‘‘আমাদের অধিকার, আমাদের সচেতনতা’’ এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকেরা। গতকাল উপজেলা পরিষদ চত্বর গেটের সামনে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে এ দাবি নিয়ে মানববন্ধন করেন তাঁরা। কর্মসূচীতে সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী ১০ম গ্রেডের দাবীতে বক্তারা মূল্যবান যুক্তি তুলে ধরেন। ২০১৯ সালের নিয়োগ বিধিমালায় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাশ করা হয়েছে কিন্তু বেতন গ্রেড উন্নীত করার কথা বলা হয়নি। অথচ এর চেয়ে কম যোগ্যতায় বিভিন্ন দপ্তরে ১০ম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তাগণ এসএসসি পাশের পর চারবছর মেয়াদী ডিপ্লোমা পাশে ১০ম গ্রেড, এইচএসসিসহ ডিপ্লোমাধারী নার্সদের ১০ম গ্রেড, মন্ত্রণালয়ের ড্রাইভার ১২তম গ্রেডে বেতন পায় অথচ প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন দেওয়া হয় যা খুবই লজ্জাজবক। সহকারী শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। কর্মসূচীর শুরু থেকেই প্রধানশিক্ষকবৃন্দ দাবীর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। দাবি তুলে ধরে বক্তব্য দেন, ধোপাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো, ফজলুর রহমান, বানিয়াজান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মো. জামিল বাসার, মো. মুন্নাফ হোসেন প্রমুখ। এ সময় ১২০ শিক্ষক-শিক্ষিকা অংশ নেয়। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ধনবাড়ী উপজেলা শাখার সমন্বয়ক মোঃ আব্বার, শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড প্রাপ্যতার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন একজন সহকারী শিক্ষকের বেতন সর্বসাকূল্যে ১৭৬৫০ টাকা। প্রতিটি শিক্ষক সংসার চালাতে গিয়ে ঋণে জর্জরিত। তাঁরা আরো বলেন, ‘‘ন্যায্যতা ও যোগ্যতার ভিত্তিকে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর সদয় কামনা করি। ১৩ তম গ্রেডের মূল বেতন বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, টিফিন ভাতা দিয়ে সংসার চলে না। ১০ম গ্রেডের আওতায় আমরা পরিবার-পরিজনের ভরন পোষণ করে নির্দ্বিধায় চালিয়ে যেতে পারবো।’’ মানববন্ধনে ধনবাড়ী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষকবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।