শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

শ্রীমঙ্গলে ছড়ার ওপর স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি ১০০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো

এহসান বিন মুজাহির শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) :
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০২২

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট চা বাগানের ধোবিঘাট এলাকায় ছড়ার ওপর নির্মিত হয়েছে প্রায় ১০০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো। সরেজমিন আব দুপুরে কালিঘাট চা বাগানে দেখা যায়, বাঁশ, কাঠ, গাছের গুঁড়ি, রশি, মোটা তার দিয়ে ছড়ার ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি প্রায় ১০০ ফুট লম্বা। সাঁকোটি দেখতে বেশ চমৎকার। এটাকে সবার কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন রং ব্যবহার করে নানাভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সাঁকোটির ঠিক মাঝখানে বসানো হয়েছে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা। বাতাসে পতপত করে উড়ছে পতাকাটি। স্কুল টিফিনের সময় বাড়িতে যাওয়া একদল ছোট শিক্ষার্থীকে বাঁশের সাঁকো দিয়ে খুশিমনে ছড়া পার হতে দেখা যায়। কালিঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দ্বীপ বুনার্জি বলেন, সাঁকো হহওয়ার আগে স্কুলের পোশাক পরে ছড়ার পাশে এসে জুতা খুলে ও প্যান্ট ভাঁজ করে কোনোরকমে ছড়া পার হতাম, অনেক সময় প্যান্টের অনেক অংশ ভিজেও যেতো। বৃষ্টির সময় এ ছড়ায় অনেক পানি থাকে। আমাদের তখন প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার ঘুরে স্কুলে যেতে হতো। হেঁটে যাওয়ার কারণে দেরি হতো। বৃষ্টির দিনে টিফিনের সময় আর বাড়ি যেতাম না। এখন বাঁশের সাঁকো হওয়ার পর বেশ আনন্দ হচ্ছে। ছড়ার পাশে এসে জুতা খুলতে হচ্ছে না। এক দৌড়ে ছড়া পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছি এলাকাবাসী জানান-শিশু এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে পারাপারসহ স্থানীয়দের ভোগান্তি দূর করার জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে এ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছে আলোর দিশারী নামের একটি সামাজিক সংগঠন। এ সংগঠনের সভাপতি পরিতোষ কুমার তাঁতী বলেন, ‘আমরা প্রায় ২০ বছর ধরে শুনে আসছি, এখানে ছড়ার ওপর সেতু হবে। মূল সড়কের সঙ্গে সংযোগ সড়ক হবে। কিন্তু এত বছরেও কিছুই হয়নি। ছড়ার একদিকে কালিঘাট চা–বাগানের মূল অংশ, বাজার, উপাসনালয়। আরেক পাশে স্কুল ও মানুষের বসতি, বড় রাস্তা, পোস্ট অফিস ইত্যাদি। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে, শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে ছড়ার ওপর দিয়ে যায়। আমরা লক্ষ করেছি, এখানে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিশুদের। শিশুরা স্কুলে যাওয়ার সময় ছড়ার পানিতে নেমে অনেক কষ্ট করে ছড়া পার হয়। ছড়ায় পানি বাড়লে সেটা সম্ভব হয় না। অনেকটা পথ ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। এসব বিষয় দেখতে দেখতে আমাদের সংগঠন থেকে একটি উদ্যোগ নিলাম, এখানে একটি বাঁশের সাঁকো করার। আমাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে চা বাগানের সবাই এগিয়ে এলেন। কেউ নিজের বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে আমাদের দিচ্ছে, কেউ কাঠ দিচ্ছে, কেউ কেউ টাকা দিচ্ছে। এভাবে আমরা ৩ জুলাই থেকে কাজ শুরু করে প্রায় দুই সপ্তাহের ভেতর একটি সাঁকো নির্মাণ করে ফেলেছি। সাঁকোটি স্থানীয় ব্যক্তিদের সাময়িক ভোগান্তি দূর করলেও কালিঘাট চা বাগানের ধোবিঘাট এলাকার বাসিন্দারা সরকারিভাবে এখানে একটি পাকা সেতুর দাবি জানিয়েছেন।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com