ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন Logo বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৫ শতাধিক ছাত্রীর জন্য শিক্ষক মাত্র ৩ জন: ১২ পদের ৯টিই শূন্য Logo বদলগাছীতে জাতীয় কবি “ নজরুল বর্ষের “ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ Logo কয়রায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি Logo ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি Logo আগৈলঝাড়ায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত Logo মানবিক বিবেচনায় ছাড় না দিলে কঠোর কর্মসূচি আগামীতে Logo শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান Logo কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‌্যালি-আলোচনা Logo প্রবীণরা বোঝা নয় তারা আমাদের শিকড়-আবুজার ইজাজুল হক

আখের বাম্পার ফলন : কৃষকের মুখে হাসি

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আখ চাষ। কম উৎপাদন খরচ, তুলনামূলক বেশি লাভ এবং বাম্পার ফলনের কারণে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এ ফসলের প্রতি। বিশেষ করে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গাড়ফা গ্রামে এবার আখের চমৎকার ফলন কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
গতকাল শনিবার (১৫ আগষ্ট) সরেজমিনে ঘুরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়ে সবুজে মোড়ানো বিস্তীর্ণ আখের ক্ষেত। বাতাসে দুলতে থাকা সারি সারি আখ যেন কৃষকের স্বপ্ন আর সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা আবাদ বাড়াচ্ছেন।
গাড়ফা গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, এবার আখের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম। বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে ভালো লাভ হবে। এ কারণে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আখ চাষের পরিকল্পনা করছেন তারা।
এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফিলিপাইন, রংবিলাস, ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের আখের আবাদ হয়েছে। এসব জাতের আখে ফলন বেশি হওয়ায় সফল চাষিদের দেখে নতুন অনেক কৃষকও আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কৃষক বোরহান, আবুসাইদ, হালিম ও হামিম বলেন, আগে ধান চাষ করতাম। এখন কৃষি অফিসের পরামর্শে আখ চাষ শুরু করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, তাই ভবিষ্যতেও আখ চাষ চালিয়ে যেতে চাই।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, উন্নত জাতের ব্যবহার, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং নিয়মিত কারিগরি পরামর্শের ফলে মোল্লাহাটে আখের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, রোগবালাই দমন এবং পরিচর্যা বিষয়ে নিয়মিত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

একসময় সীমিত পরিসরে আবাদ হলেও বর্তমানে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার নাম আখ। কম খরচে অধিক লাভ, উন্নত ফলন এবং বাজারে ভালো দামের প্রত্যাশায় কৃষকরা দিন দিন এ ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি সহযোগিতা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগামী বছর আরও বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আখের আবাদ বৃদ্ধি পাবে।
কৃষকদের নিরলস পরিশ্রম এবং কৃষি বিভাগের ধারাবাহিক সহযোগিতায় মোল্লাহাটে আখ চাষে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। এখন প্রয়োজন শুধু ন্যায্যমূল্য ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা। তা নিশ্চিত করা গেলে আখ চাষ এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কৃষকের মুখে হাসি হাসি ফুটবে।
মোল্লাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ইমরান বলেন, মোল্লাহাটে আখ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে আরও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

আখের বাম্পার ফলন : কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট সময় ১০:০০:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আখ চাষ। কম উৎপাদন খরচ, তুলনামূলক বেশি লাভ এবং বাম্পার ফলনের কারণে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এ ফসলের প্রতি। বিশেষ করে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গাড়ফা গ্রামে এবার আখের চমৎকার ফলন কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
গতকাল শনিবার (১৫ আগষ্ট) সরেজমিনে ঘুরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়ে সবুজে মোড়ানো বিস্তীর্ণ আখের ক্ষেত। বাতাসে দুলতে থাকা সারি সারি আখ যেন কৃষকের স্বপ্ন আর সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা আবাদ বাড়াচ্ছেন।
গাড়ফা গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, এবার আখের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম। বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে ভালো লাভ হবে। এ কারণে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আখ চাষের পরিকল্পনা করছেন তারা।
এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফিলিপাইন, রংবিলাস, ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের আখের আবাদ হয়েছে। এসব জাতের আখে ফলন বেশি হওয়ায় সফল চাষিদের দেখে নতুন অনেক কৃষকও আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কৃষক বোরহান, আবুসাইদ, হালিম ও হামিম বলেন, আগে ধান চাষ করতাম। এখন কৃষি অফিসের পরামর্শে আখ চাষ শুরু করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, তাই ভবিষ্যতেও আখ চাষ চালিয়ে যেতে চাই।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, উন্নত জাতের ব্যবহার, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং নিয়মিত কারিগরি পরামর্শের ফলে মোল্লাহাটে আখের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, রোগবালাই দমন এবং পরিচর্যা বিষয়ে নিয়মিত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

একসময় সীমিত পরিসরে আবাদ হলেও বর্তমানে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার নাম আখ। কম খরচে অধিক লাভ, উন্নত ফলন এবং বাজারে ভালো দামের প্রত্যাশায় কৃষকরা দিন দিন এ ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি সহযোগিতা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগামী বছর আরও বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আখের আবাদ বৃদ্ধি পাবে।
কৃষকদের নিরলস পরিশ্রম এবং কৃষি বিভাগের ধারাবাহিক সহযোগিতায় মোল্লাহাটে আখ চাষে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। এখন প্রয়োজন শুধু ন্যায্যমূল্য ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা। তা নিশ্চিত করা গেলে আখ চাষ এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কৃষকের মুখে হাসি হাসি ফুটবে।
মোল্লাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ইমরান বলেন, মোল্লাহাটে আখ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে আরও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।