বেলা ১১টা, কনকনে শীতে প্রকৃতি জবুথবু হলেও ব্যস্ত নিউমার্কেট এলাকা। নূরজাহান, চন্দ্রিমা মার্কেটসহ ওই এলাকার সব মার্কেট ও ফুটপাতে চলছে হাঁকডাক। ‘হাত মোজা, কানটুপি আছে, আছে ভালো শীতের জ্যাকেট-হুডি’, ‘একদামে বিক্রি, কী লাগবে?’- এভাবেই ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ব্যবসায়ীরা। বাহারি শাল, সোয়েটার, জ্যাকেট, কানটুপি, মাংকি ক্যাপ, মোটা মোজা দেখছেন ক্রেতারা। তীব্র শীতের কারণে এসব পোশাকের চাহিদা এখন তুঙ্গে। তবে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের শীতের কাপড়ের চাহিদা বেশি। বছরের শুরুতেই শীত জেঁকে বসায় গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। বিক্রি বাড়ায় খুশি বিক্রেতারাও। গতকাল শনিবার (৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে নিউমার্কেট এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়।
নিউমার্কেটের দুই নম্বর গেটে ফুটপাতের দোকানে হাত মোজার দরদাম করতে দেখা যায় স্কুল শিক্ষিকা শারমীন আক্তার অ্যানিকে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ২৫০ টাকার নিচে এক জোড়া হাত মোজা দিতে চাইছে না। বলছে একদাম। শীত বেড়ে যাওয়ায় বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। পায়ের মোজার দামও বেশি।
তবে বিক্রেতা এহসান করিমের দাবি, দাম বাড়ানো হয়নি। শীতের পোশাকের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে জানিয়ে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, প্রকারভেদে ছেলেদের সোয়েটার ২০০ থেকে ৬০০ টাকা ও মাফলার ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বড়দের কানটুপি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকায়, ছোটদের কানটুপি ৬০ থেকে ২০০ এবং হাতমোজা ১০০ থেকে ২৫০ টাকা। শিশুদের সোয়েটার, মোটা জামা এক হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। নারীদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। এবছর ছেলেদের পছন্দ কাপড়-লেদারের জ্যাকেট। এছাড়া ব্লেজার বিক্রি হচ্ছে ২ থেকে ৪ হাজার টাকায়।
এদিকে, চাহিদা বাড়ায় পোশাকের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থায় বেশি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। তাদের দাবি, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শীতের পোশাকের ব্যবসা যেমন দেরিতে শুরু হয়েছে, বেচাকেনাও কম হয়েছে। তবে শেষ সময়ে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে বলে জানান তিনি। রাজধানীসহ সারাদেশে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে আকাশ। দিনের তাপমাত্রা ওঠানামা করছে ৮ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। ফুটপাতের পাশাপাশি ব্র্যান্ড শপগুলোতেও শীতের পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। রাজধানীর সায়েন্সল্যাবের ইজি, রিচম্যান, জেন্টেল ম্যান, মেনস ওয়ার্ল্ড ব্র্যান্ডের বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, দু-তিনদিন ধরে গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে, বেড়েছে বিক্রিও। এ সময়ে শীতের পোশাকের চাহিদা ২০-৩০ শতাংশ বেড়েছে। আবহাওয়া এমন থাকলে বিক্রি আরও বাড়বে। সাধ্যের মধ্যে পছন্দমতো পণ্য দিতে পারায় তাদের পোশাকগুলোর প্রতি ক্রেতাদের বাড়তি আকর্ষণ রয়েছে বলেও জানান তারা।
পোশাকের ব্র্যান্ড গ্রামীণ ইউনিক্লোর শোরুমের সামনে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সৈকত ম-লের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে ঢাকায় খুব একটা ঠান্ডা পড়ে না। কিন্তু এবার বেশ ঠান্ডা পড়ছে। রাতে মোটরসাইকেল চালাতে অসুবিধা হওয়ায় ভালো মানের একটি জ্যাকেট কিনতে এসেছি। কয়েকটি ব্র্যান্ডশপ ঘুরেছি, এখনো পছন্দ হয়নি। একটি ব্লেজার কিনেছি। আরও কিছু জামা-কাপড় কিনবো বলেও জানান তিনি।