ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা Logo জামালপুরে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বঞ্চিত ৫১ জন আমরণ অনশনে Logo খাল খনন নামে ৩০ লাখ টাকার বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ Logo অফিস বন্ধ করে সদস্যদের তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন সমিতির সভাপতি Logo টুঙ্গিপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান গাঁজা সেবনে ১ মাস, ইয়াবা সেবনে ৩ মাসের কারাদন্ড Logo গাইবান্ধায় প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে মানববন্ধন Logo কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ফ্রেন্ডশিপের ভেড়া বিতরণ Logo তাড়াশে অতিরিক্ত টাকা দিলেই মিলছে গুদামজাত সার Logo ধনবাড়ীতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান Logo ৯ প্রতারক গ্রেফতার, উদ্ধার নগদ টাকা-২০ সিম-১১ মোবাইল

যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন আপনার স্বামী ‘মাম্মাস বয়’

  • খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ১১:৫২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 27

দাম্পত্য জীবনে দুজন মানুষের স্বভাব, অভ্যাস ও পারিবারিক পরিবেশ একসঙ্গে মিশে নতুন একটি সংসার তৈরি হয়। তাই স্বামীর সঙ্গে তার মায়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং পরিবারের প্রতি টান, মায়ের যতœ নেওয়া কিংবা মায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যও হতে পারে।
তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নিজের সংসারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, আবেগ কিংবা দৈনন্দিন কাজেও অতিরিক্তভাবে মায়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় এমন অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সীমারেখা দুর্বল হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। তখনই সামনে আসে বহুল ব্যবহৃত শব্দ-‘মাম্মাস বয়’। যেভাবে বুঝবেন স্বামী অতিরিক্ত মায়ের ওপর নির্ভরশীল-
মায়ের রান্নার সঙ্গে সবকিছুর তুলনা
আপনি যত যতœ করেই রান্না করুন না কেন, স্বামী যদি প্রায় প্রতিটি খাবারের সঙ্গে মায়ের রান্নার তুলনা করেন, বিষয়টি খেয়াল করার মতো। ‘মায়ের হাতের রান্নার মতো হয়নি’-এমন মন্তব্য নিয়মিত শুনতে হলে বিরক্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। অবশ্য এক-দুবার মায়ের রান্নার প্রশংসা করলেই কাউকে ‘মাম্মাস বয়’ বলা যায় না।
নিজের কাজ মা করে দেন
বিয়ের পরও যদি স্বামীর জামা-কাপড় ধোয়া, গুছিয়ে দেওয়া কিংবা ছোটোখাটো ব্যক্তিগত কাজ নিয়মিত তার মা করে দেন এবং তিনিও তা নিজের দায়িত্ব হিসেবে নিতে না চান, তাহলে অতিরিক্ত নির্ভরতার ইঙ্গিত থাকতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে নিজের প্রয়োজনীয় কাজ নিজে করার অভ্যাস আত্মনির্ভরতারই অংশ।
মায়ের ফোন না এলে অস্বস্তি
মা কখন খেয়েছেন, কোথায় আছেন, কখন বাড়ি ফিরবেন এই নিয়ে নিয়মিত ফোনালাপ করা নিজে কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু মায়ের ফোন বা অনুমোদন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পারা কিংবা নিয়মিত যোগাযোগ না হলে অস্বস্তিতে ভোগা অতিরিক্ত নির্ভরতার লক্ষণ হতে পারে।
মায়ের সামনে আচরণ বদলে যায়
অফিসে বা বন্ধুদের সামনে আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ মায়ের সামনে গেলেই যদি পুরোপুরি শিশুর মতো নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, প্রতিটি বিষয়ে মায়ের অনুমোদন চান কিংবা নিজের দায়িত্ব মায়ের হাতে তুলে দেন, সেটিও লক্ষ করার মতো বিষয়।
সংসারে মায়ের হঠাৎ উপস্থিতি
মা মাঝেমধ্যেই না জানিয়ে আপনাদের সংসারে চলে আসেন এবং স্বামী বিষয়টি স্বাভাবিক মনে করেন-এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সীমারেখা নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন। বিশেষ করে আপনার অস্বস্তিকে যদি তিনি গুরুত্ব না দেন, তাহলে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।
মাকে খুশি রাখতে গিয়ে অপরাধবোধ
মাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারলে স্বামী যদি অতিরিক্ত অপরাধবোধে ভোগেন এবং সেই অপরাধবোধ থেকে নিজের স্ত্রী বা সংসারের প্রয়োজনকে বারবার উপেক্ষা করেন, সেটিও সম্পর্কের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
দাম্পত্যের ব্যক্তিগত কথা মাকে বলা
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া, ব্যক্তিগত সমস্যা কিংবা অন্তরঙ্গ বিষয় নিয়মিত মায়ের সঙ্গে আলোচনা করা এবং স্ত্রীর নামে অভিযোগ করা দাম্পত্যের গোপনীয়তা ও বিশ্বাসে আঘাত করতে পারে। সুস্থ সম্পর্কের জন্য কোন কথা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করা যাবে আর কোনটি দুজনের মধ্যেই থাকবে-সেই সীমারেখা থাকা জরুরি।
‘মাম্মাস বয়’ স্বামীর কিছু ইতিবাচক দিকও থাকতে পারে
মায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা মানেই একজন পুরুষ খারাপ স্বামী-এমনটা নয়। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া যতœ ও পারিবারিক মূল্যবোধ অনেক পুরুষের আচরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নারীর প্রতি শ্রদ্ধা
মায়ের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক থাকা একজন পুরুষকে নারীর অনুভূতি ও প্রয়োজন বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
ভালোবাসা প্রকাশের প্রবণতা
ছোটোখাটো যতœ, খোঁজ নেওয়া কিংবা সঙ্গীর প্রয়োজনের প্রতি মনোযোগী হওয়ার অভ্যাস থাকতে পারে।
দায়িত্ববোধ
পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়া এবং আপনজনের পাশে থাকার মানসিকতা অনেক ক্ষেত্রেই ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য। তবে এগুলো কোনো নিশ্চিত নিয়ম নয়, মানুষের ব্যক্তিত্ব ও পারিবারিক পরিবেশ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম।
যেখানে কোথায় সমস্যা তৈরি হয়
অতিরিক্ত নির্ভরতা দাম্পত্যে কয়েকটি সমস্যা তৈরি করতে পারে। যেমন: নিজের সংসারের সিদ্ধান্ত নিতে না পারা, স্ত্রীর মতামতের চেয়ে সবসময় মায়ের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া, ব্যক্তিগত বিষয় মায়ের কাছে প্রকাশ করা কিংবা স্বামী-স্ত্রীর ঝামেলায় নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি না দেখা। এতে স্ত্রী মনে করতে পারেন, তিনি যেন স্বামীর জীবনে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চললে ক্ষোভ, অভিমান ও দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
মনোবিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনায় সুস্থ পারিবারিক সম্পর্কের জন্য বাবা-মা ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের মধ্যেও উপযুক্ত সীমারেখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একইভাবে দাম্পত্যেও দুজনের ব্যক্তিগত পরিসর ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা জরুরি।
সহজ সমাধান
মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়, বরং সম্পর্কের ভারসাম্য তৈরি করাই মূল কথা। স্বামী-স্ত্রী দুজনের উচিত শান্তভাবে আলোচনা করে ঠিক করা-কোন সিদ্ধান্ত দুজন মিলে নেবেন, কোন বিষয় ব্যক্তিগত থাকবে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের কতটা সম্পৃক্ত করা হবে। মায়ের প্রতিও সম্মান থাকবে, আবার নিজের সংসারের প্রতিও দায়িত্ব থাকবে-এই ভারসাম্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ পর্যন্ত মাকে ভালোবাসা কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা তখনই, যখন সেই ভালোবাসার কারণে নিজের জীবনসঙ্গীর প্রতি দায়িত্ব, ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং দাম্পত্যের গোপনীয়তা বারবার উপেক্ষিত হয়।
তাই ‘মাম্মাস বয়’ তকমা দেওয়ার আগে একটি বিষয় দেখা জরুরি-স্বামীর মায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কি সুস্থ পারিবারিক ভালোবাসা, নাকি নিজের সংসারের ওপর প্রভাব ফেলছে এমন অতিরিক্ত নির্ভরতা? এই পার্থক্যটাই আসলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে, মিডিয়াম, দ্য ইকোনমিক টাইমস

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা

যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন আপনার স্বামী ‘মাম্মাস বয়’

আপডেট সময় ১১:৫২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাম্পত্য জীবনে দুজন মানুষের স্বভাব, অভ্যাস ও পারিবারিক পরিবেশ একসঙ্গে মিশে নতুন একটি সংসার তৈরি হয়। তাই স্বামীর সঙ্গে তার মায়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং পরিবারের প্রতি টান, মায়ের যতœ নেওয়া কিংবা মায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যও হতে পারে।
তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নিজের সংসারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, আবেগ কিংবা দৈনন্দিন কাজেও অতিরিক্তভাবে মায়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় এমন অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সীমারেখা দুর্বল হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। তখনই সামনে আসে বহুল ব্যবহৃত শব্দ-‘মাম্মাস বয়’। যেভাবে বুঝবেন স্বামী অতিরিক্ত মায়ের ওপর নির্ভরশীল-
মায়ের রান্নার সঙ্গে সবকিছুর তুলনা
আপনি যত যতœ করেই রান্না করুন না কেন, স্বামী যদি প্রায় প্রতিটি খাবারের সঙ্গে মায়ের রান্নার তুলনা করেন, বিষয়টি খেয়াল করার মতো। ‘মায়ের হাতের রান্নার মতো হয়নি’-এমন মন্তব্য নিয়মিত শুনতে হলে বিরক্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। অবশ্য এক-দুবার মায়ের রান্নার প্রশংসা করলেই কাউকে ‘মাম্মাস বয়’ বলা যায় না।
নিজের কাজ মা করে দেন
বিয়ের পরও যদি স্বামীর জামা-কাপড় ধোয়া, গুছিয়ে দেওয়া কিংবা ছোটোখাটো ব্যক্তিগত কাজ নিয়মিত তার মা করে দেন এবং তিনিও তা নিজের দায়িত্ব হিসেবে নিতে না চান, তাহলে অতিরিক্ত নির্ভরতার ইঙ্গিত থাকতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে নিজের প্রয়োজনীয় কাজ নিজে করার অভ্যাস আত্মনির্ভরতারই অংশ।
মায়ের ফোন না এলে অস্বস্তি
মা কখন খেয়েছেন, কোথায় আছেন, কখন বাড়ি ফিরবেন এই নিয়ে নিয়মিত ফোনালাপ করা নিজে কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু মায়ের ফোন বা অনুমোদন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পারা কিংবা নিয়মিত যোগাযোগ না হলে অস্বস্তিতে ভোগা অতিরিক্ত নির্ভরতার লক্ষণ হতে পারে।
মায়ের সামনে আচরণ বদলে যায়
অফিসে বা বন্ধুদের সামনে আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ মায়ের সামনে গেলেই যদি পুরোপুরি শিশুর মতো নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, প্রতিটি বিষয়ে মায়ের অনুমোদন চান কিংবা নিজের দায়িত্ব মায়ের হাতে তুলে দেন, সেটিও লক্ষ করার মতো বিষয়।
সংসারে মায়ের হঠাৎ উপস্থিতি
মা মাঝেমধ্যেই না জানিয়ে আপনাদের সংসারে চলে আসেন এবং স্বামী বিষয়টি স্বাভাবিক মনে করেন-এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সীমারেখা নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন। বিশেষ করে আপনার অস্বস্তিকে যদি তিনি গুরুত্ব না দেন, তাহলে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।
মাকে খুশি রাখতে গিয়ে অপরাধবোধ
মাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারলে স্বামী যদি অতিরিক্ত অপরাধবোধে ভোগেন এবং সেই অপরাধবোধ থেকে নিজের স্ত্রী বা সংসারের প্রয়োজনকে বারবার উপেক্ষা করেন, সেটিও সম্পর্কের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
দাম্পত্যের ব্যক্তিগত কথা মাকে বলা
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া, ব্যক্তিগত সমস্যা কিংবা অন্তরঙ্গ বিষয় নিয়মিত মায়ের সঙ্গে আলোচনা করা এবং স্ত্রীর নামে অভিযোগ করা দাম্পত্যের গোপনীয়তা ও বিশ্বাসে আঘাত করতে পারে। সুস্থ সম্পর্কের জন্য কোন কথা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করা যাবে আর কোনটি দুজনের মধ্যেই থাকবে-সেই সীমারেখা থাকা জরুরি।
‘মাম্মাস বয়’ স্বামীর কিছু ইতিবাচক দিকও থাকতে পারে
মায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা মানেই একজন পুরুষ খারাপ স্বামী-এমনটা নয়। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া যতœ ও পারিবারিক মূল্যবোধ অনেক পুরুষের আচরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নারীর প্রতি শ্রদ্ধা
মায়ের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক থাকা একজন পুরুষকে নারীর অনুভূতি ও প্রয়োজন বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
ভালোবাসা প্রকাশের প্রবণতা
ছোটোখাটো যতœ, খোঁজ নেওয়া কিংবা সঙ্গীর প্রয়োজনের প্রতি মনোযোগী হওয়ার অভ্যাস থাকতে পারে।
দায়িত্ববোধ
পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়া এবং আপনজনের পাশে থাকার মানসিকতা অনেক ক্ষেত্রেই ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য। তবে এগুলো কোনো নিশ্চিত নিয়ম নয়, মানুষের ব্যক্তিত্ব ও পারিবারিক পরিবেশ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম।
যেখানে কোথায় সমস্যা তৈরি হয়
অতিরিক্ত নির্ভরতা দাম্পত্যে কয়েকটি সমস্যা তৈরি করতে পারে। যেমন: নিজের সংসারের সিদ্ধান্ত নিতে না পারা, স্ত্রীর মতামতের চেয়ে সবসময় মায়ের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া, ব্যক্তিগত বিষয় মায়ের কাছে প্রকাশ করা কিংবা স্বামী-স্ত্রীর ঝামেলায় নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি না দেখা। এতে স্ত্রী মনে করতে পারেন, তিনি যেন স্বামীর জীবনে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চললে ক্ষোভ, অভিমান ও দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
মনোবিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনায় সুস্থ পারিবারিক সম্পর্কের জন্য বাবা-মা ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের মধ্যেও উপযুক্ত সীমারেখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একইভাবে দাম্পত্যেও দুজনের ব্যক্তিগত পরিসর ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা জরুরি।
সহজ সমাধান
মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়, বরং সম্পর্কের ভারসাম্য তৈরি করাই মূল কথা। স্বামী-স্ত্রী দুজনের উচিত শান্তভাবে আলোচনা করে ঠিক করা-কোন সিদ্ধান্ত দুজন মিলে নেবেন, কোন বিষয় ব্যক্তিগত থাকবে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের কতটা সম্পৃক্ত করা হবে। মায়ের প্রতিও সম্মান থাকবে, আবার নিজের সংসারের প্রতিও দায়িত্ব থাকবে-এই ভারসাম্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ পর্যন্ত মাকে ভালোবাসা কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা তখনই, যখন সেই ভালোবাসার কারণে নিজের জীবনসঙ্গীর প্রতি দায়িত্ব, ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং দাম্পত্যের গোপনীয়তা বারবার উপেক্ষিত হয়।
তাই ‘মাম্মাস বয়’ তকমা দেওয়ার আগে একটি বিষয় দেখা জরুরি-স্বামীর মায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কি সুস্থ পারিবারিক ভালোবাসা, নাকি নিজের সংসারের ওপর প্রভাব ফেলছে এমন অতিরিক্ত নির্ভরতা? এই পার্থক্যটাই আসলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে, মিডিয়াম, দ্য ইকোনমিক টাইমস