ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী Logo আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষে কৃষক ময়েজ উদ্দিনের সাফল্য Logo সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন Logo জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার Logo ইলিশ প্রজননের নিষেধাজ্ঞায় পদ্মা-মেঘনা ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র ফাঁকা Logo সনদ-ক্রেস্ট বিতরণ ও মা সমাবেশে মুখরিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ Logo জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই পানি ব্যবস্থাপনা জরুরি : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo কালিয়ায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক Logo মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি

আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষে কৃষক ময়েজ উদ্দিনের সাফল্য

জেলার খানসামা উপজেলার পল্লীতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে কৃষক ময়েজ উদ্দিন সফলতা অর্জন করেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খরিপ-২/২০২৬-২৭ মৌসুমে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ করে তিনি লাভের সম্ভাবনা দেখছেন।
গত বুধবার সরেজমিনে জেলার খানসামা উপজেলা সীট আলোকডিহি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, মো. ময়েজ উদ্দিনের ২২ শতক জমির শিম ক্ষেত ফুল ও ফলে ভরে উঠেছে। তার জমিতে চাষ করা রবি শস্য মাচাজুড়ে ঝুলছে কচি শিম। পরিচর্যা, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক মো. ময়েজ উদ্দিন (৫৫)।
ময়েজ উদ্দিনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তার শিম চাষ দেখে একই এলাকার অন্য কৃষকরা গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তার সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে কৃষক মো. কাশেম আলী সহ ওই এলাকার আরও কয়েকজন
কৃষক চলতি মৌসুমে শিম চাষ করেছেন। এতে এলাকায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে বিকল্প ও লাভজনক সবজি চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ময়েজ উদ্দিন জানান, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বিকল্প ও লাভজনক ফসল চাষের চিন্তা থেকেই তিনি গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রকল্পের সহযোগিতায় ২২ শতক জমিতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ শুরু করেন। ভবিষ্যতে আরও জমিতে এই হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ করার পরিকল্পনা তার রয়েছে।
তিনি জানান, ২২ শতক জমিতে শিম চাষে এ পর্যন্ত তার প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বর্তমান ফলনের ধারাবাহিকতায় প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করার আশা করছেন তিনি।
জেলার খানসামা উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল বিন আমিন বলেন, কৃষক ‘ময়েজ উদ্দিনকে শিম ক্ষেতে নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতটি গ্রীষ্মকালীন সময়ে চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকের ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের শিমসহ সব ধরনের সবজি চাষে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে কম খরচে বেশি উৎপাদন ও লাভ করতে পারেন।’
জেলার খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বাসস’কে জানান, ‘জলবায়ু ও মৌসুমভেদে ফসলের বৈচিত্র্য আনা এবং একই জমিতে অধিকতর লাভজনক ফসল উৎপাদন করা যায়। আধুনিক কৃষি পদ্ধতিগত ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগ কৃষকদের ফসল উৎপাদনে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত জাত সম্পর্কে উৎসাহিত করা হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন উন্নত জাতের আর্লি-৪৫ শিম চাষের মতো উদ্যোগ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসস’কে বলেন, জেলা ১৩টি উপজেলাতে এবারে উন্নত জাতির সবজি আর্লি-৪৫ শিম চাষে কৃষি বিভাগ থেকে বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে কৃষি বিভাগের উদ্ভাবিত আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষে কৃষকরা অধিক লাভবান হয়েছেন।
তিনি বলেন, চলতি বছর রবি মৌসুমে আগাম আর্লি-৪৫ জাতের শিম জেলার সবগুলো উপজেলাতেই কিছু সংখ্যাক কৃষক চাষ করেছেন। আর্লি-৪৫ জাতের শিম খেতে খুবই সুস্বাদু এবং বাজারে গ্রাহকদের মাঝে চাহিদা রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই জাতের শিমের উৎপাদন ও ফলন খুবই ভালো হয়েছে। আগামীতে এই জাতের শিম চাষ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা করছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষে কৃষক ময়েজ উদ্দিনের সাফল্য

আপডেট সময় ০৮:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

জেলার খানসামা উপজেলার পল্লীতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে কৃষক ময়েজ উদ্দিন সফলতা অর্জন করেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খরিপ-২/২০২৬-২৭ মৌসুমে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ করে তিনি লাভের সম্ভাবনা দেখছেন।
গত বুধবার সরেজমিনে জেলার খানসামা উপজেলা সীট আলোকডিহি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, মো. ময়েজ উদ্দিনের ২২ শতক জমির শিম ক্ষেত ফুল ও ফলে ভরে উঠেছে। তার জমিতে চাষ করা রবি শস্য মাচাজুড়ে ঝুলছে কচি শিম। পরিচর্যা, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক মো. ময়েজ উদ্দিন (৫৫)।
ময়েজ উদ্দিনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তার শিম চাষ দেখে একই এলাকার অন্য কৃষকরা গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তার সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে কৃষক মো. কাশেম আলী সহ ওই এলাকার আরও কয়েকজন
কৃষক চলতি মৌসুমে শিম চাষ করেছেন। এতে এলাকায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে বিকল্প ও লাভজনক সবজি চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ময়েজ উদ্দিন জানান, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বিকল্প ও লাভজনক ফসল চাষের চিন্তা থেকেই তিনি গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রকল্পের সহযোগিতায় ২২ শতক জমিতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ শুরু করেন। ভবিষ্যতে আরও জমিতে এই হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ করার পরিকল্পনা তার রয়েছে।
তিনি জানান, ২২ শতক জমিতে শিম চাষে এ পর্যন্ত তার প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বর্তমান ফলনের ধারাবাহিকতায় প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করার আশা করছেন তিনি।
জেলার খানসামা উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল বিন আমিন বলেন, কৃষক ‘ময়েজ উদ্দিনকে শিম ক্ষেতে নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতটি গ্রীষ্মকালীন সময়ে চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকের ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের শিমসহ সব ধরনের সবজি চাষে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে কম খরচে বেশি উৎপাদন ও লাভ করতে পারেন।’
জেলার খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বাসস’কে জানান, ‘জলবায়ু ও মৌসুমভেদে ফসলের বৈচিত্র্য আনা এবং একই জমিতে অধিকতর লাভজনক ফসল উৎপাদন করা যায়। আধুনিক কৃষি পদ্ধতিগত ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগ কৃষকদের ফসল উৎপাদনে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত জাত সম্পর্কে উৎসাহিত করা হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন উন্নত জাতের আর্লি-৪৫ শিম চাষের মতো উদ্যোগ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসস’কে বলেন, জেলা ১৩টি উপজেলাতে এবারে উন্নত জাতির সবজি আর্লি-৪৫ শিম চাষে কৃষি বিভাগ থেকে বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে কৃষি বিভাগের উদ্ভাবিত আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষে কৃষকরা অধিক লাভবান হয়েছেন।
তিনি বলেন, চলতি বছর রবি মৌসুমে আগাম আর্লি-৪৫ জাতের শিম জেলার সবগুলো উপজেলাতেই কিছু সংখ্যাক কৃষক চাষ করেছেন। আর্লি-৪৫ জাতের শিম খেতে খুবই সুস্বাদু এবং বাজারে গ্রাহকদের মাঝে চাহিদা রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই জাতের শিমের উৎপাদন ও ফলন খুবই ভালো হয়েছে। আগামীতে এই জাতের শিম চাষ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা করছেন।