ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ Logo রৌমারী রাজিবপুরে পূজামন্ডপ ও বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসন Logo দাগনভূঞার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে বহুমুখী হিসাব-নিকাশ, আলোচনায় ১১ নেতা Logo ফটিকছড়িতে সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারীর পবিত্র খোশরোজ শরীফ Logo কলমাকান্দায় ১০ নারী ক্ষমতায়ন ও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ গঠনে অবদানের স্বীকৃতি Logo দুর্গাপূজায় দিনাজপুর সীমান্তে ৪২ বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা, নজরদারিতে ৮৬ ম-প Logo গাসিকের উন্নয়ন কর্মকা-ে সক্রিয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাকঅবকাঠামো নির্মাণ, প্রকল্প তদারকি ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব Logo পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর টি-বাঁধ পরিদর্শন করেছেন Logo সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন ডাঃ সোহাগ Logo নাজিরপুরে অবৈধ সার বিক্রেতার দোকানে কৃষি কর্মকর্তার অভিযানের জেরে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তার উপরে হামলা, থানায় মামলা

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়েছে হাওরের ধানক্ষেত

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওরের কয়েক শত হেক্টর বোরো ধানের ক্ষেত। নদী উপচে পানি ঢুকছে হাওরে। দুই দিন আগে পানির নিচ থেকে আধাপাকা ধান কাটলেও সোমবার (২৮ এপ্রিল) বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাওরে ধান কাটা বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আরো কয়েকদিন এমন ভারী বৃষ্টি থাকবে। এ সময়ে ধান কেটে শেষ করতে না পারলে হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় আছেন কৃষকরা।
অষ্টগ্রাম হাওরের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেছেন, “এবার দেড় একর জমিতে ব্রি-৮৮ ধান চাষ করেছিলাম। ধান পেকে যাওয়ায় কাটতেও শুরু করেছি। মাত্র ৪০ শতাংশ ধান কাটা শেষ করেছি। এরইমধ্যে নদীতে পানি চলে আসায় আমার বেশিরভাগ ধান পানির নিচে চলে গেছে। এখন কোনোমতে কেটে নিয়ে যাচ্ছি। হয়তো রোদে শুকিয়ে নিজেরা খেতে পারব। কিন্তু, বাজারে বিক্রি করা যাবে না। এদিকে রয়েছে ঋণের বোঝা। কীভাবে এতসব সামলাবো, ভেবেই কূল পাচ্ছি না।”
আরেক কৃষক বেলাল ভূইয়া এবছর ধান চাষ করেছিলেন প্রায় ৩ একর জমিতে। তিনি বলেন, “এই হাওরে প্রায় ৫০০ একর ধানি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আমাদের জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণ হলো শিবপুর নদী। আরো কিছু নদী আছে, সেগুলোতে যদি হাওররক্ষা বাধ নির্মাণ করা হয়, তাহলে হয়তো আমরা ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারব। নয়তো কৃষকরা না খেয়ে মারা যাবে।”
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. সাদেকুর রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা বোরো ধানের ৫০ শতাংশ কাটা শেষ হয়েছে। ক্ষেতের ৮০ ভাগ ধান পাকলেই কাটার পরামর্শ দিয়েছিল কৃষি বিভাগ। এখন ৫০ শতাংশ ধান পাকলেই তা কাটার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু, কৃষকরা চেষ্টা করলেও তাতেও আর কোনো লাভ হচ্ছে না। কারণ, বৃষ্টির প্রভাবে কাটা যাচ্ছে না হাওরের ধান। আসলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কারো কিছুই করার থাকে না। যদি আবহাওয়া একটু ভালো হয়, দ্রুত বাকি ধানগুলোও কেটে ফেলতে হবে।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়েছে হাওরের ধানক্ষেত

আপডেট সময় ১১:৪৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওরের কয়েক শত হেক্টর বোরো ধানের ক্ষেত। নদী উপচে পানি ঢুকছে হাওরে। দুই দিন আগে পানির নিচ থেকে আধাপাকা ধান কাটলেও সোমবার (২৮ এপ্রিল) বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাওরে ধান কাটা বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আরো কয়েকদিন এমন ভারী বৃষ্টি থাকবে। এ সময়ে ধান কেটে শেষ করতে না পারলে হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় আছেন কৃষকরা।
অষ্টগ্রাম হাওরের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেছেন, “এবার দেড় একর জমিতে ব্রি-৮৮ ধান চাষ করেছিলাম। ধান পেকে যাওয়ায় কাটতেও শুরু করেছি। মাত্র ৪০ শতাংশ ধান কাটা শেষ করেছি। এরইমধ্যে নদীতে পানি চলে আসায় আমার বেশিরভাগ ধান পানির নিচে চলে গেছে। এখন কোনোমতে কেটে নিয়ে যাচ্ছি। হয়তো রোদে শুকিয়ে নিজেরা খেতে পারব। কিন্তু, বাজারে বিক্রি করা যাবে না। এদিকে রয়েছে ঋণের বোঝা। কীভাবে এতসব সামলাবো, ভেবেই কূল পাচ্ছি না।”
আরেক কৃষক বেলাল ভূইয়া এবছর ধান চাষ করেছিলেন প্রায় ৩ একর জমিতে। তিনি বলেন, “এই হাওরে প্রায় ৫০০ একর ধানি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আমাদের জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণ হলো শিবপুর নদী। আরো কিছু নদী আছে, সেগুলোতে যদি হাওররক্ষা বাধ নির্মাণ করা হয়, তাহলে হয়তো আমরা ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারব। নয়তো কৃষকরা না খেয়ে মারা যাবে।”
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. সাদেকুর রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা বোরো ধানের ৫০ শতাংশ কাটা শেষ হয়েছে। ক্ষেতের ৮০ ভাগ ধান পাকলেই কাটার পরামর্শ দিয়েছিল কৃষি বিভাগ। এখন ৫০ শতাংশ ধান পাকলেই তা কাটার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু, কৃষকরা চেষ্টা করলেও তাতেও আর কোনো লাভ হচ্ছে না। কারণ, বৃষ্টির প্রভাবে কাটা যাচ্ছে না হাওরের ধান। আসলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কারো কিছুই করার থাকে না। যদি আবহাওয়া একটু ভালো হয়, দ্রুত বাকি ধানগুলোও কেটে ফেলতে হবে।”