শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রাণের মধুমতি সেতুর উদ্বোধন অক্টোবার মাসেই

তাইজুল ইসলাম (কাশিয়ানী) গোপালগঞ্জ
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

বাংলাদেশের প্রথম ৬ লেন বিশিষ্ট সেতু’র নির্মান কাজ শেষ হয়েছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে মধুমতি নদীর উপর। আগামী অক্টোবর মাসের যে কোন দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটি উদ্বোধন করতে পারেন। ইতোমধ্যে ব্রীজের ১০০ ভাগ কাজ শেষ করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তিন শতাধিক শ্রমিক প্রতিদিন এই ব্রীজ নির্মানের কাজে জড়িত থেকে নির্মান কাজ শেষ করে। গোপালগঞ্জ, নড়াইল, খুলনা ও যশোর, বেনাপোলসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ বছরের স্বপ্ন পূরন হতে চলেছে। দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রাণের সেতু এই মধুমতি সেতু (কালনা সেতু)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি পূরনের আরো এক ধাপ এই সেতু উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাবে। আর তাইতো এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়ইদুল কাদের গত বৃহস্পতিবার ২৩ সেক্টেম্বর সেতু পরির্দশনে এসে সাংবাদিকদের জানান, সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। আগামী আক্টোবর মাসের যে কোন সময়েই কালনা সেতু’র উদে¦াধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সাথে গোপালগঞ্জ, নড়াইল, খুলনা ও যশোর, বেনাপোলসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ বছরের স্বপ্ন পূরন হবে। মাত্র কয়েকটা দিন মাত্র অপেক্ষা। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মধুমতি নদীর উপর মধুমতি সেতু (কালনা সেতু) নির্মাণ করা হয়েছে। ৬ লেন বিশিষ্ট ৬৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২৭ দশমিক ১ মিটার প্রস্থ এ সেতুটি। সেতুর দুই পাশে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এপ্রোজ সড়ক ও টোল প্লাজা। সেতু নির্মানে ব্যয় হয়েছে ৬৫৯ শ’কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। জাইকার সহযোগিতায় ও দেশীয় অর্থে তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এ সেতু নির্মানের কাজ শেষ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারী এই সেতুটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন, আর ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর নির্মান কাজের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে উম্মোচিত হবে এই সেতু দ্বার। কালনা ফেরী পার হওয়া ট্রাক চালক রিপন বলেন, কালনা ঘাটে একটা ফেরি দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন পারাপার করায় সব সময় ভীড় লেগে থাকে। এতে আমাদের সময় অনেক ব্যয় হয়। ব্রীজের কাজ শেষ হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। ব্রীজ তৈরীর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই ও ব্রীজের কাজটি সময় মতো শেষ হয়েছে সে জন্য সরকারের প্রতি আমরা বেশ খুশি এবং সরকারের প্রতি কামনা করছি। কালনা ঘাট দিয়ে যাতায়াত করা চরভাটপাড়া গ্রামের সালাইদ্দিন সুজন মৃধা ও কাশিয়ানী পূর্বপাড়ার মোঃ রিজাউল আলম বলেন, কালনাঘাটে এসে কখনো নৌকা আবার কখনো ফেরীতে পারাপার হতে হয়। তাতে অনেক সময় লাগে। ব্রীজ হলে আমাদের ঘাটে এসে আর বসে থাকতে হবেনা। আমাদের কষ্টের কথা চিন্তা করে কালনায় ব্রীজ তৈরীর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। শুধু এরাই নয় এই ঘাট দিয়ে চলাচলকারী, শংকরপাশা গ্রামের মোঃ তরুন শিকদার, রাতইল গ্রামের মোঃ দিদার হোসেন, খানজাহান আলী পরিবহনের চালক ইদ্রিস আলী, কাশিয়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী খোকন শিকদারসহ বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, মধুমতি সেতু হলো আমাদের কাছে স্বপ্নের সেতু। এই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এতে আমরা আনন্দিত। এই জন্য আমরা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। রাতইল ইউনিয়নের সদস্য মোঃ দিদার হোসেন মৃধা বলেন, সেতুটি নির্মান কাজ শেষ ফলে গোপালগঞ্জ, নড়াইল, খুলনা ও মাগুরা, যশোর,বেনাপোল অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ বছরের স্বপ্ন পূরন হয়েছে। এই রাস্তায় চলাচলকারী লাখ লাখ যাত্রী সাধারনের ঢাকার সাথে যোগাযোগ সহজ হবে। সেই সাথে দীর্ঘ বছরের অসহনীয় দুঃখ দুর্দশা থেকে রেহাই পাবে এই ঘাট দিয়ে চলাচলকারিরা। তাদের আর ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরী ঘাটে বসে থাকতে হবে না। শুধু তাই নয়, মধুমতি সেতু উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে বেনাপোল-ঢাকা মহাসড়কটি দিয়ে বেনাপোল স্থল বন্দরের সাথে ঢাকার দূরত্ব কমে আসবে। বেনাপোল স্থল বন্দর থেকে আমদানী-রফতানী পন্য সরাসরি পদ্মা সেতু হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনে সুবিধা পাবে ব্যবসায়ীরা। যাত্রীসাধারনও কোন ভোগান্তি ছাড়া যাতায়াত করতে পারবেন। কালনা ফেরী ঘাট ইজারাদার মঞ্জুর হাসান বলেন, আর বেশীদিন যাত্রী সাধারনকে ভোগান্তি পোহাতে হবেনা। খুব তাড়াতাড়ি তারা এই সেতু পার হয়ে এবং পদ্মা সেতু দিয়ে রাজধানীতে স্বল্প সময়ের মধ্যে যেতে পারবেন। মাত্র কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে যাতায়াতকারিদের। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তাফা কামাল জানিয়েছেন, ছয় লেনের এ সেতু হবে এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। চারটি মূল লেনে দ্রুতগতির এবং দুটি লেনে কম গতির যানবাহন চলাচল করবে। সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৬শ ৯০ মিটার ও প্রস্থ ২৭ দশমিক ১ মিটার। উভয় পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক হবে ৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার। সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৫৯ শ’কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। তিনি আরো জানান, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এ সেতু নির্মিত হয়েছে। জাপানের টেককেন কর্পোরেশন, ওয়াইবিসি ও বাংলাদেশের আব্দুল মোনেম লিমিটেড যৌথভাবে এই সেতুর নির্মাণ কাজ করেছে। মধুমতি সেতুটির নির্মান কাজ শেষ। উদ্বোধনের পর থেকে ধীরে ধীরে পাল্টে যাবে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান, আর সেই সাথে বেনাপোল-ঢাকা মহাসড়ক পথে অল্প খরচে পন্য পরিবহনে সুযোগ পাবে আমদানী-রফতানী কারকরা।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com