শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রশ্নে ছাড় দেবে না বিএনপি

শাহ্জাহান সাজু
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২২

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রশ্নে ছাড় দেবে না বিএনপি। বাধাবিপত্তি কাটিয়ে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় গণসমাবেশ সম্পন্ন করতে পারায় সাংগঠনিকভাবে মনোবল আরও চাঙ্গা হয়েছে বিএনপির। কিন্তু পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে আরও বেশি বাধাবিপত্তির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। তারা বলছেন, খুলনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর তারা বুঝতে পেরেছেন ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় রংপুরের সমাবেশ ঘিরে আরও বেশি চাপ প্রয়োগ করা হতে পারে। সে কথা মাথায় রেখেই পরবর্তী কৌশল নির্ধারণের কথা ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে সব বাধা উপেক্ষা করে রংপুরসহ অন্য বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে জনসমাগম বাড়ানোর ব্যাপারে নজর দিতে বলা হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক খবর পত্র বলেন, ‘সভা-সমাবেশ করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এরই মধ্যে তিনটি বিভাগীয় সমাবেশ সফলভাবে করতে পেরেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে বিএনপির সমাবেশে লোকসমাগম দেখেই আওয়ামী লীগে আতঙ্ক ধরে গেছে। সে কারণে লোকসমাগম যেন না হয়; তার জন্য দমনপীড়নের পথে হাঁটছে সরকার। সামনেও সে চেষ্টা তারা করবে। তবে মানুষ যেভাবে জেগে উঠছে, আমার বিশ্বাস, ক্ষমতাসীনেরা ব্যর্থ হবে।’
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, তিন বিভাগে গণসমাবেশ শেষে তারা দেখতে পেয়েছেন ক্ষমতাসীনদের বাধা দেওয়ার ধরন ও কৌশল এক সমাবেশের চেয়ে আরেকটিতে চরম হয়েছে। এ কারণে পরবর্তী সমাবেশগুলো সফল করা নিয়ে নেতাকর্মীদের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে সমাবেশের পর যেভাবে মামলা দেওয়া হচ্ছে, তাতে পরবর্তী সময়ে পুলিশি হয়রানির আশঙ্কা করছেন দলের নেতাকর্মীরা। পরবর্তী কর্মসূচিগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না তা নিয়েও ভাবছেন নেতারা।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ জনসম্পৃক্ত নানা দাবিতে বিভাগীয় কর্মসূচি পালন করছি আমরা। এর আগে তৃণমূল ও ঢাকায় সভা-সমাবেশ হয়েছে। প্রত্যেকটি সভায় ক্ষমতাসীনরা বাধা দিয়েছে। এসব বাধাবিপত্তির মধ্যেই আমরা কর্মসূচি পালন করেছি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে চাই। আশা করি, সরকার তা বুঝতে পারবে। যত তাড়াতাড়ি ক্ষমতাসীনরা এটি বুঝতে পারবে ততই মঙ্গল।’
বাধার কথা মাথায় রেখেই চলছে প্রস্তুতি
দলীয় সূত্র জানায়, বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে গত ৬ অক্টোবর থেকেই রংপুরে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া আগামী ৫ নভেম্বর বরিশাল, ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী এবং ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশ সফল করতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতেও সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রংপুরে বিভাগীয় গণসমাবেশ তদারকির জন্য গঠিত কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন দৈনিক খবরপত্র কে বলেন, ‘আমাদের নজর হচ্ছে একটি সফল সমাবেশ করার। বাধাবিপত্তির মধ্যেই তো আমরা আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সমাবেশ করব আর আওয়ামী লীগ বাধা দেবে না, এমন চিন্তা আমরা করতে পারি না। ক্ষমতাসীনদের বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করেই বাকি বিভাগীয় সমাবেশগুলো হবে। ওইসব সমাবেশ হবে সেই সব বিভাগের ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টিকারী গণজমায়েত।’ রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রংপুরে গত ৬ অক্টোবর থেকে জেলায় জেলায় গণসংযোগ চলছে। ২৯ অক্টোবরের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে কেন্দ্রীয় নেতারা বিভাগের আট জেলা সফর করছেন। কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে সাংগঠনিক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।’
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু বলেন, ‘সমাবেশ সফল করতে সব প্রস্তুতি চলছে। কেন্দ্রীয় নেতারা বিভাগের আট জেলা গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় সফর করছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় এই সাংগঠনিক সফর সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ১০ দিন আগে বিভাগীয় সমাবেশের স্থান রংপুর জিলা স্কুল মাঠের অনুমতি চেয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদনের কপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন জিলা স্কুল মাঠ ব্যবহারের অনুমতি না দিয়ে এর অদূরে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সমাবেশের জন্য মৌখিকভাবে বলেছেন। সমাবেশের নতুন স্থান নিয়ে অবশ্য দলের পক্ষ থেকে কোনো দ্বিমত নেই জানিয়ে সামসুজ্জামান সামু বলেন, তারা শহরের মূল জায়গায় সমাবেশ করতে চান। কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠটিও শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। বরিশাল বিভাগে গণসমাবেশ তাদারকির জন্য গঠিত কমিটির সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জাহিদ। সেখানকার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে দৈনিক খবরপত্র কে তিনি বলেন, ‘বরিশালের সমাবেশে জনসমাগম বাড়াতে সেখানকার প্রতিটি জেলায় জেলায় গণসংযোগ চলছে। পোস্টার লাগানো হচ্ছে। লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। জনগণের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়াও বেশ ভালোই পাওয়া যাচ্ছে।’
তবে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে প্রস্তুতিতে কিছুটা বাধা পড়েছে বলে জানান বিএনপির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু। তিনি বলেন, ‘খারাপ আবহাওয়ার কারণে জেলায় জেলায় রাস্তাঘাটে পানি উঠেছে। এজন্য কয়েকটি সভার তারিখ পরিবর্তন করতে হয়েছে। বরিশালে যে মাঠে সভা হবে সেই মাঠেও পানি উঠেছে। তবে আশা করি সমাবেশের আগেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’
ছাড় দেবে না বিএনপি
বিএনপির গণসমাবেশে বাধা দেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করে দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আমাদের এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে কতটা সফল আর কতটা ব্যর্থ তার চেয়েও বড় কথা হলো আমরা জনগণের সমর্থন ও সহানুভূতি আদায় করতে পেরেছি এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এখন মহিলারা ঝাড়ু মিছিল করে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির দাবিতে। এখানেই আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা। তারপরও তারা গায়ের জোরে ঠেকাতে চায়। এটা করতে গেলে কী পরিণতি হয় তা তো ইতিহাসে আছে বিভিন্ন সময়।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের বাধা উপেক্ষা করেই আমাদের তিনটি বিভাগীয় সমাবেশ হয়েছে। বাকি সমাবেশগুলোও হবে তাদের বাধাবিপত্তি ডিঙিয়েই।’ বাধাবিপত্তি কাটিয়ে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় গণসমাবেশ সম্পন্ন করতে পারায় সাংগঠনিকভাবে মনোবল আরও চাঙ্গা হয়েছে বিএনপির। কিন্তু পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে আরও বেশি বাধাবিপত্তির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।
তারা বলছেন, খুলনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর তারা বুঝতে পেরেছেন ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় রংপুরের সমাবেশ ঘিরে আরও বেশি চাপ প্রয়োগ করা হতে পারে। সে কথা মাথায় রেখেই পরবর্তী কৌশল নির্ধারণের কথা ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে সব বাধা উপেক্ষা করে রংপুরসহ অন্য বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে জনসমাগম বাড়ানোর ব্যাপারে নজর দিতে বলা হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সভা-সমাবেশ করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এরই মধ্যে তিনটি বিভাগীয় সমাবেশ সফলভাবে করতে পেরেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে বিএনপির সমাবেশে লোকসমাগম দেখেই আওয়ামী লীগে আতঙ্ক ধরে গেছে। সে কারণে লোকসমাগম যেন না হয়; তার জন্য দমনপীড়নের পথে হাঁটছে সরকার। সামনেও সে চেষ্টা তারা করবে। তবে মানুষ যেভাবে জেগে উঠছে, আমার বিশ্বাস, ক্ষমতাসীনেরা ব্যর্থ হবে।’
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, তিন বিভাগে গণসমাবেশ শেষে তারা দেখতে পেয়েছেন ক্ষমতাসীনদের বাধা দেওয়ার ধরন ও কৌশল এক সমাবেশের চেয়ে আরেকটিতে চরম হয়েছে। এ কারণে পরবর্তী সমাবেশগুলো সফল করা নিয়ে নেতাকর্মীদের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে সমাবেশের পর যেভাবে মামলা দেওয়া হচ্ছে, তাতে পরবর্তী সময়ে পুলিশি হয়রানির আশঙ্কা করছেন দলের নেতাকর্মীরা। পরবর্তী কর্মসূচিগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না তা নিয়েও ভাবছেন নেতারা।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ জনসম্পৃক্ত নানা দাবিতে বিভাগীয় কর্মসূচি পালন করছি আমরা। এর আগে তৃণমূল ও ঢাকায় সভা-সমাবেশ হয়েছে। প্রত্যেকটি সভায় ক্ষমতাসীনরা বাধা দিয়েছে। এসব বাধাবিপত্তির মধ্যেই আমরা কর্মসূচি পালন করেছি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে চাই। আশা করি, সরকার তা বুঝতে পারবে। যত তাড়াতাড়ি ক্ষমতাসীনরা এটি বুঝতে পারবে ততই মঙ্গল।’
বাধার কথা মাথায় রেখেই চলছে প্রস্তুতি
দলীয় সূত্র জানায়, বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে গত ৬ অক্টোবর থেকেই রংপুরে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া আগামী ৫ নভেম্বর বরিশাল, ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী এবং ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশ সফল করতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতেও সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রংপুরে বিভাগীয় গণসমাবেশ তদারকির জন্য গঠিত কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাদের নজর হচ্ছে একটি সফল সমাবেশ করার। বাধাবিপত্তির মধ্যেই তো আমরা আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সমাবেশ করব আর আওয়ামী লীগ বাধা দেবে না, এমন চিন্তা আমরা করতে পারি না। ক্ষমতাসীনদের বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করেই বাকি বিভাগীয় সমাবেশগুলো হবে। ওইসব সমাবেশ হবে সেই সব বিভাগের ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টিকারী গণজমায়েত।’ রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রংপুরে গত ৬ অক্টোবর থেকে জেলায় জেলায় গণসংযোগ চলছে। ২৯ অক্টোবরের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে কেন্দ্রীয় নেতারা বিভাগের আট জেলা সফর করছেন। কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে সাংগঠনিক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।’
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু বলেন, ‘সমাবেশ সফল করতে সব প্রস্তুতি চলছে। কেন্দ্রীয় নেতারা বিভাগের আট জেলা গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় সফর করছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় এই সাংগঠনিক সফর সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ১০ দিন আগে বিভাগীয় সমাবেশের স্থান রংপুর জিলা স্কুল মাঠের অনুমতি চেয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদনের কপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন জিলা স্কুল মাঠ ব্যবহারের অনুমতি না দিয়ে এর অদূরে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সমাবেশের জন্য মৌখিকভাবে বলেছেন। সমাবেশের নতুন স্থান নিয়ে অবশ্য দলের পক্ষ থেকে কোনো দ্বিমত নেই জানিয়ে সামসুজ্জামান সামু বলেন, তারা শহরের মূল জায়গায় সমাবেশ করতে চান। কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠটিও শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।
বরিশাল বিভাগে গণসমাবেশ তাদারকির জন্য গঠিত কমিটির সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জাহিদ। সেখানকার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘বরিশালের সমাবেশে জনসমাগম বাড়াতে সেখানকার প্রতিটি জেলায় জেলায় গণসংযোগ চলছে। পোস্টার লাগানো হচ্ছে। লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। জনগণের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়াও বেশ ভালোই পাওয়া যাচ্ছে।’ তবে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে প্রস্তুতিতে কিছুটা বাধা পড়েছে বলে জানান বিএনপির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘খারাপ আবহাওয়ার কারণে জেলায় জেলায় রাস্তাঘাটে পানি উঠেছে। এজন্য কয়েকটি সভার তারিখ পরিবর্তন করতে হয়েছে। বরিশালে যে মাঠে সভা হবে সেই মাঠেও পানি উঠেছে। তবে আশা করি সমাবেশের আগেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’
ছাড় দেবে না বিএনপি
বিএনপির গণসমাবেশে বাধা দেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করে দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আমাদের এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে কতটা সফল আর কতটা ব্যর্থ তার চেয়েও বড় কথা হলো আমরা জনগণের সমর্থন ও সহানুভূতি আদায় করতে পেরেছি এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এখন মহিলারা ঝাড়ু মিছিল করে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির দাবিতে। এখানেই আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা। তারপরও তারা গায়ের জোরে ঠেকাতে চায়। এটা করতে গেলে কী পরিণতি হয় তা তো ইতিহাসে আছে বিভিন্ন সময়।’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের বাধা উপেক্ষা করেই আমাদের তিনটি বিভাগীয় সমাবেশ হয়েছে। বাকি সমাবেশগুলোও হবে তাদের বাধাবিপত্তি ডিঙিয়েই।’




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com