শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০, ১১:৪১ অপরাহ্ন




রিজেন্ট সাহেদের পাসপোর্ট জব্দ

খবরপত্র নিউজ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০
  • ৫১ বার পঠিত



করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা ও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার নামে প্রতারণা করা রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদের পাসপোর্ট জব্দ করেছে তদন্তকারী দল। হদিস মিলেছে তার বিরুদ্ধে আরও ২৩ মামলার। সর্বমোট ৫৬টি মামলার আসামি প্রতারক সাহেদ।

রিজেন্ট হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযানের পর গ্রেফতারদের মধ্যে রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (১১ জুলাই) হাসপাতালটিতে ও রিজেন্ট কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে তদন্তকারী দল। অভিযানকালে গুরুত্বপূর্ণ আলামতসহ পাসপোর্ট জব্দ করে তারা।

তদন্তকারী দলের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সাহেদ দেশত্যাগ করতে পারে, এমন শঙ্কা ছিল। রিমান্ডে থাকা আসামিদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আজ আবারও অভিযান পরিচালনা করা হয় রিজেন্ট হাসপাতালে। সেখান থেকে সাহেদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এখন অন্তত সাহেদ কোনো এয়ারপোর্ট বা বন্দর হয়ে দেশত্যাগ করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘অভিযানকালে আমরা রিজেন্ট কার্যালয়ের রান্নাঘর থেকে কম্পিউটারের তিনটি হার্ডডিস্ক জব্দ করেছি। এর মধ্যে সাহেদের ল্যাপটপের হার্ডডিস্কও রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধরা পড়ার শঙ্কায় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি গায়েব করার উদ্দেশে হার্ডডিস্কগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। আমরা হার্ডডিস্ক বিশ্লেষণ করব, ফাইল ডিলিট করা হলে সেগুলো উদ্ধার করে খতিয়ে দেখা হবে।’

তদন্তকারী এ দলের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক অভিযান পরিচালনাকারী র‍্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। তিনি সিলগালা করা কার্যালয় খুলে দেন।

আজকের অভিযান শেষে তিনি বলেন, ‘আগে আমরা জানতাম, সাহেদের নামে ৩২ মামলা রয়েছে। অভিযানের পর তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে এরপর নানা দিক থেকে তথ্য ও অভিযোগ আসতে থাকে। ভুক্তভোগীরা র‍্যাব ও থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সর্বশেষ আমরা আরও ২৩টি মামলার হদিস পেয়েছি। সবমিলিয়ে, সাহেদের বিরুদ্ধে ৫৬টি মামলা রয়েছে। এর অধিকাংশ মামলাই প্রতারণা ও ব্যবসায়িক জালিয়াতি সংক্রান্ত।’

নানা অনিয়ম, প্রতারণা, সরকারের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ ও করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও গ্রেফতার হয়নি চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. শাহেদ। র‍্যাবের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পুলিশের পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশন বিভাগকে এ সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হয়। সাহেদ যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, সেজন্য সম্ভাব্য সকল বিমানবন্দর, স্থল ও নৌবন্দরে সতর্কাবস্থায় রয়েছে পুলিশ ও র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায়ও সতর্ক রয়েছে বিজিবি।

র‍্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের নবনিযুক্ত পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা সাহেদকে গ্রেফতারে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। র‍্যাব তার (সাহেদ) স্ত্রী রিমিসহ ঘনিষ্ঠ সকলের ওপর নজর রাখছে।’

এমআইপি/প্রিন্স




নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..









© All rights reserved © 2018 Daily Khoborpatra
Theme Developed BY ThemesBazar.Com