বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসার পাঁচ বছর : কবে ফিরে তারা নিজ দেশে ? 

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২

আজ ‘রোহিঙ্গা নির্যাতন দিবস’ 

বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন ফিকে হয়ে আসছে। এ নিয়ে দ্বিপক্ষীয় ও বৈশ্বিক আলোচনাও স্তিমিত হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পাঁচ বছর পূর্তি হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সর্বশেষ মিয়ানমার থেকে বাস্তুহারা রোহিঙ্গা ঢল নামে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত দিয়ে। সেই সময় আট লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে। এর পরের চার বছরে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিয়েছে। এই হিসাবে ৪ বছরে রোহিঙ্গার সংখ্যা বেড়ে ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও নানা জটিলতায় তা সম্ভব হচ্ছে না। সবমিলিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দরজা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই মনে করছেন, তারা বাংলাদেশের ওপর চিরস্থায়ীভাবে থেকে যাচ্ছেন। ওখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে।
এরকম পরিস্থিতিতে আজ ২৫ আগস্ট পালিত হবে ‘রোহিঙ্গা নির্যাতন দিবস’। রোহিঙ্গারা দিনটিকে এ নামেই পালন করে আসছেন। গত সোমবার চার দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত নোয়েলিন হেইজার। এদিন দুপুরে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অণু বিভাগের মহাপরিচালক মিয়া মো. মাইনুল কবির।
কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মহল যেভাবে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে; সেভাবে মিয়ানমারকে তাদের দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে দেশটির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারছে না। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো রোহিঙ্গাদের তাদেও দেশে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনায় রাজি করাতে পারেনি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দুই দেশের মধ্যে কমিটি গঠন এবং কয়েক দফা বৈঠক হলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হয়নি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো আশা সহসা দেখা যাচ্ছে না। চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ভারতের ভূমিকার ওপর নির্ভর করছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। তারা বলেন, মিয়ানমারের ওপর চীন এবং ভারতের প্রত্যক্ষ স্বার্থসংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দুই দেশই মিয়ানমারে বিনিয়োগ করছে। তাদের সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। এর মধ্যে চীনের প্রভাব বেশি রয়েছে। ফলে চীন যদি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কূটনৈতিক জটিলতা না করে আন্তরিক হয় তাহলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে। আবার ভারতকেও দরকার। কারণ চীনের তুলনায় অনেক কম হলেও ভারতেরও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ভারতের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্ত এবং নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে। আবার ভারত মিয়ানমারে একটা ছোট পোর্ট ও রাস্তা করছে। ফলে ভারতের সমর্থনও জরুরি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া একেবারেই থেমে আছে। এর জন্য আমাদের চীন, ভারত এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সহসা জট খুলবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে সরকার ও সরকারপ্রধান গত চার বছর ধরে এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু মিয়ানমার সরকার কোনোভাবেই আন্তরিক নয়।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, চীন-মিয়ানমার সম্পর্কের ঐতিহাসিক রসায়ন ঢাকার নীতিনির্ধারকদের জানা। সেই হিসাব থেকেই হয়তো তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আবারো বেইজিংয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন। গত ৭ আগস্ট চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের পুরনো ওই প্রত্যাশার কথা আবারো স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এটা কোনো ফল দিচ্ছে না। বরং কক্সবাজার থেকে ভাসানচর পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের মধ্যে দেশে ফেরার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসে মোটাদাগে চিড় ধরেছে। তাদের মনোবল ফেরানোর মতো কোনো রোডম্যাপ ঢাকার হাতে আছে কিনা, সে বিষয়েও গভীর সন্দেহ আছে দেশে-বিদেশে।
জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট গত ১৬ আগস্ট রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে বিবৃতিতে বলেছেন, মিয়ানমারে তাদের গ্রামে ও বাড়িতে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে পারবে। তবে পরিস্থিতি অনুকূল হলেই তা সম্ভব হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সীমান্তের বিদ্যমান অবস্থা প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুকূল নয়। প্রত্যাবাসন সর্বদাই স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পাদিত হতে হবে এবং মিয়ানমারে নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকলেই কেবল তা সম্ভব।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি মিয়ানমারের সঙ্গে একটি চুক্তি করে বাংলাদেশ। চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিন ৩০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার। অর্থাৎ সপ্তাহে ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা ফেরত যাবে। এর পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে প্রত্যাবাসন শুরু করতে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ (জেডব্লিউজি) গঠন করা হয়। জেডব্লিউজির চারটি বৈঠক হয়।
সাবেক কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, রোহিঙ্গা ঢলের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জোট, পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশ, মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনেকটা আড়ালে রেখেই প্রত্যাবাসনের চেষ্টা হয়েছে। আবার চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তারিখ ঠিক করেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com