ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা! Logo দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, পহরডাঙ্গা ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ঠাকুর আবুল আজম

লেবাননে বুলডোজার দিয়ে একের পর এক ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘হারেতজ’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য সেনাবাহিনী বেসামরিক ঠিকাদার নিয়োগ করেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু বুলডোজার অপারেটরকে দৈনিক ভিত্তিতে মজুরি দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেককে দেওয়া হচ্ছে কতগুলো ভবন তারা ধ্বংস করতে পেরেছে তার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে। আইডিএফ-এর মাঠ পর্যায়ের কমান্ডারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একেকটি গ্রামে ২০টির মতো খননযন্ত্র বা এক্সক্যাভেটর একযোগে এই ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নিচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের এই ধ্বংসাত্মক নীতিকে অভ্যন্তরীণভাবে ‘মানি প্লাও’ বা ‘অর্থের লাঙ্গল’ হিসেবে অভিহিত করছে। শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই কৌশলকে ‘ডোমিসাইড’ বা পরিকল্পিত আবাসন ধ্বংস হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো একটি এলাকাকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলা।
ইসরায়েলের বর্তমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এর আগে ঘোষণা করেছিলেন, গাজার রাফাহ ও বেইত হানুন মডেল অনুসরণ করে লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোর সমস্ত ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের ৬ লাখ মানুষকে তাঁদের বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হবে না।
এদিকে রবিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে তাদের নতুন মোতায়েন রেখার একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এই মানচিত্র অনুযায়ী, সীমান্ত থেকে প্রায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরতা পর্যন্ত এলাকা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের অধীনে থাকবে, যাকে তারা ‘বাফার জোন’ বা সুরক্ষা অঞ্চল হিসেবে তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে কয়েক ডজন লেবানিজ গ্রাম এখন সরাসরি ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
আইডিএফ মুখপাত্র অভিচাই আদ্রায়ি এক বিবৃতিতে দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের লিটানি নদী সংলগ্ন এলাকা বা নির্দিষ্ট সীমানার দক্ষিণে যেতে নিষেধ করেছেন। হিজবুল্লাহর কথিত তৎপরতার অজুহাত দেখিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে ফিরতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।
ধ্বংসযজ্ঞের এই চরম পর্যায়ে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে খ্রিস্টান প্রধান শহর ডেবলে একজন ইসরায়েলি সেনাকে হাতুড়ি দিয়ে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙতে দেখা গেছে।
আইডিএফ এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করে একে একজন সৈনিকের ব্যক্তিগত কর্মকা- বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। তবে সার্বিকভাবে দক্ষিণ লেবাননে যে পদ্ধতিগত ধ্বংসলীলা চলছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, এই গ্রামগুলোর বাসিন্দারা আদৌ কোনোদিন ফিরতে পারবেন কি না, কারণ তাঁদের ঘরবাড়ির অস্তিত্বই পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা

লেবাননে বুলডোজার দিয়ে একের পর এক ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল

আপডেট সময় ০৮:২৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘হারেতজ’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য সেনাবাহিনী বেসামরিক ঠিকাদার নিয়োগ করেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু বুলডোজার অপারেটরকে দৈনিক ভিত্তিতে মজুরি দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেককে দেওয়া হচ্ছে কতগুলো ভবন তারা ধ্বংস করতে পেরেছে তার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে। আইডিএফ-এর মাঠ পর্যায়ের কমান্ডারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একেকটি গ্রামে ২০টির মতো খননযন্ত্র বা এক্সক্যাভেটর একযোগে এই ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নিচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের এই ধ্বংসাত্মক নীতিকে অভ্যন্তরীণভাবে ‘মানি প্লাও’ বা ‘অর্থের লাঙ্গল’ হিসেবে অভিহিত করছে। শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই কৌশলকে ‘ডোমিসাইড’ বা পরিকল্পিত আবাসন ধ্বংস হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো একটি এলাকাকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলা।
ইসরায়েলের বর্তমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এর আগে ঘোষণা করেছিলেন, গাজার রাফাহ ও বেইত হানুন মডেল অনুসরণ করে লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোর সমস্ত ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের ৬ লাখ মানুষকে তাঁদের বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হবে না।
এদিকে রবিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে তাদের নতুন মোতায়েন রেখার একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এই মানচিত্র অনুযায়ী, সীমান্ত থেকে প্রায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরতা পর্যন্ত এলাকা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের অধীনে থাকবে, যাকে তারা ‘বাফার জোন’ বা সুরক্ষা অঞ্চল হিসেবে তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে কয়েক ডজন লেবানিজ গ্রাম এখন সরাসরি ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
আইডিএফ মুখপাত্র অভিচাই আদ্রায়ি এক বিবৃতিতে দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের লিটানি নদী সংলগ্ন এলাকা বা নির্দিষ্ট সীমানার দক্ষিণে যেতে নিষেধ করেছেন। হিজবুল্লাহর কথিত তৎপরতার অজুহাত দেখিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে ফিরতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।
ধ্বংসযজ্ঞের এই চরম পর্যায়ে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে খ্রিস্টান প্রধান শহর ডেবলে একজন ইসরায়েলি সেনাকে হাতুড়ি দিয়ে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙতে দেখা গেছে।
আইডিএফ এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করে একে একজন সৈনিকের ব্যক্তিগত কর্মকা- বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। তবে সার্বিকভাবে দক্ষিণ লেবাননে যে পদ্ধতিগত ধ্বংসলীলা চলছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, এই গ্রামগুলোর বাসিন্দারা আদৌ কোনোদিন ফিরতে পারবেন কি না, কারণ তাঁদের ঘরবাড়ির অস্তিত্বই পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান