ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে বাড়তি আয় করছেন নারীরা

বাংলাদেশের নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন, চাকরি, কৃষি, উদ্যোক্তা এবং হস্তশিল্পসহ অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে বাড়তি আয় করছেন গ্রামের নি¤œবিত্ত পরিবারের নারীরা।
চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পাটের অধিক ফলন ও দাম ভাল পাওয়ার কারণে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ, বিল, নদী, খাল, ডোবা ও জলাশয়ে ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত পাটের আঁশ ছাড়াতে দেখা যাচ্ছে নারী-পুরুষকে। পরিবারভিত্তিকভাবে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে অংশ নেয়ায় গ্রামীণ জনপদে এখন কর্মব্যস্ততার অংশ দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পানিতে জাগ দেয়া পাট গাছের আঁশ ছাড়াতে দেখা গেছে কৃষক-কৃষানীদের। কেউ পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার কেউ পাটের আঁশ ধুয়ে রোদে শুকানোর জন্য বাঁশের খুঁটিতে বিছিয়ে দিচ্ছেন। কৃষকদের সঙ্গে নারীরাও সমানতালে এ কাজে অংশ নিচ্ছেন। এবছর জেলায় প্রচুর পাট ফলনে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছেন কৃষক-কৃষানীরা।

জেলার নি¤œবিত্ত পরিবারের গ্রামীণ নারীরা পাটের আঁশ ছাড়ানো, শুকানো কাজ করে বাড়তি আয় করছেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আঁশ ছাড়িয়ে কেউ কেউ নগদ পারিশ্রমিক নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ পাটখড়ি (শুকনো পাট গাছ) নিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন।

পাটের আঁশ ছাড়ানো কাজে নিয়োজিত একাধিক নারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রতিদিন পাটের আঁশ ছাড়িয়ে দিয়ে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা মূল্যের সমান পাটখড়ি পেয়ে থাকেন।

দুই দিন ধরে জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে জানা গেছে, পাটের আঁশ ছাড়ানোর বিনিময়ে নারীরা মজুরি হিসেবে নগদ টাকার পরিবর্তে পাটখড়ি পান। পরে এসব পাটখড়ি হাটে বা পাইকারের কাছে বিক্রি করেন তারা।

একাধিক নারী জানান, পাট ছাড়াতে কৃষক আলাদা কোনো মজুরি দেন না। জাগ দেয়া পাটগাছ থেকে পাটের আঁশ আলাদা করে দিয়ে তারা পাটখড়ি নিয়ে যান। নিজেদের বাড়িতে সেগুলো শুকিয়ে আশপাশের হাটে বা পাইকারের কাছে বিক্রি করেন।

গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার জেলার সদর উপজেলার আলাতুলি, নারানপুর, রানিহাটি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর, উজিরপুর, মনাকশাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামের নি¤œবিত্ত পরিবারের বেশির ভাগ গৃহিণী দল বেঁধে খোলা জায়গায় বসে কৃষকের পাটগাছ থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন।

সদর উপজেলার আলাতুলি ইউনিয়নের জাহানা বেগমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, পাট মৌসুমে পাট ছাড়ানোর কাজ করে আমি প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করি।

শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের আনোয়ারা বেগম (৫০) জানান, প্রতিবছর এ সময় এক মাস পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি থাকে।
তিনি জানান, আমি প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ আঁটি পাট ছাড়াতে পারি। ২৫ থেকে ৩০ আঁটি পাটগাছ থেকে ২ মণ পাটখড়ি হয়। প্রতিমণ পাটখড়ি বাজারে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করি। কাজেই আমি প্রতিদিন ১ হাজার টাকা আয় করি।

পাঁকা ইউনিয়নের পাট চাষি আইনাল হক বাসসকে বলেন, প্রতিবছরের তুলনায় এবছর পাটের ফলন ও দাম ভাল। আমি এ বছর ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। গত ৫ দিন থেকে ১০ থেকে ১২ জন নারী আমার জমির পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। তারা এ কাজ করে প্রতিদিন ১ হাজার টাকার সমমূল্যের পাটখড়ি পান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আতিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, জেলার গ্রামের নি¤œবিত্ত পরিবারের নারীরা পাট মৌসুমে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এ কাজ করে তারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, এ বছর আবহাওয়া পাট চাষের জন্য অনুকূলে ছিল। ফলে পাটের ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন, যাতে উন্নতমানের পাট উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০৪০ হেক্টর। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে ২৭২৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে বাড়তি আয় করছেন নারীরা

আপডেট সময় ১২:৪৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন, চাকরি, কৃষি, উদ্যোক্তা এবং হস্তশিল্পসহ অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে বাড়তি আয় করছেন গ্রামের নি¤œবিত্ত পরিবারের নারীরা।
চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পাটের অধিক ফলন ও দাম ভাল পাওয়ার কারণে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ, বিল, নদী, খাল, ডোবা ও জলাশয়ে ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত পাটের আঁশ ছাড়াতে দেখা যাচ্ছে নারী-পুরুষকে। পরিবারভিত্তিকভাবে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে অংশ নেয়ায় গ্রামীণ জনপদে এখন কর্মব্যস্ততার অংশ দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পানিতে জাগ দেয়া পাট গাছের আঁশ ছাড়াতে দেখা গেছে কৃষক-কৃষানীদের। কেউ পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার কেউ পাটের আঁশ ধুয়ে রোদে শুকানোর জন্য বাঁশের খুঁটিতে বিছিয়ে দিচ্ছেন। কৃষকদের সঙ্গে নারীরাও সমানতালে এ কাজে অংশ নিচ্ছেন। এবছর জেলায় প্রচুর পাট ফলনে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছেন কৃষক-কৃষানীরা।

জেলার নি¤œবিত্ত পরিবারের গ্রামীণ নারীরা পাটের আঁশ ছাড়ানো, শুকানো কাজ করে বাড়তি আয় করছেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আঁশ ছাড়িয়ে কেউ কেউ নগদ পারিশ্রমিক নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ পাটখড়ি (শুকনো পাট গাছ) নিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন।

পাটের আঁশ ছাড়ানো কাজে নিয়োজিত একাধিক নারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রতিদিন পাটের আঁশ ছাড়িয়ে দিয়ে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা মূল্যের সমান পাটখড়ি পেয়ে থাকেন।

দুই দিন ধরে জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে জানা গেছে, পাটের আঁশ ছাড়ানোর বিনিময়ে নারীরা মজুরি হিসেবে নগদ টাকার পরিবর্তে পাটখড়ি পান। পরে এসব পাটখড়ি হাটে বা পাইকারের কাছে বিক্রি করেন তারা।

একাধিক নারী জানান, পাট ছাড়াতে কৃষক আলাদা কোনো মজুরি দেন না। জাগ দেয়া পাটগাছ থেকে পাটের আঁশ আলাদা করে দিয়ে তারা পাটখড়ি নিয়ে যান। নিজেদের বাড়িতে সেগুলো শুকিয়ে আশপাশের হাটে বা পাইকারের কাছে বিক্রি করেন।

গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার জেলার সদর উপজেলার আলাতুলি, নারানপুর, রানিহাটি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর, উজিরপুর, মনাকশাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামের নি¤œবিত্ত পরিবারের বেশির ভাগ গৃহিণী দল বেঁধে খোলা জায়গায় বসে কৃষকের পাটগাছ থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন।

সদর উপজেলার আলাতুলি ইউনিয়নের জাহানা বেগমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, পাট মৌসুমে পাট ছাড়ানোর কাজ করে আমি প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করি।

শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের আনোয়ারা বেগম (৫০) জানান, প্রতিবছর এ সময় এক মাস পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি থাকে।
তিনি জানান, আমি প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ আঁটি পাট ছাড়াতে পারি। ২৫ থেকে ৩০ আঁটি পাটগাছ থেকে ২ মণ পাটখড়ি হয়। প্রতিমণ পাটখড়ি বাজারে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করি। কাজেই আমি প্রতিদিন ১ হাজার টাকা আয় করি।

পাঁকা ইউনিয়নের পাট চাষি আইনাল হক বাসসকে বলেন, প্রতিবছরের তুলনায় এবছর পাটের ফলন ও দাম ভাল। আমি এ বছর ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। গত ৫ দিন থেকে ১০ থেকে ১২ জন নারী আমার জমির পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। তারা এ কাজ করে প্রতিদিন ১ হাজার টাকার সমমূল্যের পাটখড়ি পান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আতিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, জেলার গ্রামের নি¤œবিত্ত পরিবারের নারীরা পাট মৌসুমে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এ কাজ করে তারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, এ বছর আবহাওয়া পাট চাষের জন্য অনুকূলে ছিল। ফলে পাটের ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন, যাতে উন্নতমানের পাট উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০৪০ হেক্টর। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে ২৭২৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।