বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
সিলেটে আবার বাড়ছে পানি জামালপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা জগন্নাথপুরে অসহায় মানুষের সেবায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন ওসি মিজান দুর্গাপুরে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীকে প্রেসক্লাব সম্মাননা সাভারে শিক্ষক হত্যা ও নির্যতনের প্রতিবাদে মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ রুয়েটে রোবটিক্স ফেয়ার “রোবোট্রনিক ২.০” শুরু গলাচিপায় ব্র্যাক সংস্থা সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা বিষয়ে পল্লী সমাজ গঠন নগরকান্দায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমিনুর রহমানকে সংবর্ধনা জামালপুরে হিজড়াদের উন্নয়নে কমিউনিটি পর্যায়ে অভিভাবক সভা বরিশাল পোর্টরোড মোকামে নিষেধাজ্ঞা সত্বেও ট্রাকে ট্রাকে আসছে ইলিশ

পি কে হালদার গ্রেফতার

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৪ মে, ২০২২

বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে দেশ থেকে চলে যাওয়া প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোকনগরে সুকুমার মৃধা নামের পি কে হালদারের এক ঘণিষ্ঠ ব্যক্তির তিন বাড়িতে অভিযান চালায় ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই সংস্থা আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্ত করে থাকে।
ভারতের অর্থসংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থা (ইডি) শনিবার এক অভিযানে নআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা লোপাট মামলার পলাতক আসামি পি কে হালদারকে গ্রেফতার করে। সবমিলে পি কে হালদারসহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে ইডি। এ প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) গ্রেফতার করেছে । শনিবার (১৪ মে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইডি। এদের মধ্যে ছিলেন ভাগনে প্রাণেশ হালদার। এর আগে পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আত্মীয়স্বজনের নামে আরও বেশ কয়েকটি বাড়ির সন্ধান পায় ইডি। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে পলাতক পি কে হালদারের এবার দেশের পর দেশের বাইরের অভিযানে একের পর এক বেরিয়ে আসছে অর্থ পাচারের থলের বিড়াল। খোঁজ মেলে বিপুল পরিমাণ সম্পদের।
জানা গেছে, পি কে হালদারের পাচার করা অর্থে ভারতে কেনা বিভিন্ন সম্পত্তি দেখভালে থাকা যে কয়েকজনের নাম ইডির তদন্তে আসছে, তাদের মধ্যে আছেন সুকুমার মৃধা, তার মেয়েজামাই সঞ্জীব হাওলাদার, পি কে হালদারের আত্মীয় প্রণব কুমার হালদার ও স্বপন মিত্র। এদের মধ্যে সুকুমার মৃধা ছিলেন বাংলাদেশে পি কে হালদারের ব্যক্তিগত আইনজীবী এবং তার অর্থ দেখভাল করতেন। সুকুমার মৃধা উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগরে মাছ ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত হলেও সেখানে সুকুমারের বেশ কিছু মাছের ভেড়ি রয়েছে। তবে সুকুমার সেখানে নিজেকে পি কে হালদারের ক্লায়েন্ট হিসেবে পরিচয় দিতেন। সুকুমারের মেয়ে অনিন্দিতা মৃধার স্বামী সঞ্জীব হাওলাদার। তিনিও বাংলাদেশি নাগরিক।
পি কে হালদারের ভাই এনআরবি-কা-ে অন্যতম অভিযুক্ত প্রীতিশ হালদার অশোকনগরে তার নামে একটি বিলাসবহুল বাগানবাড়ি কেনেন। দুই বছর আগে বাড়িটি সুকুমারের নামে আরেক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেন প্রীতিশ। ওই বাড়িতেই থাকতেন সুকুমারের মেয়েজামাই সঞ্জীব। শুক্রবার ওই বাড়িতে অভিযানের সময় ইডি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। অশোকনগরে পি কে হালদার চক্রের আরেক সহযোগী স্বপন মিত্রের বাড়ি থেকে অর্থ পাচারসংক্রান্ত একাধিক নথিও জব্দ করেন তারা। পরে দীর্ঘ জেরার পর তাকে আটক করে ইডি।
শিবশঙ্কর হালদার নামে কলকাতায় ঘাঁটি গেঁড়েছেন পিকে হালদার: এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক কেলেঙ্কারির মূল হোতা প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারের সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে ভারতের অর্থ গোয়েন্দা সংস্থা ইডি। গতকাল শুক্রবার (১৩ মে) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে পিকে হালদার সংশ্লিষ্ট ১০টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে সংস্থাটি। পরে সংস্থার পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিক প্রশান্ত কুমার হালদার, প্রীতিশ কুমার হালদার, প্রাণেশ কুমার হালদার এবং তাঁদের সহযোগীদের সম্পদের খোঁজে বেশ কয়েকটি স্থানে ইডি অভিযান চালিয়েছে।
প্রশান্ত কুমার হালদার এখানে শিবশঙ্কর হালদার নাম ধারণ করে অবস্থান করেন। নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন। এই ভুয়া পরিচয়ে তিনি ভারতে সরকারি পরিচয়পত্র যেমন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রেশন কার্ড, ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড, পিএএন এবং আধার কার্ডের মালিক হয়েছেন। একইভাবে প্রশান্ত কুমার হালদারের সহযোগীরাও এ ধরনের সরকারি কার্ড সংগ্রহ করেছেন। ইডি অনুসন্ধানে আরও জানতে পেরেছে, এই বাংলাদেশি নাগরিকেরা ভারতে জালিয়াতির মাধ্যমে সংগৃহীত বিভিন্ন সরকারি পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাধিক কোম্পানি খুলেছেন। পাশাপাশি কলকাতা মহানগরীর অভিজাত এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থাবর সম্পত্তি কিনেছেন। প্রশান্ত কুমার হালদার এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশে কোটি কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত। তাঁরা বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ভারতের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন বলেও উল্লেখ করেছে ইডি। এ পর্যন্ত ১০টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে ইডি। এ ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত চলমান।
পিকে হালদারের বিপুল সম্পত্তির সন্ধান মিললো ভারতে: বহুল আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক এমডি পিকে হালদার (প্রশান্ত কুমার হালদার) ও তার সহযোগী সুকুমার মৃধার পাচারকৃত অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে ভারতের কলকাতাসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে। গত শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ৯টি জায়গায় একযোগে হানা দিয়েছে ভারতের অর্থ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)। পিকে হালদার ও সহযোগীর বিরুদ্ধে হাওলার মাধ্যমে অবৈধ টাকা ভারতে আনা এবং পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় সম্পত্তি কেনার অভিযোগ রয়েছে। কলকাতা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত পিকে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা। তবে নিজেকে পিকে হালদারের সহযোগী নয়, ক্লায়েন্ট বলে পরিচয় দিতেন সুকুমার। কিন্তু আর্থিক দুর্নীতির খোঁজে তল্লাশি চালাতে গিয়ে উঠে আসে প্রকৃত রহস্য। পিকে হালদার এবং সুকুমার মৃধা প্রকৃতপক্ষে অশোকনগরের দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী। ইডি ধারণা করছে, এই দুজনের দীর্ঘদিনের যোগসাজশেই এনআরবির এই বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। ভারতী পল্লী এলাকার পাশেই নবজীবন পল্লীতে বিলাসবহুল বাগানবাড়ি রয়েছে প্রশান্ত কুমার হালদারের আত্মীয় প্রণব কুমার হালদারের। ঠিক তার পাশেই আরেক বিলাসবহুল বাগান বাড়ি সুকুমার মৃধার। মাছ ব্যবসায়ী পরিচয় সুকুমার মৃধা এলাকায় পরিচিত হলেও তার আর্থিক সঙ্গতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর তদন্তে জানা যায়, এই এলাকাতেই একাধিক সম্পত্তি ক্রয় করেছে হালদার-মৃধা জুটি। এদিন শুধু অশোকনগরেই ৩ বাড়িতে একযোগে তল্লাশি শুরু করে ইডি। যার একটিতে এতদিন একাই থাকতেন সুকুমার মৃধার জামাই। সুকুমার মৃধার জামাই সঞ্জীব হাওলাদার জানায়, প্রায় দুই বছর আগে শেষবার সুকুমার মৃধা অশোকনগরের এই বাড়িতে এসেছিলেন। সুকুমার মৃধার সঙ্গে শ্বশুড়-জামাইয়ের সম্পর্ক এড়িয়ে গিয়ে সঞ্জীব জানান, তিনিও বাংলাদেশ আর্থিক কেলেকাঙ্কারির ঘটনা শুনেছেন। তবে স্পষ্টভাবে তিনি কিছু জানেন না। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সঞ্জীব হাওলাদার নিজেও বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি সুকুমার যে বাড়িতে থাকছিলেন সেটি মূলত পিকে হালদারের ভাই এনআরবি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত প্রীতিশ সুকুমার হালদারের। স্থানীয়দের কাছে তিনি প্রাণেশ হালদার নামে পরিচিত ছিলেন। তিন থেকে চার বছর আগে প্রীতিশ কুমার হালদার তার বাড়িটি সুকুমার মৃধার নামে হস্তান্তর করেন। সুকুমার এবং মৃধার বাড়ি ছাড়াও তাদের আরেক সহযোগী স্বপন মিত্রের বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি। অশোকনগরের একই এলাকার বাসিন্দা স্বপন মিত্র পিকে হালদারের হাওলার টাকা পাচারের কাজে অন্যতম অভিযুক্ত। এদিন তার বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে একাধিক নথি পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আটক করে ইডি।
অশোকনগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন এলাকা, কলকাতা সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অভিজাত এলাকায় একাধিক বাড়ি ও অফিস রয়েছে। এদিন সেখানেও তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট। এখন পর্যন্ত অশোকনগরের একটি বিলাসবহুল বাড়িতে সুকুমার মৃধার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধার স্বামীর হদিস মেলে। তাকে জেরা করছে ইডি। অন্যদিকে পিকে হালদারের আত্মীয় প্রণব কুমার হালদার ও তার দুই ছেলে মিঠুন হালদার ও বিশ্বজিৎ হালদারকেও জেরা শুরু করেছে ইডি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রণব কুমার হালদার ছিলেন সরকারি কর্মচারী। তার বড় ছেলে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ও ছোট ছেলে মিঠুন হালদার বিএসএফ জওয়ান হিসেবে কর্মরত। আয় ও তাদের সম্পত্তি সঙ্গতিহীন হওয়ায় তারাও ইডির নজরে রয়েছেন। তাদের চারবিঘা জমির উপর বিলাসবহুল বাড়িটি এলাকায় বারবার প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের পাচারকৃত টাকা হাওলার মাধ্যমে তাদের মাধ্যমে ভারতে ঢুকেছে বলে অনুমান ইডির। সূত্রের খবর, কলকাতা ছাড়াও দিল্লী, মুম্বাই ও ভারতের বেশ কয়েকটি শহরে হালদার-মৃধা জুটির বিনিয়োগ রয়েছে বলে অনুমান করছে ইডি। আপাতত প্রণব হালদার ও সুকুমার মৃধার জামাইকে জেরা করে সেই সম্পত্তির হদিস খুঁজছে ইডি।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com