বেশি ডোজ টিকা মজুত আছে। এখন পূর্ণোদ্যমে কোভিড-১৯ টিকাকরণের কাজ চলছে। চলতি মাস থেকে গণটিকা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিমাসে ১ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকারপ্রধান আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ১২ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ডোজ পেয়েছেন প্রায় ৭ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ আর দুই ডোজ পেয়েছেন ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার। গতমাস থেকে বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। সামনেও জনগণ আ’লীগের ওপর আস্থা রাখবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর: বিগত ১৩ বছর জনগণ আস্থা রাখায় দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এজন্য সামনেও জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর আস্থা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারপ্রধান বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাতৃমৃত্যু- শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস, গড় আয়ু বাড়ানো, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার হার বাড়ানোসহ নানা আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের ওপর আস্থা রাখার ফলে।
পরপর তিনবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আপনারা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছেন। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে আমরা একটি কল্যাণকামী, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশগুলোর কাতারে সামিল হতে পারে। এজন্য অতীতে যেমন আপনারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন, ভবিষ্যতে থাকবেন, এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি। তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান এবং আগামি দিনের সব কার্যক্রমের লক্ষ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত বিনির্মাণ। অফুরন্ত জীবনীশক্তিতে বলীয়ান তরুণ প্রজন্মই পারে সব কূপম-ুকতা এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করে একটি প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে।
যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন। তারুণ্যের শক্তিই পারবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে। আমার দৃঢ়বিশ্বাস আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম এগিয়ে যাবে মাথাউঁচু করে ভবিষ্যতের পানে। ‘করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউ থেকে মহান আল্লাহতায়ালা মানবজাতিকে রক্ষা করুন- এ প্রার্থনা করি’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com