সিরাজগঞ্জে এবার আওয়ামীলীগের আঞ্চলিক অফিস উচ্ছেদ করে আশ্রয়ন প্রকল্প নিমার্ণের উদ্যেগ নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। ইতোমধ্যে সেখানে একটি “ভূমিহীন ও গৃহহীনদের গৃহ প্রদান” এর জন্য প্রস্তাবকৃত সাইবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ইউনিয়নের সোনতলা গ্রামের নদীর ধারে সলপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও সোনতলা বহুমুখী শ্রমিক সমবায় সমিতির একটা ঘর নির্মিত আছে। ১৯৮৫ ইং সালে বাংলাদেশের প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তোসারক হোসেন খান মনি এই উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর এখানে সরকারি অনুদানে টিনের একটি ঘর নির¥ান করে দিয়েছিলেন। পরর্বতীতে ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান এর উদ্যোগে পাঁচ লক্ষ টাকা এলজিএসপি’র অনুদানে ঘড়টির পাঁকা দেওয়াল নির্মান করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এই অফিস ঘরে অনেক নামি-দামি গুনিজনদের পদধূলি পরেছে। যাদের মধ্যে উন্নতম হলো প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা প্রয়াত এইচ টি ইমাম, সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনের বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম, সাবেক জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা, বর্তমান জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদসহ স্থানীয় প্রশাসন ও আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মিরা। বহু স্মৃতি বিজরিত অফিসে হঠাৎ করে বর্তমান উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: উজ্জল হোসেন এসিল্যান্ডকে সঙ্গে নিয়ে ঘরটি উচ্ছেদ করার জন্যে বলে গেছেন। রিতিমতো সেখানে একটি “ভূমিহীন ও গৃহহীনদের গৃহ প্রদান” এর জন্য প্রস্তাবকৃত সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে দিয়েছেন। সাইবোর্ড লাগানোর পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমানে এখানে সলপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ তাদের দলীয় কার্যক্রম ও সোনতলা বহুমুখী শ্রমিক সমবায় সমিতির কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ধরনের সেবামুলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখান থেকে দীর্ঘদিন যাবত এলাকার মানুষ বিভিন্ন ধরনের সেবা নিয়ে আসছেন। উক্ত এলাকার নেতৃবৃন্দ ও জনগণ দু:খ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ এলাকাতে আরও খাসজমি আছে। সেখানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ইচ্ছে করে শান্তিপুর্র্ন পরিবেশ নষ্ট করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ব্যাপারে সলপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শওকাত ওসমান বলেন, বর্তমান ইউএনও স্যার এসিল্যান্ড ম্যাডামকে সঙ্গে নিয়ে ঘরটি উচ্ছেদ করার জন্যে বলে গেলেন। কারণ একটাই আমি লোকজনকে সাথে নিয়ে সেবক হিসেবে কাজ করি। আর এর নাম রাজনীতি!!! এ সময় তিনি অফিসটি উচ্ছেদ না করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই এলাকায় শত শত বিঘা খাস জমি আছে। তাছাড়া নদী শাসনের ফলেও অনেক খাস জায়গা বের হচ্ছে। সেখানে উক্ত আশ্রয়ন প্রকল্প তৈরি করলে ভাল হয়। স্মৃতি বিজরিত এই ঘরে আমরা নানা রকম জনকল্যাণ কাজের জন্য ব্যাবহার করে আসছি। এই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের কোন দলীয় অফিস নেই এখানেই আমরা দলীয় কর্মকান্ডও পরিচালনা করছি। এ বিষয়ে কথা বলতে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল হোসেনকে ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।