চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ফসলি জমির মাটি গিলে খাচ্ছে ইট ভাটা ও বাড়ি নির্মাণে। অসহায় কৃষকদের আর্থিক সংকটের সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী মহলের কতিপয় লোকজন এ মাটির ব্যবসা করে যাচ্ছে । এ বিষয়ে সংবাদকর্মী ও এলাকার সুধীমহলের টনক নড়লেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের টনক নড়েনি। এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসন জেনেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকার সুধী মহলের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন। এখানে ৩ ফসলি জমি থেকে জমির উপরিভাগের ৩ ফুট মাটি “টপ সয়েল” চলে যাচ্ছে ইট ভাটা ও বাড়ি নির্মাণে। নানা কৌশলে কৃষকদের কাছ থেকে এসব মাটি কিনে নিচ্ছে। আবার মাটি বিক্রিতে অনীহা প্রকাশ করলে অসহায় কৃষকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে করে কমছে জমির পরিমাণ। মাটি কাটার ফলে জমির উর্বরতা হ্রাসসহ ফসলি জমি বিনষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে জমির মাটি আনা নেয়ার কাজে বর্ষা সিজনে নৌকার ব্যবহারে মেতে উঠেছে মাঝিরা। এরা জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর হয়ে রাত দিন জেগে থাকে কখন নৌকায় মাটি ভরাট করে ব্রিকফিল্ডে পৌঁছে দিবে। মাটিকাটায় নৌকা ব্যবহার করতে গিয়ে বিভিন্ন খালের দু-পাড়ের বাড়িঘর ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতি ক্ষতিসাধনের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের দানবীর চাকায় পিষ্ট হচ্ছে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তাঘাট। সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রকার সুযোগ সুবিধা দিয়ে ইট ভাটার মালিকগণ নির্বিঘেœ তাদের এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় থেকে সংস্কার না হওয়া উপজেলার রাস্তাঘাট গুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ৩নং সুবিদপুর ও ৫নং গুপ্টি ইউনিয়নের একাদিক কৃষক জানান, জমির মাটি নেয়ায় জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। ফসল উৎপাদনে ব্যাহত হবে। তারা বলেন, প্রভাবশালী মহলের দালাল চক্রটি গ্রামগঞ্জে হেটে হেটে অসহায় দরিদ্র কৃষকদের টাকার লোভনীয় প্রলোভন দেখিয়ে মাটি কিনে নিচ্ছে। এতে করে জমির শ্রেণির পরিবর্তনও হচ্ছে। গত ক’দিনে সরোজমিন তদন্তে দেখা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১নং বালিথুবা ইউনিয়ন হইতে ৫নং গুপ্টি ইউনিয়ন পর্যন্ত স্থাপিত অবৈধ ব্রিকফিল্ড গুলোতে নৌকা দ্বারা শেষ রাত হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি ব্রিকফিল্ডে আনতে দেখা যায়। এসময় একাধিক ব্রিকফিল্ডের মালিক এবং ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে চাইলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মতামত পোষণ করতে অনীহা প্রকাশ করে। ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশিক জামিল মাহমুদ জানান, আমরা এ বিষয়ে অবগত আছি। এবং উপজেলার মাসিক মিটিংয়ে এ বিষয়ে কথা হয়েছে বলে তিনি জানান। চাঁদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ হান্নানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহি প্রশাসন যদি এ বিষয়ে আমাদের অবগত করে এবং সহযোগিতা করে তাহলে আমরা মাটি কাটা বন্ধ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব। অন্যদিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার তাছলিমুন নেছার সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ আমাকে অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।