ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা! Logo দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, পহরডাঙ্গা ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ঠাকুর আবুল আজম

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়েছে হাওরের ধানক্ষেত

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওরের কয়েক শত হেক্টর বোরো ধানের ক্ষেত। নদী উপচে পানি ঢুকছে হাওরে। দুই দিন আগে পানির নিচ থেকে আধাপাকা ধান কাটলেও সোমবার (২৮ এপ্রিল) বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাওরে ধান কাটা বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আরো কয়েকদিন এমন ভারী বৃষ্টি থাকবে। এ সময়ে ধান কেটে শেষ করতে না পারলে হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় আছেন কৃষকরা।
অষ্টগ্রাম হাওরের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেছেন, “এবার দেড় একর জমিতে ব্রি-৮৮ ধান চাষ করেছিলাম। ধান পেকে যাওয়ায় কাটতেও শুরু করেছি। মাত্র ৪০ শতাংশ ধান কাটা শেষ করেছি। এরইমধ্যে নদীতে পানি চলে আসায় আমার বেশিরভাগ ধান পানির নিচে চলে গেছে। এখন কোনোমতে কেটে নিয়ে যাচ্ছি। হয়তো রোদে শুকিয়ে নিজেরা খেতে পারব। কিন্তু, বাজারে বিক্রি করা যাবে না। এদিকে রয়েছে ঋণের বোঝা। কীভাবে এতসব সামলাবো, ভেবেই কূল পাচ্ছি না।”
আরেক কৃষক বেলাল ভূইয়া এবছর ধান চাষ করেছিলেন প্রায় ৩ একর জমিতে। তিনি বলেন, “এই হাওরে প্রায় ৫০০ একর ধানি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আমাদের জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণ হলো শিবপুর নদী। আরো কিছু নদী আছে, সেগুলোতে যদি হাওররক্ষা বাধ নির্মাণ করা হয়, তাহলে হয়তো আমরা ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারব। নয়তো কৃষকরা না খেয়ে মারা যাবে।”
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. সাদেকুর রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা বোরো ধানের ৫০ শতাংশ কাটা শেষ হয়েছে। ক্ষেতের ৮০ ভাগ ধান পাকলেই কাটার পরামর্শ দিয়েছিল কৃষি বিভাগ। এখন ৫০ শতাংশ ধান পাকলেই তা কাটার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু, কৃষকরা চেষ্টা করলেও তাতেও আর কোনো লাভ হচ্ছে না। কারণ, বৃষ্টির প্রভাবে কাটা যাচ্ছে না হাওরের ধান। আসলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কারো কিছুই করার থাকে না। যদি আবহাওয়া একটু ভালো হয়, দ্রুত বাকি ধানগুলোও কেটে ফেলতে হবে।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়েছে হাওরের ধানক্ষেত

আপডেট সময় ১১:৪৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওরের কয়েক শত হেক্টর বোরো ধানের ক্ষেত। নদী উপচে পানি ঢুকছে হাওরে। দুই দিন আগে পানির নিচ থেকে আধাপাকা ধান কাটলেও সোমবার (২৮ এপ্রিল) বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাওরে ধান কাটা বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আরো কয়েকদিন এমন ভারী বৃষ্টি থাকবে। এ সময়ে ধান কেটে শেষ করতে না পারলে হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় আছেন কৃষকরা।
অষ্টগ্রাম হাওরের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেছেন, “এবার দেড় একর জমিতে ব্রি-৮৮ ধান চাষ করেছিলাম। ধান পেকে যাওয়ায় কাটতেও শুরু করেছি। মাত্র ৪০ শতাংশ ধান কাটা শেষ করেছি। এরইমধ্যে নদীতে পানি চলে আসায় আমার বেশিরভাগ ধান পানির নিচে চলে গেছে। এখন কোনোমতে কেটে নিয়ে যাচ্ছি। হয়তো রোদে শুকিয়ে নিজেরা খেতে পারব। কিন্তু, বাজারে বিক্রি করা যাবে না। এদিকে রয়েছে ঋণের বোঝা। কীভাবে এতসব সামলাবো, ভেবেই কূল পাচ্ছি না।”
আরেক কৃষক বেলাল ভূইয়া এবছর ধান চাষ করেছিলেন প্রায় ৩ একর জমিতে। তিনি বলেন, “এই হাওরে প্রায় ৫০০ একর ধানি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আমাদের জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণ হলো শিবপুর নদী। আরো কিছু নদী আছে, সেগুলোতে যদি হাওররক্ষা বাধ নির্মাণ করা হয়, তাহলে হয়তো আমরা ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারব। নয়তো কৃষকরা না খেয়ে মারা যাবে।”
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. সাদেকুর রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা বোরো ধানের ৫০ শতাংশ কাটা শেষ হয়েছে। ক্ষেতের ৮০ ভাগ ধান পাকলেই কাটার পরামর্শ দিয়েছিল কৃষি বিভাগ। এখন ৫০ শতাংশ ধান পাকলেই তা কাটার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু, কৃষকরা চেষ্টা করলেও তাতেও আর কোনো লাভ হচ্ছে না। কারণ, বৃষ্টির প্রভাবে কাটা যাচ্ছে না হাওরের ধান। আসলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কারো কিছুই করার থাকে না। যদি আবহাওয়া একটু ভালো হয়, দ্রুত বাকি ধানগুলোও কেটে ফেলতে হবে।”