ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

সীতাকুন্ড জেলা পরিষদ খালটি দখল-দূষণে অস্তিত্ব হুমকির মুখে

সীতাকুন্ড পৌরসদরস্থ’ জেলা পরিষদ খালটি দখল-দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। প্রতিনিয়ত আবর্জনায় দিন দিন কমছে খালের গভীরত্ব ও প্রশস্থতা। বেদখল হয়ে যাচ্ছে খালের বিভিন্ন অংশ। খালের পাড়ে তাকালে মনে হয় সবাই যেন দখল ভরাট কিংবা ময়লা-আবর্জনা ফেলতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। পাড়েই তৈরি হচ্ছে কাঁচা-পাকা অবৈধ স্থাপনা। দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে দখলদারদের তালিকা। পৌরসভার দক্ষিণ বাইপাস সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী এ খালটি পৌরসদরের পানি নিষ্কাশণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসলেও সম্প্রতি দখল-দুষণ অব্যবস্থাপনায় সংকটে পড়ে দিন দিন পরিণত হচ্ছে সরু ড্রেনে। বর্ষামৌসুমে বুকে পানি থৈ-থৈ করলেও শুস্কমৌসুমে ময়লা-আর্বজনার বর্জ্যগুলো পঁচে-গলে খালের পানিতে উৎকট দূর্গন্ধ সৃষ্টি করে। স্বরূপ হারিয়ে যেন নীরবেই বাঁচার আকুতি জানিয়ে যাচ্ছে একসময় পানি নিষ্কাশণে প্রাণের সঞ্চার জাগানো এ খালটি। অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় দীর্ঘদিন যাবৎ খালের বর্জ্য ও মাটি অপসারণে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। দক্ষিণ মহাদেবপুর, হাসান গোমস্তা পাড়া এলাকার বাসিন্দা ছালেহ আহমদ মাস্টার বলেন, খালটি পানি নিষ্কাশণে সক্ষমতা হারানোয় বর্ষাকালে রাস্তা-ঘাট ও বসতবাড়ি বার বার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিচতলার বাসায় ভাড়াটিয়া পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বাসা বাড়ীর মালিকরা। এদিকে খালটি জেলা পরিষদের এখতিয়ারভূক্ত হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) স্বপ্রনোদিত ভাবে কিছুই করছে না। এক সময় দু‘পাড়ের কৃষক শুস্কমৌসুমে কৃষিকাজে খালের পানি ব্যবহার করে আসলেও সবকিছুই এখন সোনালী অতীত। আবাসিক এলাকার গৃহস্থালী বর্জ্য, বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোঁরা, কাঁচা-বাজার ও পৌরসদরস্থ বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর ফেলা বর্জ্য থেকে সৃষ্ট দূর্গদ্ধ জনসাধারণের গুরুতর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সৃষ্টি হতে হচ্ছে। সরেজমিনে দক্ষিণ বাজারের গনচৌশাগার সংলগ্ন খালে দেখা গেছে গৃহস্থালী বর্জ্য, ব্যবহৃত মাক্স, ইনজেকশন, সিরিজ, পঁচা পেয়াজ, ছেঁড়া কাপড়-ছোপড়, পলিথিন ও প্লাষ্টিক বর্জ্যে এ খাল যেন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় ছাড়াও মশার প্রজনন আখড়ায় পরিণত হয়েছে। মশার উৎপাত ও কামড়ে যদি ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে তাহলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন খাল-নালা ডাস্টবিন নয় বরং পানি চলাচলের পথ। দূর্ভাগ্যজনক যে, পৌরবাসীর একটি অংশ নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে অসচেতন ভাবে খালে ময়লা-আর্বজনা ফেলছে। তাতে র্দূগন্ধ ছড়িয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে খালের দু‘পাড় সংলগ্ন বসবাসরত পরিবারগুলো। হারিয়ে যাচ্ছে খালের গভীরত্ব ও পানি নিষ্কাশণের সক্ষমতা। ফলে বর্ষামৌসুমে জলাবদ্ধতাসহ বার বার প্লাবিত হচ্ছে দু‘পাড় সংলগ্ন বসতবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। ইউএনও অফিস সূত্রে জানা যায়, খালটির বিভিন্ন অংশ পাহাড়ি পলি মাটিতে ভরাট হওয়ায় বর্ষামৌসুমে পানি নিষ্কাশণে সমস্যা হচ্ছে। এ খালের মাটি অপসারনের কাজ প্রক্রিয়াধিন আছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

সীতাকুন্ড জেলা পরিষদ খালটি দখল-দূষণে অস্তিত্ব হুমকির মুখে

আপডেট সময় ০৩:৩২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সীতাকুন্ড পৌরসদরস্থ’ জেলা পরিষদ খালটি দখল-দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। প্রতিনিয়ত আবর্জনায় দিন দিন কমছে খালের গভীরত্ব ও প্রশস্থতা। বেদখল হয়ে যাচ্ছে খালের বিভিন্ন অংশ। খালের পাড়ে তাকালে মনে হয় সবাই যেন দখল ভরাট কিংবা ময়লা-আবর্জনা ফেলতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। পাড়েই তৈরি হচ্ছে কাঁচা-পাকা অবৈধ স্থাপনা। দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে দখলদারদের তালিকা। পৌরসভার দক্ষিণ বাইপাস সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী এ খালটি পৌরসদরের পানি নিষ্কাশণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসলেও সম্প্রতি দখল-দুষণ অব্যবস্থাপনায় সংকটে পড়ে দিন দিন পরিণত হচ্ছে সরু ড্রেনে। বর্ষামৌসুমে বুকে পানি থৈ-থৈ করলেও শুস্কমৌসুমে ময়লা-আর্বজনার বর্জ্যগুলো পঁচে-গলে খালের পানিতে উৎকট দূর্গন্ধ সৃষ্টি করে। স্বরূপ হারিয়ে যেন নীরবেই বাঁচার আকুতি জানিয়ে যাচ্ছে একসময় পানি নিষ্কাশণে প্রাণের সঞ্চার জাগানো এ খালটি। অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় দীর্ঘদিন যাবৎ খালের বর্জ্য ও মাটি অপসারণে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। দক্ষিণ মহাদেবপুর, হাসান গোমস্তা পাড়া এলাকার বাসিন্দা ছালেহ আহমদ মাস্টার বলেন, খালটি পানি নিষ্কাশণে সক্ষমতা হারানোয় বর্ষাকালে রাস্তা-ঘাট ও বসতবাড়ি বার বার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিচতলার বাসায় ভাড়াটিয়া পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বাসা বাড়ীর মালিকরা। এদিকে খালটি জেলা পরিষদের এখতিয়ারভূক্ত হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) স্বপ্রনোদিত ভাবে কিছুই করছে না। এক সময় দু‘পাড়ের কৃষক শুস্কমৌসুমে কৃষিকাজে খালের পানি ব্যবহার করে আসলেও সবকিছুই এখন সোনালী অতীত। আবাসিক এলাকার গৃহস্থালী বর্জ্য, বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোঁরা, কাঁচা-বাজার ও পৌরসদরস্থ বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর ফেলা বর্জ্য থেকে সৃষ্ট দূর্গদ্ধ জনসাধারণের গুরুতর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সৃষ্টি হতে হচ্ছে। সরেজমিনে দক্ষিণ বাজারের গনচৌশাগার সংলগ্ন খালে দেখা গেছে গৃহস্থালী বর্জ্য, ব্যবহৃত মাক্স, ইনজেকশন, সিরিজ, পঁচা পেয়াজ, ছেঁড়া কাপড়-ছোপড়, পলিথিন ও প্লাষ্টিক বর্জ্যে এ খাল যেন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় ছাড়াও মশার প্রজনন আখড়ায় পরিণত হয়েছে। মশার উৎপাত ও কামড়ে যদি ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে তাহলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন খাল-নালা ডাস্টবিন নয় বরং পানি চলাচলের পথ। দূর্ভাগ্যজনক যে, পৌরবাসীর একটি অংশ নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে অসচেতন ভাবে খালে ময়লা-আর্বজনা ফেলছে। তাতে র্দূগন্ধ ছড়িয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে খালের দু‘পাড় সংলগ্ন বসবাসরত পরিবারগুলো। হারিয়ে যাচ্ছে খালের গভীরত্ব ও পানি নিষ্কাশণের সক্ষমতা। ফলে বর্ষামৌসুমে জলাবদ্ধতাসহ বার বার প্লাবিত হচ্ছে দু‘পাড় সংলগ্ন বসতবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। ইউএনও অফিস সূত্রে জানা যায়, খালটির বিভিন্ন অংশ পাহাড়ি পলি মাটিতে ভরাট হওয়ায় বর্ষামৌসুমে পানি নিষ্কাশণে সমস্যা হচ্ছে। এ খালের মাটি অপসারনের কাজ প্রক্রিয়াধিন আছে।