ধীরে ধীরে জমে উঠছে রাজধানীর পশুর হাটগুলো। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে হাটে বাড়ছে গরু আর ব্যাপারীদের চাপ। গতকাল রোববার (৩ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে রাজধানীর আফতাবনগর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ঘিরে দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাটে পশু আসছে। বাঁশের খুঁটি পুঁতে ছামিয়ানা টানিয়ে সারিবদ্ধভাবে পশু রাখছেন ব্যাপারীরা। স্থানীয়রা হাটে গিয়ে ঘুরে কোরবানির পশু দেখছেন। তবে পশুর হাটে বেচাকেনার ধুম পড়েনি এখনো। আগামী ১০ জুলাই সারাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপন হবে। ঈদ ঘিরে আফতাবনগরে পশুর হাট ইজারা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আফতাবনগর ঢাকার অন্যতম বড় হাট। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ হাটে কোরবানির পশু নিয়ে আসেন ব্যাপারীরা। এখানে ক্রেতাদেরও ভিড় থাকে উপচেপড়া। অন্য বছরগুলোর মতো এবারও ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে হাটের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ঈদের সপ্তাহখানেক বাকি থাকতেই হাটে এসে গেছে হাজার তিনেকের মতো কোরবানির পশু। পাবনার বনগ্রাম থেকে ১০টি উন্নত জাতের গরু নিয়ে শনিবার (২ জুলাই) আফতাবনগর হাটে এসেছেন স্বপন আলী ও জসীম সরকার।গতকাল রোববার (৩ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটের জহুরুল হক এভিনিউতে তাদের গরুগুলো সারিবদ্ধভাবে গাছ ও বাঁশের সঙ্গে বাঁধা। এর মধ্যে শাহীওয়াল জাতের গরু ছয়টি এবং ক্রস জাতের চারটি। লাল রঙের শাহীওয়াল জাতের বড় গরুটি প্রস্থে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট। ওজন ১৬ মণের মতো। ক্রস জাতের কালো রঙের বড় গরুটি প্রস্থে সাড়ে পাঁচ ফুটেরও বেশি। এটির ওজন হবে প্রায় ১৮ মণ।
স্বপন আলী বলেন, ১৬ মণ ওজনের শাহীওয়াল গরুটি ছয় লাখ টাকা দাম নির্ধারণ করেছি। এ দামে হলে বিক্রি করবো। ১৮ মণ ওজনের গরুটির দাম চাচ্ছি সাড়ে ছয় লাখ টাকা। তিনি বলেন, এসব জাতের গরু বাছুর থাকা অবস্থায়ই কেনা হয়। একেকটি বাছুরের ওজন হয় তিন থেকে চার মণ। দুই থেকে আড়াই লাখ টাকায় কিনতে হয়। প্রতিটি গরুর পেছনে মাসিক খরচ গড়ে ২০ হাজার টাকা। খরচ অনুযায়ী বিক্রির দাম নির্ধারণ করা হয়। এবারের ঈদে কোরবানির পশু বেচাকেনা কেমন হতে পারে, জানতে চাইলে আরেক ব্যাপারী জসীম সরকার বলেন, বন্যার পানিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ ডুবে রয়েছে। ওইসব এলাকা থেকে ব্যাপারীরা অনেক কম দামে গরু কিনে আনছেন। ফলে হাটে কিছুটা কম দামে বিক্রি করলেও তাদের লাভ থাকবে। এতে খামারিদের লোকসানে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে খামারের সব গরু ঢাকায় আনা হয়নি, দাম বুঝে সিদ্ধান্ত নেবো।
গতকাল রোববার (৩ জুলাই) সকালে পাবনা থেকে ছোট ও মাঝারি আকারের ১৩টি গরু নিয়ে আফতাবনগর হাটে এসেছেন আহম্মেদ আলী ব্যাপারী। দেশি জাতের এ গরুগুলো নিজের বাড়িতে খামারেই লালনপালন করা বলে দাবি তার। তিনি বলেন, প্রতিবছর কোরবানির হাটে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি থাকে। দামও ভালো পাওয়া যায়। আশাকরি এবারও ভালো ব্যবসা হবে। আফতাবনগরের ‘বি’ ব্লকে বাঁশের খুঁটিতে ছামিয়ানা টানিয়ে ৯টি গরু নিয়ে বসে আছেন মেহেরপুরের ব্যাপারী শরীফুল ইসলামসহ সাতজনের একটি দল। তারা প্রত্যেকেই একটি-দুটি করে গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। এর মধ্যে শরীফুলের গরুটির ওজন প্রায় ১৫ মণ। গরুটির দাম হাঁকানো হচ্ছে সাড়ে সাত লাখ টাকা। এই ব্যাপারী জানান, তার খামারের গাভি থেকেই গরুটির জন্ম। গরুটির বয়স দুই বছর ১০ মাস। আদর করে নাম রেখেছেন ‘যুবরাজ’। গ্রামে যুবরাজের দাম উঠেছিল চার লাখ টাকা। কিন্তু এ দামে বেচলে লোকসান হবে। এজন্যই কিছুটা লাভের আশায় গরুটি ঢাকার হাটে নিয়ে এসেছেন তিনি। রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর বাসিন্দা আরমান আলী। দুপুর ২টার দিকে হাটে ঘুরে বিভিন্ন জাতের গরু দেখছিলেন তিনি। বলেন, অনেকের কাছে শুনেছি, আফতাবনগর হাটে গরু উঠেছে। তাই দেখতে এলাম। এখন দাম অনেক বেশি চাচ্ছে। ঈদের দু-একদিন আগে দাম কমলে কিনবো। সম্প্রতি এক কোটি ৪৮ লাখ টাকায় আফতাবনগর হাট ইজারা নেন মিজানুর রহমান ধনু। তিনি বলেন, গত দু-তিন ধরেই হাটে কোরবানির পশু আসা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে আড়াই থেকে তিন হাজার পশু হাটে এসেছে। আগামীকাল সোমবার থেকে হাট আরও জমজমাট হবে।