এআইয়ের ব্যবহার এখন আর শুধু ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা কিংবা ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশেষ ধরনের কম্পিউটারের মাধ্যমে নিজের ডেস্কেই বড় এআই মডেল পরিচালনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং নতুন এআই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব হচ্ছে। এ ধরনের কম্পিউটারের একটি উদাহরণ গিগাবাইটের ‘এআই টপ অ্যাটম’। এটি সাধারণ ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতো শুধু দৈনন্দিন কাজের জন্য নয়, বরং ব্যক্তিগত পর্যায়ে এআই কম্পিউটিংয়ের জন্য তৈরি।
এআই অ্যাটম পিসি কী?
গিগাবাইট এআই টপ অ্যাটম মূলত ছোট আকারের একটি ব্যক্তিগত এআই সুপারকম্পিউটার। এতে রয়েছে এনভিডিয়ার গ্রেস ব্ল্যাকওয়েল সুপারচিপ, যা প্রসেসিং ও গ্রাফিকসের পাশাপাশি জটিল এআই হিসাব-নিকাশ পরিচালনার জন্য তৈরি।
ডিভাইসটিতে রয়েছে ১২৮ জিবি ইউনিফায়েড মেমোরি এবং ১ পেটাফ্লপ এফপি৪ কম্পিউটিং সক্ষমতা। এতে সর্বোচ্চ ৪ টেরাবাইট স্টোরেজের সুবিধা রয়েছে। প্রস্তুতকারকের তথ্য অনুযায়ী, এটি সর্বোচ্চ ২০০ বিলিয়ন প্যারামিটারের এআই মডেল পরিচালনা করতে পারে।
সহজভাবে বললে, সাধারণ কম্পিউটারে আমরা এআইভিত্তিক বিভিন্ন সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করি। আর এআই অ্যাটমের মতো কম্পিউটারে ব্যবহারকারী নিজেই বড় এআই মডেল চালানো, পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো পরিমার্জনের কাজ করতে পারেন।
কম্পিউটারে এআই থাকলে কী সুবিধা?
১. ইন্টারনেট ছাড়াই এআই ব্যবহার
কম্পিউটারে প্রয়োজনীয় এআই মডেল ও সফটওয়্যার স্থাপন করা থাকলে অনেক কাজ সরাসরি নিজের ডিভাইসেই করা সম্ভব। ফলে প্রতিটি কাজের জন্য ক্লাউডভিত্তিক এআই সেবার ওপর নির্ভর করতে হয় না। তবে মডেল ডাউনলোড, হালনাগাদ বা অনলাইন সেবার জন্য ইন্টারনেট প্রয়োজন হতে পারে।
২. ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা
ব্যবসায়িক নথি, গবেষণার তথ্য কিংবা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে কাজ করার সময় নিরাপত্তা বড় বিষয়। স্থানীয়ভাবে এআই মডেল চালানোর সুবিধা থাকলে সংবেদনশীল তথ্য বাইরের ক্লাউড সার্ভারে পাঠানোর প্রয়োজন কমানো যায়। এতে তথ্যের ওপর ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে।
৩. বড় এআই মডেল নিয়ে গবেষণা
এআই গবেষক ও সফটওয়্যার নির্মাতারা নিজেদের কম্পিউটারেই বড় মডেল পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পরিমার্জনের কাজ করতে পারেন। নতুন এআই অ্যাপ্লিকেশন তৈরি এবং বিভিন্ন মডেলের সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও এটি কাজে আসতে পারে।
৪. তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যবসায়িক কাজে সুবিধা
বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন তৈরি, ভাষাভিত্তিক এআই টুল তৈরি এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তথ্যভান্ডার থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করার মতো কাজে এ ধরনের কম্পিউটার ব্যবহার করা যায়।
৫. ক্লাউড খরচের ওপর নির্ভরতা কমানো
নিয়মিত বড় এআই মডেল নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান বা গবেষকদের ক্লাউড কম্পিউটিং সেবায় উল্লেখযোগ্য খরচ হতে পারে। নিজস্ব এআই কম্পিউটার থাকলে নির্দিষ্ট কিছু কাজ স্থানীয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে ডিভাইস কেনা, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার খরচও বিবেচনায় রাখতে হবে।
এআই অ্যাটমের দাম কত?
বাংলাদেশের বাজারে স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের মাধ্যমে গিগাবাইটের এআই টপ অ্যাটম কম্পিউটার এসেছে। এর দাম প্রায় ১০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি এআই টপ ১০০ ডব্লিউ৮৮০ কম্পিউটারও এনেছে, যার দাম প্রায় ১৪ লাখ টাকা। গিগাবাইটের এআই টপ অ্যাটম মূলত এআই গবেষক, সফটওয়্যার নির্মাতা, তথ্য বিশ্লেষক এবং যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব এআই মডেল পরিচালনার প্রয়োজন রয়েছে, তাদের জন্য তৈরি।
এছাড়া গিগাবাইট ঈগল ৯এলজে ল্যাপটপও দেশের বাজারে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে রয়েছে এএমডি রাইজেন ৫ ৭৫৩৫এইচএস প্রসেসর, ৮ জিবি ডিডিআর৫ র্যাম, ৫১২ জিবি পিসিআই জেন৪ এসএসডি এবং ৬ জিবি মেমোরির এনভিডিয়া আরটিএক্স ৩০৫০ গ্রাফিকস কার্ড। ল্যাপটপটিতে রয়েছে ১৬ ইঞ্চির ডিসপ্লে, ১৬৫ হার্টজ রিফ্রেশ রেট, ব্যাকলিট কিবোর্ড ও টাইপ-সি পোর্ট। এর দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।
গিগাবাইটের কান্ট্রি ম্যানেজার খাজা মো. আনাস খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নতুন ডিভাইসগুলোতে কম্পিউটারেই এআইয়ের কাজ করার সুবিধা থাকায় ক্লাউডের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এআইভিত্তিক কাজ, গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ আরও সহজ হবে। ডিভাইসগুলো দেশের বিভিন্ন আইটি শপে পাওয়া যাচ্ছে।’
সংবাদ শিরোনাম
এআই অ্যাটম পিসি আসলে কী?
-
আইটি ডেস্ক: - আপডেট সময় ১০:১৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- 5
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























