ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

অক্টোবরে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি করবে বিমান : মিল্লাত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার জন্য আগামী অক্টোবরে চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি স্বাক্ষর হবে।’
মন্ত্রী বলেন, এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলো ২০৩৩ সাল থেকে দেশে আসা শুরু করতে পারে। সরবরাহ ২০৩৬ অথবা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে উড়োজাহাজ পাওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই সরকার কয়েক বছর আগেই উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিচ্ছে।
মিল্লাত বলেন, তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে বিমান আরও ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, আগের চুক্তির আওতায় প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে সরবরাহের কথা রয়েছে। বিমান এর আগে অন্তত একটি উড়োজাহাজ ২০২৭ অথবা ২০২৮ সালে পাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। বাকি উড়োজাহাজগুলো ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজের দাম পড়বে প্রায় ২৭০ কোটি মার্কিন ডলার। তবে একসঙ্গে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না; উড়োজাহাজ সরবরাহের সময় অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৭টি বোয়িং উড়োজাহাজ রয়েছে এবং কোনো এয়ারবাস উড়োজাহাজ নেই। উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপের অভিযোগ নাকচ করে মিল্লাত বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো বিমানের সক্ষমতা বাড়ানো এবং যেসব রুটে বর্তমান সেবার তুলনায় চাহিদা বেশি, সেসব রুটে আরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করা।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য এমন একটি বাজার, যেখানে আরও উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে বিমান সেখানে ফ্লাইট বাড়াতে পারে। এ ছাড়া বিমান সিডনিতে ফ্লাইট চালু এবং জাপানে দ্বিতীয় ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ও বিবেচনা করছে। পাশাপাশি এভিয়েশন অডিট সম্পন্ন হওয়ার পর নিউইয়র্কে বিমানের ফ্লাইট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার বহর সম্প্রসারণ করা হলে বিমানে আরও বেশি বাংলাদেশি যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে এবং তাদের ব্যয়ের একটি বড় অংশ দেশের ভেতরে রাখা যাবে।
প্রস্তাবিত এয়ারবাস প্যাকেজে রয়েছে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ। চলতি বছর সই করা ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির সঙ্গে এয়ারবাসের প্রস্তাবিত ক্রয়াদেশ যুক্ত হবে।
২৫টি বোয়িংয়ের মধ্যে রয়েছে ১৩টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ১০টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। এপ্রিল মাসে সই করা প্রথম বোয়িং চুক্তিতে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার কথা ছিল। এরপর সেপ্টেম্বরে আরও ১১টি উড়োজাহাজের জন্য সম্পূরক চুক্তি সই করা হয়।
বোয়িংয়ের এসব ক্রয়াদেশ এবং প্রস্তাবিত এয়ারবাস ক্রয় মিলিয়ে বিমানের বহরে নতুন ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পাইপলাইন তৈরি হবে। এর মধ্যে দীর্ঘ দূরত্বের রুটের জন্য ১৯টি ওয়াইডবডি এবং আঞ্চলিক ও মধ্যম দূরত্বের রুটের জন্য ১৬টি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ থাকবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

অক্টোবরে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি করবে বিমান : মিল্লাত

আপডেট সময় ১০:২৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার জন্য আগামী অক্টোবরে চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি স্বাক্ষর হবে।’
মন্ত্রী বলেন, এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলো ২০৩৩ সাল থেকে দেশে আসা শুরু করতে পারে। সরবরাহ ২০৩৬ অথবা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে উড়োজাহাজ পাওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই সরকার কয়েক বছর আগেই উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিচ্ছে।
মিল্লাত বলেন, তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে বিমান আরও ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, আগের চুক্তির আওতায় প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে সরবরাহের কথা রয়েছে। বিমান এর আগে অন্তত একটি উড়োজাহাজ ২০২৭ অথবা ২০২৮ সালে পাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। বাকি উড়োজাহাজগুলো ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজের দাম পড়বে প্রায় ২৭০ কোটি মার্কিন ডলার। তবে একসঙ্গে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না; উড়োজাহাজ সরবরাহের সময় অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৭টি বোয়িং উড়োজাহাজ রয়েছে এবং কোনো এয়ারবাস উড়োজাহাজ নেই। উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপের অভিযোগ নাকচ করে মিল্লাত বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো বিমানের সক্ষমতা বাড়ানো এবং যেসব রুটে বর্তমান সেবার তুলনায় চাহিদা বেশি, সেসব রুটে আরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করা।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য এমন একটি বাজার, যেখানে আরও উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে বিমান সেখানে ফ্লাইট বাড়াতে পারে। এ ছাড়া বিমান সিডনিতে ফ্লাইট চালু এবং জাপানে দ্বিতীয় ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ও বিবেচনা করছে। পাশাপাশি এভিয়েশন অডিট সম্পন্ন হওয়ার পর নিউইয়র্কে বিমানের ফ্লাইট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার বহর সম্প্রসারণ করা হলে বিমানে আরও বেশি বাংলাদেশি যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে এবং তাদের ব্যয়ের একটি বড় অংশ দেশের ভেতরে রাখা যাবে।
প্রস্তাবিত এয়ারবাস প্যাকেজে রয়েছে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ। চলতি বছর সই করা ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির সঙ্গে এয়ারবাসের প্রস্তাবিত ক্রয়াদেশ যুক্ত হবে।
২৫টি বোয়িংয়ের মধ্যে রয়েছে ১৩টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ১০টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। এপ্রিল মাসে সই করা প্রথম বোয়িং চুক্তিতে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার কথা ছিল। এরপর সেপ্টেম্বরে আরও ১১টি উড়োজাহাজের জন্য সম্পূরক চুক্তি সই করা হয়।
বোয়িংয়ের এসব ক্রয়াদেশ এবং প্রস্তাবিত এয়ারবাস ক্রয় মিলিয়ে বিমানের বহরে নতুন ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পাইপলাইন তৈরি হবে। এর মধ্যে দীর্ঘ দূরত্বের রুটের জন্য ১৯টি ওয়াইডবডি এবং আঞ্চলিক ও মধ্যম দূরত্বের রুটের জন্য ১৬টি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ থাকবে।