ঢাকা ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি ও ধানের ক্ষেত বিলীন

তিস্তা হামার সঊগ শ্যাষ করি দিছে। ছাওয়া পোয়াক নিয়া এলা মানষের জমিত বাড়ি করা নাগছে। সবায় আসি খালি নাম লেখি নিয়া যায় কাও আর ভাঙ্গনের জন্য কিছু করে না- এভাবেই কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিল বিধবা তফিয়া(৫০) গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙ্গনে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা চল্লিশ সাল এলাকায় বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলের খেত। গত কয়েকদিনের ভাঙ্গনে এলাকার ১২ টি পরিবারের বাড়িঘর কয়েক’শ বিঘা জমির আমন খেত তিস্তায় বিলী হয়েছে। ভাঙ্গন হুমকি মুখে রয়েছে আরো ৭ পরিবারের বাড়িঘর। লোকজন ভাঙন আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু সরিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন শুরু হলেও তা ঠেকাতে এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীর পাড় ভেঙে পড়ছে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলোর কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ শেষ মুহূর্তে ঘর রক্ষার চেষ্টা করছেন। তিস্তায় ভাঙ্গছে ধানের খেত ও আবাদি জমি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি তিস্তার পানি বাড়ার পর স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। তিস্তা সেতু দিয়ে প্রবাহিত পানি তীব্র বেগে তিস্তা ডানতীর বাঁধে আঘাত পেয়ে পানির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন একটি চ্যানেল তৈরি করে চল্লিশ সাল এলাকায় আঘাত করছে। ফলে চল্লিশ সাল এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়। এতে তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধের পুর্ব পাশে এলাকাবাসীর উদ্যোগে তৈরি একটি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত কয়েক দিনে এনামুল, মোন্নাফ, নুর ইসলাম, মতিয়ার, আহাদ আলী, জহুরা, মজমুল,আব্দুল, তফিয়া,আলী হোসেন, শরিফুল,রাশেদুল, গোলাপীর বাড়িঘর তিস্তায় বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গন হুমকির মুখে রয়েছে নুর, জামাল, নজু মিয়া, সামাদ,নাজমুলসহ অনেকের বাড়িঘর। তাছাড়া তিস্তার ভাঙ্গনে মতিয়ারের ৪ একর, আলমের ৩ একর, মোন্নাফের ২ একর, আহাদের ৩ একর, নুর ইসলামের দেড় একরসহ কয়েক’শ একর জমির আমন খেত তিস্তায় বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শিকার সহিদুল জানান, কয়েক বছর ধরে চল্লিশ সাল চরে বসবাস করে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তাঁরা। এবারে ভাঙ্গনে তার ২ একর জমির আমন খেত বিলীন হয়েছে। এ অবস্থায় তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিধবা তফিয়া বেগম বলেন, তিস্তা হামার সঊগ শ্যাষ করি দিচ্ছে। ছাওয়া পোয়াক নিয়া এলা মানষের জমিত বাড়ি করা নাগছে। তিনি আরো বলেন, সবায় আসি খালি নাম লেখি নিয়া যায় কাও আর ভাঙ্গনের জন্য কিছু করে না। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, কয়েক দিন ধরে চল্লিশ সাল এলাকায় ভাঙন চলছে। বেশ কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘর ও জমি ভেঙে গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, তিস্তার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আগে শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। নতুন করে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদেরও সহায়তা দেওয়া হবে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, আপতত জরুরী কাজের জন্য বরাদ্দ নেই। তবে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি ও ধানের ক্ষেত বিলীন

আপডেট সময় ০৯:০৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিস্তা হামার সঊগ শ্যাষ করি দিছে। ছাওয়া পোয়াক নিয়া এলা মানষের জমিত বাড়ি করা নাগছে। সবায় আসি খালি নাম লেখি নিয়া যায় কাও আর ভাঙ্গনের জন্য কিছু করে না- এভাবেই কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিল বিধবা তফিয়া(৫০) গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙ্গনে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা চল্লিশ সাল এলাকায় বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলের খেত। গত কয়েকদিনের ভাঙ্গনে এলাকার ১২ টি পরিবারের বাড়িঘর কয়েক’শ বিঘা জমির আমন খেত তিস্তায় বিলী হয়েছে। ভাঙ্গন হুমকি মুখে রয়েছে আরো ৭ পরিবারের বাড়িঘর। লোকজন ভাঙন আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু সরিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন শুরু হলেও তা ঠেকাতে এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীর পাড় ভেঙে পড়ছে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলোর কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ শেষ মুহূর্তে ঘর রক্ষার চেষ্টা করছেন। তিস্তায় ভাঙ্গছে ধানের খেত ও আবাদি জমি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি তিস্তার পানি বাড়ার পর স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। তিস্তা সেতু দিয়ে প্রবাহিত পানি তীব্র বেগে তিস্তা ডানতীর বাঁধে আঘাত পেয়ে পানির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন একটি চ্যানেল তৈরি করে চল্লিশ সাল এলাকায় আঘাত করছে। ফলে চল্লিশ সাল এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়। এতে তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধের পুর্ব পাশে এলাকাবাসীর উদ্যোগে তৈরি একটি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত কয়েক দিনে এনামুল, মোন্নাফ, নুর ইসলাম, মতিয়ার, আহাদ আলী, জহুরা, মজমুল,আব্দুল, তফিয়া,আলী হোসেন, শরিফুল,রাশেদুল, গোলাপীর বাড়িঘর তিস্তায় বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গন হুমকির মুখে রয়েছে নুর, জামাল, নজু মিয়া, সামাদ,নাজমুলসহ অনেকের বাড়িঘর। তাছাড়া তিস্তার ভাঙ্গনে মতিয়ারের ৪ একর, আলমের ৩ একর, মোন্নাফের ২ একর, আহাদের ৩ একর, নুর ইসলামের দেড় একরসহ কয়েক’শ একর জমির আমন খেত তিস্তায় বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শিকার সহিদুল জানান, কয়েক বছর ধরে চল্লিশ সাল চরে বসবাস করে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তাঁরা। এবারে ভাঙ্গনে তার ২ একর জমির আমন খেত বিলীন হয়েছে। এ অবস্থায় তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিধবা তফিয়া বেগম বলেন, তিস্তা হামার সঊগ শ্যাষ করি দিচ্ছে। ছাওয়া পোয়াক নিয়া এলা মানষের জমিত বাড়ি করা নাগছে। তিনি আরো বলেন, সবায় আসি খালি নাম লেখি নিয়া যায় কাও আর ভাঙ্গনের জন্য কিছু করে না। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, কয়েক দিন ধরে চল্লিশ সাল এলাকায় ভাঙন চলছে। বেশ কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘর ও জমি ভেঙে গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, তিস্তার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আগে শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। নতুন করে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদেরও সহায়তা দেওয়া হবে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, আপতত জরুরী কাজের জন্য বরাদ্দ নেই। তবে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।