চলতি বছর ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য প্রবীণ কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক ও নবীন সাহিত্যশ্রেণিতে (অনূর্ধ্ব চল্লিশ বছর বয়স্ক লেখক) কথাশিল্পী মৌরি মরিয়ম। পুরস্কার হিসেবে তাদেরকে দেয়া হয়েছে যথাক্রমে পাঁচ লাখ ও এক লাখ টাকা। এ ছাড়া ক্রেস্ট, উত্তরীয় ও সার্টিফিকেটও দেয়া হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এ পুরস্কার দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, হুমায়ূন আহমেদ তার সৃষ্টিকর্মে মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন সকল শ্রেণির পাঠককে। তার লেখার মধ্য দিয়ে আকৃষ্ট করেছেন আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাকে। ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজেরও অসাধারণ আগ্রহ ছিল তার বইয়ের প্রতি। হুমায়ূন আহমেদের একটি বই পড়া শুরু করলে শেষ না করে উঠতাম না। এমনকি খাবার টেবিলেও বইটি নিয়ে যেতাম।
এই পুরস্কারের জন্য গঠিত বিচারকম-লীর সভাপতি, খ্যাতিমান কথাশিল্পী ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। প্রধান অতিথি ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেন, দিন যত যাবে ততই হুমায়ূন আহমেদের কদর তত বাড়বে। এ অমর কথাশিল্পী সবসময়ই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। ‘৭৫ এর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে রাজাকার বা হানাদার বাহিনী শব্দ লিখা নিষিদ্ধ ছিল। সেই পরিস্থিতিতেও হুমায়ুন আহমেদ ‘তুই রাজাকার’ শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন, লিখেছিলেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন এক্সিম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মো. আব্দুল বারী এবং বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও নির্মাতা, হুমায়ূন-পত্নী মেহের আফরোজ শাওন। শংসাবচন পাঠ করেন বিচারকম-লীর সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ আজিজুল হক ও স্বনামধন্য কথাশিল্পী বিশ্বজিৎ চৌধুরী।
প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। এ বছর অষ্টমবারের মতো এ সাহিত্য পুরস্কার দেয়া হলো।