ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন Logo কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন Logo দুর্গাপুরে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত Logo গলাচিপায় (সি-পি-পি) স্বেচ্ছা সেবক দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ Logo উখিয়ায় নলকূপের পাইপ দিয়ে গ্যাস নির্গমনের আগুন জ্বলবে আরো ১ সপ্তাহ, ২০০ মিটারের বাসিন্দাদের সরানোর পরামর্শ বাপেক্সের Logo কালীগঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: লুট হওয়া বৈদ্যুতিক সামগ্রী উদ্ধার, গ্রেফতার ২ Logo স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা সদস্য সফিকুল ইসলাম Logo ফুলতলায় বরণপাড়া বায়োগ্যাস পল্লী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি Logo টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য মিছিল Logo মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ

৪৬ বছর পর আবার আলোচনায় শহীদ জিয়ার ‘গঙ্গা ব্যারাজ’

ভারতের ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব থেকে বাংলাদেশের কৃষি সেক্টরকে রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়ে আশির দশকের গোড়ার দিকে তৎকালীন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর ওপর গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৮০ সালের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকারের একজন মন্ত্রী ‘গঙ্গা ব্যারাজ’ নামের ওই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেসময় ব্যারাজ নির্মাণের প্রাথমিক কাজও শুরু করা হয়।কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর প্রকল্পের কাজ থমকে যায়। ব্যারাজ নির্মাণে ভারতের বিরোধিতাসহ নানা কারণে পরবর্তীতে আর কোনো সরকারই এটি বাস্তবায়নে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের পুরো জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। তবে প্রকল্প এলাকায় সেইসময় তৈরি করা রেস্ট হাউজ আর ভিত্তিপ্রস্তরটি এখনো জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। এরই মধ্যে গোপন নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে প্রকল্পের বিভিন্ন মালামাল। তবে প্রকল্প এলাকায় কী কী মালামাল ছিল বা কী কী মালামাল চুরি হয়ে গেছে, তার প্রকৃত কোনো তথ্য নেই কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন, ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে। তবে সম্প্রতি প্রকল্পের জায়গায় অবৈধভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নোটিশ জারি করেছে।চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর ভেড়ামারায় গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের জায়গায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ভেড়ামারা মরফোলজি উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রকিবের সই করা ওই নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১৩ মে সরকার কর্তৃক গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বাস্তবায়িত হবে। সে কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন-৪২ বাহিরচর পশ্চিম মৌজায় অবস্থিত গঙ্গা ব্যারেজ রেস্ট হাউজসহ ওই জমি পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৭৫ সালে ভারত ফারাক্কা বাঁধ চালু করলে বাংলাদেশের পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলোয় শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমতে শুরু করে। প্রত্যক্ষভাবে এর প্রভাব গিয়ে পড়ে কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও বরিশাল অঞ্চলে। এর প্রভাবে একসময়ের খরস্রোতা নদীগুলো শুকিয়ে যেতে থাকে। কৃষিতে দেখা দেয় পানির সংকট। দক্ষিণাঞ্চলে বাড়তে থাকে লবণাক্ততা। সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোকে মরুকরণের হাত থেকে বাঁচাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৯৮০ সালের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন বিদ্যুৎ, পানিসম্পদ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী আনোয়ার-উল হক কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বাহিরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা। সেসময় প্রকল্পের জন্য কেনা হয় ১২ বিঘা জমি। সেখানে নির্মাণ করা হয় রেস্ট হাউজ। প্রাথমিক কাজ শুরু করতে আনা হয় বিভিন্ন সামগ্রী। সেসময় প্রকল্পের পেছনে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ও করা হয়।গঙ্গা ব্যারাজের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয় ছয় হাজার ৯৯০ ফুট। ভারতের ফারাক্কার বিকল্প বাঁধ বা অ্যান্টি ফারাক্কা হিসাবে গঙ্গা ব্যারাজে গেটের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় ১০০টি। ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৫ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট এসব গেটে পানির নির্গমন ক্ষমতা ধরা হয়েছিল ২৫ লাখ কিউসেক। একই সঙ্গে বিশাল জলধারা সৃষ্টি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও করা হয় এই প্রকল্পে।সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে নদীর তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের যে জমি নেওয়া হয়েছিল, তা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। মাঝামাঝি স্থানে ১৯৮০ সালে স্থাপন করা গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরটি দাঁড়িয়ে আছে। পাশেই সেসময় ‘গঙ্গা ব্যারাজ’ নামে নির্মাণ করা রেস্ট হাউজটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। আর পুরো জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। সেখানে প্রায় ৬০টি পরিবার বাড়ি করে বসবাস করছে।ব্যারাজ এলাকায় বাসিন্দারা জানান, এই জায়গায় জিয়াউর রহমান এসেছিলেন। তিনি এখানে ব্যারাজ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে আর ব্যারাজ তৈরি করা হয়নি। তবে এ জায়গার নাম হয়ে গেছে ‘ব্যারাজ পাড়া’। এখানে যারা বসবাস করছেন সবাই ভূমিহীন গরিব মানুষ। প্রায় দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তারা ব্যারাজের সরকারি জায়গায় বসবাস করছেন।আবার আলোচনায় গঙ্গা ব্যারাজদীর্ঘ ৪৬ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন তার বড় ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এটি নির্মিত হবে জিয়াউর রহমানের গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরত্বে পাংশার হাবাসপুর এলাকায়। নাম হবে ‘পদ্মা ব্যারাজ’। কিন্তু এতে খুশি নয় কুষ্টিয়াসহ এ অঞ্চলের মানুষ। তাদের দাবি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্থানে ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেই ভেড়ামারাতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হোক।ভেড়ামারার অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আইয়ুব আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান গঙ্গা ব্যারাজ বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একবার তিনি এখানে এসেছিলেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ব্যারাজ নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ তিনি চট্রগ্রামে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী কর্মকর্তার হাতে শহীদ হন। এরপর থেইে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে।’তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিলেন যে, এবার তার বাবার স্বপ্নের গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু এখন দেখছি ভেড়ামারার পরিবর্তে পাংশাতে হচ্ছে ব্যারাজ।’গঙ্গা ব্যারাজ বাস্তবায়ন কমিটির তৎকালীন সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা কুষ্টিয়া পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবের কারণে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিনি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বাহিরচরে এসেছিলেন। তিনি শহীদ হওয়ার পর ব্যারাজ নির্মাণকাজ থেমে যায়। তবে আমরা গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ করতে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে এসেছি। সেই আন্দোলনের ফসল হলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সাহসী পদক্ষেপ।’কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ দৌলা বলেন, ‘১৯৮০ সালে ভেড়ামারায় গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেসময় সেখানে জমি অধিগ্রহণসহ ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়েছিল। তবে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডেও কাছে বর্তমানে প্রকল্পটির কোনো নথি বা তথ্য নেই।’

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন

৪৬ বছর পর আবার আলোচনায় শহীদ জিয়ার ‘গঙ্গা ব্যারাজ’

আপডেট সময় ০৮:২২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব থেকে বাংলাদেশের কৃষি সেক্টরকে রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়ে আশির দশকের গোড়ার দিকে তৎকালীন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর ওপর গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৮০ সালের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকারের একজন মন্ত্রী ‘গঙ্গা ব্যারাজ’ নামের ওই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেসময় ব্যারাজ নির্মাণের প্রাথমিক কাজও শুরু করা হয়।কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর প্রকল্পের কাজ থমকে যায়। ব্যারাজ নির্মাণে ভারতের বিরোধিতাসহ নানা কারণে পরবর্তীতে আর কোনো সরকারই এটি বাস্তবায়নে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের পুরো জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। তবে প্রকল্প এলাকায় সেইসময় তৈরি করা রেস্ট হাউজ আর ভিত্তিপ্রস্তরটি এখনো জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। এরই মধ্যে গোপন নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে প্রকল্পের বিভিন্ন মালামাল। তবে প্রকল্প এলাকায় কী কী মালামাল ছিল বা কী কী মালামাল চুরি হয়ে গেছে, তার প্রকৃত কোনো তথ্য নেই কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন, ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে। তবে সম্প্রতি প্রকল্পের জায়গায় অবৈধভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নোটিশ জারি করেছে।চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর ভেড়ামারায় গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের জায়গায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ভেড়ামারা মরফোলজি উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রকিবের সই করা ওই নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১৩ মে সরকার কর্তৃক গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বাস্তবায়িত হবে। সে কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন-৪২ বাহিরচর পশ্চিম মৌজায় অবস্থিত গঙ্গা ব্যারেজ রেস্ট হাউজসহ ওই জমি পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৭৫ সালে ভারত ফারাক্কা বাঁধ চালু করলে বাংলাদেশের পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলোয় শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমতে শুরু করে। প্রত্যক্ষভাবে এর প্রভাব গিয়ে পড়ে কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও বরিশাল অঞ্চলে। এর প্রভাবে একসময়ের খরস্রোতা নদীগুলো শুকিয়ে যেতে থাকে। কৃষিতে দেখা দেয় পানির সংকট। দক্ষিণাঞ্চলে বাড়তে থাকে লবণাক্ততা। সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোকে মরুকরণের হাত থেকে বাঁচাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৯৮০ সালের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন বিদ্যুৎ, পানিসম্পদ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী আনোয়ার-উল হক কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বাহিরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা। সেসময় প্রকল্পের জন্য কেনা হয় ১২ বিঘা জমি। সেখানে নির্মাণ করা হয় রেস্ট হাউজ। প্রাথমিক কাজ শুরু করতে আনা হয় বিভিন্ন সামগ্রী। সেসময় প্রকল্পের পেছনে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ও করা হয়।গঙ্গা ব্যারাজের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয় ছয় হাজার ৯৯০ ফুট। ভারতের ফারাক্কার বিকল্প বাঁধ বা অ্যান্টি ফারাক্কা হিসাবে গঙ্গা ব্যারাজে গেটের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় ১০০টি। ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৫ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট এসব গেটে পানির নির্গমন ক্ষমতা ধরা হয়েছিল ২৫ লাখ কিউসেক। একই সঙ্গে বিশাল জলধারা সৃষ্টি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও করা হয় এই প্রকল্পে।সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে নদীর তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের যে জমি নেওয়া হয়েছিল, তা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। মাঝামাঝি স্থানে ১৯৮০ সালে স্থাপন করা গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরটি দাঁড়িয়ে আছে। পাশেই সেসময় ‘গঙ্গা ব্যারাজ’ নামে নির্মাণ করা রেস্ট হাউজটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। আর পুরো জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। সেখানে প্রায় ৬০টি পরিবার বাড়ি করে বসবাস করছে।ব্যারাজ এলাকায় বাসিন্দারা জানান, এই জায়গায় জিয়াউর রহমান এসেছিলেন। তিনি এখানে ব্যারাজ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে আর ব্যারাজ তৈরি করা হয়নি। তবে এ জায়গার নাম হয়ে গেছে ‘ব্যারাজ পাড়া’। এখানে যারা বসবাস করছেন সবাই ভূমিহীন গরিব মানুষ। প্রায় দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তারা ব্যারাজের সরকারি জায়গায় বসবাস করছেন।আবার আলোচনায় গঙ্গা ব্যারাজদীর্ঘ ৪৬ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন তার বড় ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এটি নির্মিত হবে জিয়াউর রহমানের গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরত্বে পাংশার হাবাসপুর এলাকায়। নাম হবে ‘পদ্মা ব্যারাজ’। কিন্তু এতে খুশি নয় কুষ্টিয়াসহ এ অঞ্চলের মানুষ। তাদের দাবি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্থানে ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেই ভেড়ামারাতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হোক।ভেড়ামারার অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আইয়ুব আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান গঙ্গা ব্যারাজ বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একবার তিনি এখানে এসেছিলেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ব্যারাজ নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ তিনি চট্রগ্রামে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী কর্মকর্তার হাতে শহীদ হন। এরপর থেইে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে।’তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিলেন যে, এবার তার বাবার স্বপ্নের গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু এখন দেখছি ভেড়ামারার পরিবর্তে পাংশাতে হচ্ছে ব্যারাজ।’গঙ্গা ব্যারাজ বাস্তবায়ন কমিটির তৎকালীন সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা কুষ্টিয়া পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবের কারণে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিনি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বাহিরচরে এসেছিলেন। তিনি শহীদ হওয়ার পর ব্যারাজ নির্মাণকাজ থেমে যায়। তবে আমরা গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ করতে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে এসেছি। সেই আন্দোলনের ফসল হলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সাহসী পদক্ষেপ।’কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ দৌলা বলেন, ‘১৯৮০ সালে ভেড়ামারায় গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেসময় সেখানে জমি অধিগ্রহণসহ ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়েছিল। তবে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডেও কাছে বর্তমানে প্রকল্পটির কোনো নথি বা তথ্য নেই।’