রংপুর সিটি করপোরেশনে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হওয়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা তার জয়কে রংপুরবাসীর জন্য উৎসর্গ করে বলেছেন, ‘এ বিজয় জাতীয় পার্টির বিজয়। আমি রংপুরবাসীকে আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’ গতকাল বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে নগরীর খামারমোড়স্থ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মোস্তফা বলেন, ‘আমি মনে করি আমার এ বিজয়ে জাতীয় পার্টি অনুপ্রারণীত হবে। জাতীয় পার্টির কর্মীদের অনুপ্রেরণা যোগাবে। জাতীয় পার্টি এগিয়ে যাবে এই প্রত্যয় আমি রাখছি। আমি মনে করি, এ জয় ছিলো অনেক কষ্টার্জিত বিজয়।’ গত মঙ্গলবার রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে রাত ১২টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
রংপুর সিটি নির্বাচনে জামানত হারালেন আ.লীগের মেয়র প্রার্থী: রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হোসনে আরা লুৎফা (ডালিয়া) জামানাত হারিয়েছেন। তাঁকে মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ থেকে অন্তত একটি ভোট বেশি পেতে হতো। অর্থাৎ তাঁকে অন্তত ৩৪ হাজার ৩৯৩ ভোট পেতে হতো। কিন্তু তিনি পেয়েছেন ২২ হাজার ৩০৬ ভোট। রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আবদুল বাতেনের সই করা ভোটার তালিকা থেকে জানা গেছে, মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৬।
এই নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ নেন মোট ৯ প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মেয়র নির্বাচিত হন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমিরুজ্জামান ৪৯ হাজার ৮৯২ ভোট পেয়ে জামানত টিকিয়ে রেখেছেন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীসহ সাত প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হোসনে আরা লুৎফাসহ আর যাঁরা জামানত হারিয়েছেন, তাঁরা হলেন বাংলাদেশের কংগ্রেসের আবু রায়হান (১০ হাজার ৫৪৯ ভোট), জাকের পার্টির খোরশেদ আলম (৫ হাজার ৮০৯ ভোট), খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমান ম-ল (২ হাজার ৮৬৪ ভোট), স্বতন্ত্র মেহেদী হাসান (২ হাজার ৬৭৯ ভোট), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র লতিফুর রহমান (৩৩ হাজার ৮৮৩ ভোট) ও জাসদের শফিয়ার রহমান (৫ হাজার ১৫৬ ভোট)।