ওমিক্রনের নতুন উপধরণ বিএফ.৭ শনাক্ত হয়েছে চীন থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বাংলাদেশে আসা চার ব্যক্তির। এক জনের গতকাল রোববার (১ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বিএফ.৭ আক্রান্ত চার চীনা নাগরিকের প্রত্যেকেই সুস্থ আছেন। নতুন ধরণ প্রসঙ্গে নাজমুল বলেন, নতুন উপধরণ নিয়ে আমরা ভীত নই। আমরা চাই না কেউ করোনা সংক্রমণ নিয়ে প্যানিক হয়ে যাক, কারণ আমাদের সংক্রমণের হার বর্তমানে ১ শতাংশেরও কম। তবে নতুন উপধরণকে আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি, সংক্রমণের হার যেনো কোনোভাবেই বাড়তে না পারে, আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিএফ.৭ যেন না ছড়ায় -এবিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভূমিকা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন উপধরণকে আমরা খুবই ক্লোজলি মনিটর করছি। সংক্রমিত দেশগুলো থেকে যারা আসছেন, তাদেরকে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। পরীক্ষায় যাদের নমুনা পজেটিভ পাচ্ছি তাদেরকে আইসোলেটেড করছি, আরটিপিসিআর করছি। এই কার্যক্রমগুলো আমাদের নিয়মিত চলছে।
এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর চীন থেকে আসা দেশটির চার নাগরিকের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ওই দিন ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরীক্ষায় তাঁদের করোনা ধরা পড়ে। তাঁদের মহাখালীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) করোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সম্প্রতি চীনে আবার ব্যাপকভাবে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরে আবার চীনসহ কয়েকটি দেশ থেকে আসা যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে চীনা নাগরিকদের জন্য করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,ওমিক্রন বিএফ৭ শরীরের যে ৬ অঙ্গে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। আবারও বিশ্বব্যাপী বাড়তে শুরু করেছে করোনা সংক্রমণ। এবারও সংক্রমণ শুরু হয়েছে চিন থেকে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে মারাও যাচ্ছেন। আর এই দৃশ্য দেখেই ভয় পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। করোনাভাইরাস একেক সম তার বিভিন্ন উপধরন নিয়ে হাজির হয়েছে। এই ভাইরাসের আলফা, বিটা, ডেল্টা, ওমিক্রন নানা রূপে আক্রান্ত হয়েছেন মানুষ। এবার এসেছে ওমিক্রনের একটি উপপ্রজাতি বিএফ.৭। এই ভাইরাস কিন্তু অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আশার কথা হলো করোনার এই উপধরন বিএফ.৭ এর উপসর্গ তেমন গুরুতর পর্যায়ে যাচ্ছে না। এমনকি ডেল্টা বা অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় তেমন গুরুতরও নয় এটি। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে সমস্যা বিপদ বাড়তে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট ডা. পবিত্র ভেঙ্কট গোপালনেএ বিষয়ে জানান, এটি হলো আপার রেসপিরেটরি ইনফেকশন। শরীরে উপরিভাগে এই অসুখ হানা দিচ্ছে। মূলত নাক, সাইনাস, ফ্যারিংস (গলা), ল্যারিংস (স্বরযন্ত্র), শ্বাসনালি ও ব্রঙ্কিওতে এই ভাইরাস আক্রমণ চালায়। এর লক্ষণ থাকে সাধারণ ঠান্ডা লাগার মতোই যেমন- গলা ব্যথা, সাইনাস, নাক দিয়ে জল পড়া, মাথা ব্যথা, পেশিতে ব্যথা ইত্যাদি। ভাইরাল লোড বেশি থাকলে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
কীভাবে সতর্ক থাকবেন? মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুসারে, আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্টের ইনফেকশন হলে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল জাতীয় খাবার কিংবা তাজা ফলের জুস পান করতে হবে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। ঘুমাতে হবে নিয়ম মেনে। এমনকি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকতে হবে। শীতে হিটার চালিয়ে ঘর ও শরীর বেশি গরম করে ফেলবেন না। আর গরম থাকলেও এসি চালিয়ে খুব ঠান্ডা করবেন না। ঘরবাড়ি এ সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। কারণ ব্যাকটেরিয়া বাড়লে তার থেকে সেকেন্ডারি ইনফেকশন হতে পারে। এ সময় গলা ব্যথা হলে লবণ পানিতে গার্গল করুন। এছাড়া অনেকের নাক বন্ধ হতে পারে। এক্ষেত্রে নাকের স্প্রে ব্যবহার করুন।