পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল বুধবার মন্ত্রীর অফিসকক্ষে সাক্ষাৎকালে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধিসহ অপরিহার্য সামাজিক সেবাগুলোকে জলবায়ু-সহনশীল করে গড়ে তোলার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, শিশু ও তরুণেরাই আজ ও আগামী দিনের জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশের কারিগর। তাই, জলবায়ু কর্মপরিকল্পনায় শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা অনুসারে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ ‘সীসামুক্ত বাংলাদেশের জাতীয় কৌশল ও বহুবর্ষী কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩৫)’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ায় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি কর্মপরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে ইউনিসেফের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সীসাদূষণের পাশাপাশি অন্যান্য দূষণ থেকে শিশুদের সুরক্ষায় মন্ত্রণালয়ে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে মন্ত্রী জানান। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত
ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি সৃষ্টিতে শিশুদের কোনো দায় না থাকলেও তারাই এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। ইউনিসেফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৫ কোটি ৮৮ লাখ শিশু কোনো না কোনো জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় নয় জন একই সঙ্গে তিন বা ততোধিক দুর্যোগঝুঁকির সম্মুখীন। সরকার অনুমোদিত তথ্যের ভিত্তিতে জেলাভিত্তিক শিশু জলবায়ু ঝুঁকি সূচক (সিসিআরআই) এবং শিশুদের জন্য জলবায়ু পরিস্থিতি বিশ্লেষণ (সিএলএসি) প্রণয়নে মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ যৌথভাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো চিহ্নিত করে অভিযোজনসহ জলবায়ু পরিবর্তন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি ৩.০) বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সম্পৃক্ত করতে ইউনিসেফ সহযোগিতা করছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি খাতে এ সহযোগিতা পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইয়েও ইউনিসেফ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। আলোচনার সময় বলা হয়, পরিবেশবান্ধব ও দুর্যোগসহনশীল বিদ্যালয়ের মডেল গড়ে তোলার উদ্যোগে ইউনিসেফ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। বৈঠকে পাঠ্যক্রমে জলবায়ু ও পরিবেশ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা, ইয়ুথ ক্লাইমেট নেগোশিয়েটরস ফেলোশিপ ও ইয়ুথ ক্লাইমেট সামিট আয়োজন এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরীদের নেটওয়ার্কের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরো সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এ সময় মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ শিরোনাম
পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনিসেফ প্রতিনিধির সাক্ষাৎ
-
খবরপত্র ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৯:২৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
- 89
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ




















