শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

বাতাসে দোলছে জারুল ফুল

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় সোমবার, ৯ মে, ২০২২

গ্রীস্মের প্রখর রোদ্দুরে পুষ্পভারে আচ্ছাদিত রাস্তার দুইপাড়ের বৃক্ষরাজি । জাফরুলের গাঢ় বেগুনি রঙের বন্যা বয়ে যাচ্ছে সর্বত্র। গ্রীষ্মের প্রখর উত্তাপের মাঝেও চারদিকে প্রশান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে মায়াবী কুকিলের ডাক। হালকা নিলুয়া বাতাসে সবুজ পাতার ফাঁকে মাথা তুলেছে জাফরুলের বেগুনি পাপড়ি। এমন দৃষ্টিনন্দন রঙের মায়াবী দৃশ্যে চোখ ভরে উঠবে যে কারোরই। সৃষ্টিকর্তার এমন এক সুন্দর দৃশ্য চোখে পড়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। উপজেলার সন্ধানপুন, ধলাপাড়া, দেওপাড়া, গারোবাজার, সাগরদিঘী জোড়দিঘী এলাকায় ঘুরে দেখা মিলে এমন অপরূপ দৃশ্যের। সবুজ প্রকৃতির মাঝে রোদে ঝলমল করছে একেকটি জারুল গাছ। গাছে গাছে সুভা পাচ্ছে বেগুনি রঙের চমৎকার জারুল ফুল। গ্রীষ্মের শুরুতেই এসব গাছে মোহময়তা নিয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিচ্ছে জারুল ফুল। যার বেগুনি রঙের আভা পথিকের চোখে এনে দিচ্ছে শিল্পের দ্যোতনা। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, দেওপাড়ার মলাজানী বাজারের টিক পূর্বপাশে রাস্তার ধারে সবুজ পাতায় আচ্ছাদিত বেগুনি জারুল ফুটিয়ে তুলেছে রহস্যময় প্রকৃতি। রং আর রূপের বাহার ছড়ানো অপরূপ বর্ণিল সাজের এই ফুল সাজিয়েছে সৌন্দর্যের ডালি। জোরদিঘী কলেজের পিছনে এবং সাগরদিঘী ফরেস্ট অফিসের সাথে (রাস্তার পাশে) সুভাষিত হচ্ছে জারুলের ঝুমকোতে। ফুলে ফুলে সৃষ্টি করেছে অপরূপ নান্দনিকতার। যোগ করেছে নতুন সৌন্দর্যের মাত্রা। জারুলকে বলা হয় বাংলার চেরি। গ্রীষ্মে অপূর্ব হয়ে ফোটে এই ফুল। চোখ ভরে যায় তার রূপ দেখে। জারুলের রঙে মুগ্ধ হয়ে কবি আহসান হাবিব তাঁর স্বদেশ কবিতায় লিখেছে “মনের মধ্যে যখন খুশি এই ছবিটি আঁকি, এক পাশে তার জারুল গাছে দুটি হলুদ পাখি। প্রয়াত সঙ্গীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোর তার গানে বলেছেন ‘ওগো বিদেশিনী, তোমার চেরি ফুল দাও, আমার শিউলি নাও, এসো দুজনে প্রেমে হই ঋণী।থ সেই গান শুনে হয়তো কোন এক কাল্পনিক বিদেশিনীকে শিউলি ফুল দেওয়ার জন্য কত খুঁজেছে, কিন্তু পায়নি। যেমনটি পায়নি চেরি ফুলের দেখাও। উদ্ভীদ বিজ্ঞানীরা বলছেন, জারুলের আদি নিবাস শ্রীলঙ্কায় হলেও এটি ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব বৃক্ষ। বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও চীন, মালয়েশিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে জারুলগাছের দেখা মেলে। জারুল ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম লেজারস্ট্রমিয়া স্পেসিওসা। জারুলগাছ সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। গ্রীষ্মের শুরুতেই এর ফুল ফোটে এবং শরৎ পর্যন্ত দেখা যায়। ফুল শেষে গাছে বীজ হয়। বীজ দেখতে গোলাকার। জারুল বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। বাংলাদেশে সাধারণত নীলাভ ও গোলাপি এই দুই রঙের জারুল ফুল দেখা যায়। জারুলগাছের বীজ, ছাল ও পাতা ডায়াবেটিস রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ছাড়া জ্বর, অনিদ্রা, কাশি ও অজীর্ণতার চিকিৎসায়ও জারুল যথার্থ উপকারী। জারুল ফুলের এমন মনকাড়া সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে টাঙ্গাইলের করোটিয়া সাদাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান আলিম মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশে সব ঋতুতেই কোনো না কোনো ফুল ফোটে। এসব ফুলের রঙ, গন্ধ আলাদা। তবে গ্রীষ্মের ফুলের মধ্যে জারুল অন্যতম। এর নজরকাড়া বেগুনি রঙ সকলকে বিমোহিত করে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com