শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

সিত্রাংয়ে ভোলার চরফ্যাশনে ১৪৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন পরিচালিত ১৪৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি কলেজ ও ১২৮টি বিদ্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার টাকা। মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সিত্রাংয়ের আঘাত হানা চারটি অঞ্চলের ৫৭টি উপজেলার কাছ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চিঠি দেয় মাউশি। উপজেলা পর্যায় থেকে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং। সেখানে উপজেলাভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ও পাঠদান ব্যাহত হওয়াসহ বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
মাউশির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিত্রাংয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায়। সেখানকার ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে চরফ্যাশনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ নেই, তবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোয় পাঠদান আংশিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরফ্যাশন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, মাউশি থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকাসহ কিছু তথ্য ছক আকারে পাঠাতে বলা হয়। আমরা সে আলোকে মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন মাউশিতে পাঠিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েও পাঠিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক সহযোগিতা বা বরাদ্দ আমরা পাইনি।
সিত্রাংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপজেলা ভোলা সদর। উপজেলাটিতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২০টি। এর মধ্যে ১৭টিতে আংশিক ও তিনটিতে সম্পূর্ণ পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ভোলার অন্য উপজেলাগুলোর মধ্যে বোরহানউদ্দিনে পাঁচটি, লালমোহনে তিনটি, তজুমদ্দিনে একটি, মনপুরায় চারটি ও দৌলতখানে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, সিত্রাংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ভোলায়। ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা সদর। সেখানকার ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিত্রাংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মাউশির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৫১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আর খুলনা সদরের ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সাতটিতে পাঠদান কার্যক্রম আংশিকভাবে ও তিনটিতে পাঠদান সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা উপপরিচালক এএসএম আব্দুল খালেক বলেন, খুলনায় কিছু প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যাওয়ায় ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ছিল। এখন সেটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। আমরা অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের তালিকা কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের কাছে পঠিয়েছি। ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও মাউশিকে জানানো হয়েছে। সে আলোকে অর্থ বরাদ্দ পেলে প্রতিষ্ঠানগুলোয় সংস্কার কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া হবে।
আর ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিবেচনায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা। এ উপজেলায় মোট নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিত্রাংয়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সব প্রতিষ্ঠানেই পাঠদান আংশিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর বাইরে পটুয়াখালীর দশমিনায় ছয়টি, কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পাঁচটি, ব্রাহ্মণপাড়ায় চারটি ও চান্দিনায় চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা অঞ্চলের আরো কিছু উপজেলায় এক থেকে তিনটি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিত্রাংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ড. একিউএম শফিউল আজম বলেন, আমরা বর্তমানে কভিড লার্নিং গ্যাপ নিয়ে কিছু কাজ করছি। তবে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা পাইনি।
গেল অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে বেশ কয়েক দিন বৈরী আবহাওয়া ছিল দেশজুড়ে। ওই সময় ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়কবলিত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হবে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সেগুলোয় পাঠদানও বন্ধ রাখা হয়। মাউশির প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই সময় ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com