জনসাধারণের টাকার প্রাপ্যতা, বৈধতা নিশ্চিত করতে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের (সিএজি)’র যেকোনো প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ, কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর-আয়কর সংক্রান্ত নিরীক্ষা চালানোর ক্ষমতা আছে। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ২০ অধ্যায়েরে ১৬৩(৩)(ছ) এর বিধানে সিএজিকে এ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল করে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতি আপিল বেঞ্চর দেওয়া রায়ে এ পর্যপবেক্ষণ এসেছে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে অর্থ মন্ত্রণালয়ের লিভটু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) নিষ্পত্তি করে গত ৪ জানুয়ারি এ রায় দেন সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর লেখা ১২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর বনাম সিঙ্গার বাংলাদেশ ও অন্যান্য’ মামলার রায়ে আরো বলা হয়েছে, সংবিধানের ১২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজস্ব বিভাগের হিসাব পরিদর্শন করার ক্ষমতা হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের নিরীক্ষা বিভাগের রয়েছে। শুধু তাই না, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্য্লায় কর-আয়কর সংক্রান্ত নিরীক্ষা চালাতে যেকোনো কর্মকর্তাকে নির্দেশ অথবা অনুমতি দিতে পারে। রাজস্ব বিভাগের হিসাব পরিদর্শন বা নিরীক্ষার জন্যই নিরীক্ষা বিভাগ করা হয়েছে। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের নিরীক্ষা চ্যালেঞ্জ করে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আহমেদের পক্ষে করা রিট আবেদনে ২০১৬ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট রায় দেন। সে রায়ে বলা হয়, আয়কর সংক্রান্ত বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা মূল্যায়নের এখতিয়ার হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের নেই। যদি সে এখতিয়ার দেওয়া হয় তবে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ১২০ ও ১২১(ক) এর বিধান সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হবে বলে উল্লেখ করা হয় উচ্চ আদালতের রায়ে।
সর্বোচ্চ আদালত এ রায়টি বাতিল করে পর্যভবেক্ষণে বলেছেন, উচ্চ আদালত ভ্রান্ত ধারণার ওপর ভিত্তি করে এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। যদি হিসাব নিরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নিরীক্ষাই অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। আর তাতে সংবিধানের ১২৮ অনুচ্ছেদের বিধানের কোনো মানে থাকবে না।
সংবিধানের ১২৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘মহা হিসাব-নিরীক্ষক প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব এবং সকল আদালত, সরকারি কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীর সরকারি হিসাব নিরীক্ষা করিবেন ও অনুরূপ হিসাব সম্পর্কে রিপোর্টদান করিবেন এবং সেই উদ্দেশ্যে তিনি কিংবা সেই প্রয়োজনে তাঁহার দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত যেকোনো ব্যক্তির দখলভুক্ত সকল নথি, বহি, রসিদ, দলিল, নগদ অর্থ, স্ট্যাম্প, জামিন, ভা-ার বা অন্য প্রকার সরকারি সম্পত্তি পরীক্ষার অধিকারী হইবেন। ’