ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo উলিপুরে একটি ভাঙ্গা ব্রিজ, হাজারো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে Logo গ্রাম আদালতে বাড়ছে অভিযোগ স্বল্প খরচে ন্যায় বিচার পাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষ Logo ধর্মীয় ভিত্তিতে হিন্দু মুসলিম আলাদা করা যাবে না- আলি আসগার লবি Logo সুনামগঞ্জে বাণিজ্য মেলা এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন Logo শ্রীপুরে মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা Logo বগুড়ায় মেসার্স ফাহিম এন্টারপ্রাইজ এর ক্রাউন সিমেন্ট রিটেইল মিট প্রোগ্রাম ও বার্ষিক পুনর্মিলনী Logo বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালনাধিন সম্পূর্ণ প্লাষ্টিক দুষণমুক্ত পার্কটিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দশনার্র্থীদের আগমণ ভ্রমণপ্রেমীদের নিরিবিলি পর্যটনস্পট হিলভিউ পার্ক এন্ড ক্যাফে Logo দাগনভূঞার মাতুভূঞায় চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় বিএনপির একাধিক নেতা, মাঠে জামায়াতও Logo নানা আয়োজনে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত Logo বালিয়াকান্দিতে অনির্বাণ স্মার্ট একাডেমীর উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি প্রদান

তিস্তার পানি ওঠানামায় পাকা ধান নিয়ে চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা

উত্তরের তিস্তা বেষ্টিত ১৮০টি চরের কৃষক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কারণ, তিস্তা নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। পানির এমন ওঠানামায় রংপুর অঞ্চলের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত ১৮০টি চরাঞ্চলে পাকা ধান নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন কৃষকরা। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে পানি বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বক্কর সাইফুল ইসলাম বাসস’কে জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগ থেকে আগাম জাতের পাকা ধান কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে চরের কৃষকদের। পুরো চরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্র জানায়,পাঁচ জেলার ১৮০টি চরে এবার আমন চাষাবাদ হয়েছে ২২হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে। বাম্পার ফলন হয়েছে। তিস্তার পানি যদি উঠানামা না করে তাহলে কৃষকের মুখে অবশ্যই হাসি ফুটবে।
আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম বাসস’কে জানান, সাধারণত মধ্য অক্টোবরের পরে তিস্তার পানি উঠানামা করে। গেল বছরগুলোতে তিস্তার পানিতে তলিয়ে যায় পাকা ধান। ফলে বেকায়দায় পড়েন কৃষকরা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কৃষক এবারও লাভবান হবেন।
চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন চরের জমিতে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এসব জমির ধান কাটার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে তিস্তার পানির উচ্চতা ওঠানামা করায় উদ্বেগ বেড়েছে কৃষকদের মধ্যে। হঠাৎ পানি বাড়লে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকরা জানান, চরাঞ্চলের অনেক জমি নদীর কাছাকাছি ও নিচু। ফলে হঠাৎ পানি বেড়ে গেলে এসব জমি দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাকা ধান পানিতে ডুবে গেলে ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
হরিশ্বর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম বলেছেন, যখন পানির দরকার হয়, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার যখন ফসল ঘরে তোলার সময় আসে, তখন পানি বাড়লে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। কয়েক দিন পর ধান কাটার কথা। তার আগ পর্যন্ত আতঙ্কেই থাকতে হচ্ছে।
গদাই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেছেন, সারা বছর পরিশ্রম করে ধান ফলিয়েছি। এখন শুধু ঘরে তোলার অপেক্ষা। এই সময়ে নদীর পানি বেড়ে গেলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।
কৃষকদের দাবি, আমন ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত তিস্তার পানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিলে চরাঞ্চলের কৃষকদের দ্রুত সতর্ক করারও দাবি জানিয়েছেন। এতে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন কৃষকরা।
ভোটমারী চরের কৃষক সাহানুর রহমান বলেন, গেল বছর এই সময় তিস্তার পানিতে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির চরের জমির ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার তিনি চরে ৭ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ বাসস’কে জানিয়েছেন, তিস্তার চরাঞ্চলের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিলে তাদের আগাম সতর্ক করা হবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

উলিপুরে একটি ভাঙ্গা ব্রিজ, হাজারো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে

তিস্তার পানি ওঠানামায় পাকা ধান নিয়ে চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা

আপডেট সময় ০৬:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

উত্তরের তিস্তা বেষ্টিত ১৮০টি চরের কৃষক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কারণ, তিস্তা নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। পানির এমন ওঠানামায় রংপুর অঞ্চলের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত ১৮০টি চরাঞ্চলে পাকা ধান নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন কৃষকরা। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে পানি বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বক্কর সাইফুল ইসলাম বাসস’কে জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগ থেকে আগাম জাতের পাকা ধান কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে চরের কৃষকদের। পুরো চরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্র জানায়,পাঁচ জেলার ১৮০টি চরে এবার আমন চাষাবাদ হয়েছে ২২হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে। বাম্পার ফলন হয়েছে। তিস্তার পানি যদি উঠানামা না করে তাহলে কৃষকের মুখে অবশ্যই হাসি ফুটবে।
আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম বাসস’কে জানান, সাধারণত মধ্য অক্টোবরের পরে তিস্তার পানি উঠানামা করে। গেল বছরগুলোতে তিস্তার পানিতে তলিয়ে যায় পাকা ধান। ফলে বেকায়দায় পড়েন কৃষকরা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কৃষক এবারও লাভবান হবেন।
চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন চরের জমিতে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এসব জমির ধান কাটার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে তিস্তার পানির উচ্চতা ওঠানামা করায় উদ্বেগ বেড়েছে কৃষকদের মধ্যে। হঠাৎ পানি বাড়লে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকরা জানান, চরাঞ্চলের অনেক জমি নদীর কাছাকাছি ও নিচু। ফলে হঠাৎ পানি বেড়ে গেলে এসব জমি দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাকা ধান পানিতে ডুবে গেলে ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
হরিশ্বর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম বলেছেন, যখন পানির দরকার হয়, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার যখন ফসল ঘরে তোলার সময় আসে, তখন পানি বাড়লে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। কয়েক দিন পর ধান কাটার কথা। তার আগ পর্যন্ত আতঙ্কেই থাকতে হচ্ছে।
গদাই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেছেন, সারা বছর পরিশ্রম করে ধান ফলিয়েছি। এখন শুধু ঘরে তোলার অপেক্ষা। এই সময়ে নদীর পানি বেড়ে গেলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।
কৃষকদের দাবি, আমন ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত তিস্তার পানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিলে চরাঞ্চলের কৃষকদের দ্রুত সতর্ক করারও দাবি জানিয়েছেন। এতে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন কৃষকরা।
ভোটমারী চরের কৃষক সাহানুর রহমান বলেন, গেল বছর এই সময় তিস্তার পানিতে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির চরের জমির ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার তিনি চরে ৭ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ বাসস’কে জানিয়েছেন, তিস্তার চরাঞ্চলের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিলে তাদের আগাম সতর্ক করা হবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।