সুন্দরবনের বাঘ গণনায় প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প থেকে আসা সেই টাকা অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে এক মাসের মধ্যেই তা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে বন বিভাগ। সে অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপিং (ক্যামেরার ফাঁদ) পদ্ধতিতে বাঘশুমারির কাজ শুরু করবে তারা। বনটির বাংলাদেশ অংশে কতগুলো বাঘ আছে, তা এ শুমারির মাধ্যমেই জানা যাবে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন গতকাল জানান, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্প্র্রতি ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা থোক বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এ টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় বাঘশুমারি শুরুর জন্য গত সোমবার বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বাঘ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। সভায় কনসালট্যান্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা, ক্যামেরা সংগ্রহ, ম্যাপ তৈরি, যে জায়গাগুলোয় ক্যামেরা স্থাপন করা হবে সেগুলোর তালিকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাঘশুমারির জন্য প্রস্তুতিমূলক অন্য কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
মোহসিন হোসেন বলেন, সুন্দরবনের বাঘের হালনাগাদ তথ্যসংগ্রহ ও বাঘ সংরক্ষণের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ২৩ মার্চ ‘সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় হবে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। শুধু বাঘশুমারি খাতে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। তবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সেই ব্যয় সামান্য কমিয়ে ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত। আর এ প্রকল্পের আওতায় বনের গভীরে গিয়ে এমনসব জায়গায় ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যেখান দিয়ে বাঘ চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। খুঁটিতে বাঘের আনুমানিক উচ্চতায় ক্যামেরা বসানো হয়। এসব ক্যামেরার সামনে দিয়ে বাঘ বা কোনো প্রাণী চলাফেরা করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি উঠবে। ২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১১৪টি, যা ২০১৫ সালে ছিল ১০৬টি।