ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ হাইকমিশনার Logo ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তর পরিদর্শন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের Logo ১৯ কার্গো এলএনজি আসছে ঘাটতির আশংকা নেই Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo বিএনপি সরকারের উদ্যোগ : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া Logo ফোন নীরবে যে ৪ কাজ করে Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ ঘর থেকেই শুরু হোক Logo মনের জটিল জট খোলার মতো ১০টি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়েছে হাওরের ধানক্ষেত

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওরের কয়েক শত হেক্টর বোরো ধানের ক্ষেত। নদী উপচে পানি ঢুকছে হাওরে। দুই দিন আগে পানির নিচ থেকে আধাপাকা ধান কাটলেও সোমবার (২৮ এপ্রিল) বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাওরে ধান কাটা বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আরো কয়েকদিন এমন ভারী বৃষ্টি থাকবে। এ সময়ে ধান কেটে শেষ করতে না পারলে হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় আছেন কৃষকরা।
অষ্টগ্রাম হাওরের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেছেন, “এবার দেড় একর জমিতে ব্রি-৮৮ ধান চাষ করেছিলাম। ধান পেকে যাওয়ায় কাটতেও শুরু করেছি। মাত্র ৪০ শতাংশ ধান কাটা শেষ করেছি। এরইমধ্যে নদীতে পানি চলে আসায় আমার বেশিরভাগ ধান পানির নিচে চলে গেছে। এখন কোনোমতে কেটে নিয়ে যাচ্ছি। হয়তো রোদে শুকিয়ে নিজেরা খেতে পারব। কিন্তু, বাজারে বিক্রি করা যাবে না। এদিকে রয়েছে ঋণের বোঝা। কীভাবে এতসব সামলাবো, ভেবেই কূল পাচ্ছি না।”
আরেক কৃষক বেলাল ভূইয়া এবছর ধান চাষ করেছিলেন প্রায় ৩ একর জমিতে। তিনি বলেন, “এই হাওরে প্রায় ৫০০ একর ধানি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আমাদের জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণ হলো শিবপুর নদী। আরো কিছু নদী আছে, সেগুলোতে যদি হাওররক্ষা বাধ নির্মাণ করা হয়, তাহলে হয়তো আমরা ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারব। নয়তো কৃষকরা না খেয়ে মারা যাবে।”
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. সাদেকুর রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা বোরো ধানের ৫০ শতাংশ কাটা শেষ হয়েছে। ক্ষেতের ৮০ ভাগ ধান পাকলেই কাটার পরামর্শ দিয়েছিল কৃষি বিভাগ। এখন ৫০ শতাংশ ধান পাকলেই তা কাটার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু, কৃষকরা চেষ্টা করলেও তাতেও আর কোনো লাভ হচ্ছে না। কারণ, বৃষ্টির প্রভাবে কাটা যাচ্ছে না হাওরের ধান। আসলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কারো কিছুই করার থাকে না। যদি আবহাওয়া একটু ভালো হয়, দ্রুত বাকি ধানগুলোও কেটে ফেলতে হবে।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়েছে হাওরের ধানক্ষেত

আপডেট সময় ১১:৪৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওরের কয়েক শত হেক্টর বোরো ধানের ক্ষেত। নদী উপচে পানি ঢুকছে হাওরে। দুই দিন আগে পানির নিচ থেকে আধাপাকা ধান কাটলেও সোমবার (২৮ এপ্রিল) বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাওরে ধান কাটা বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আরো কয়েকদিন এমন ভারী বৃষ্টি থাকবে। এ সময়ে ধান কেটে শেষ করতে না পারলে হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় আছেন কৃষকরা।
অষ্টগ্রাম হাওরের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেছেন, “এবার দেড় একর জমিতে ব্রি-৮৮ ধান চাষ করেছিলাম। ধান পেকে যাওয়ায় কাটতেও শুরু করেছি। মাত্র ৪০ শতাংশ ধান কাটা শেষ করেছি। এরইমধ্যে নদীতে পানি চলে আসায় আমার বেশিরভাগ ধান পানির নিচে চলে গেছে। এখন কোনোমতে কেটে নিয়ে যাচ্ছি। হয়তো রোদে শুকিয়ে নিজেরা খেতে পারব। কিন্তু, বাজারে বিক্রি করা যাবে না। এদিকে রয়েছে ঋণের বোঝা। কীভাবে এতসব সামলাবো, ভেবেই কূল পাচ্ছি না।”
আরেক কৃষক বেলাল ভূইয়া এবছর ধান চাষ করেছিলেন প্রায় ৩ একর জমিতে। তিনি বলেন, “এই হাওরে প্রায় ৫০০ একর ধানি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আমাদের জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণ হলো শিবপুর নদী। আরো কিছু নদী আছে, সেগুলোতে যদি হাওররক্ষা বাধ নির্মাণ করা হয়, তাহলে হয়তো আমরা ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারব। নয়তো কৃষকরা না খেয়ে মারা যাবে।”
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. সাদেকুর রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা বোরো ধানের ৫০ শতাংশ কাটা শেষ হয়েছে। ক্ষেতের ৮০ ভাগ ধান পাকলেই কাটার পরামর্শ দিয়েছিল কৃষি বিভাগ। এখন ৫০ শতাংশ ধান পাকলেই তা কাটার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু, কৃষকরা চেষ্টা করলেও তাতেও আর কোনো লাভ হচ্ছে না। কারণ, বৃষ্টির প্রভাবে কাটা যাচ্ছে না হাওরের ধান। আসলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কারো কিছুই করার থাকে না। যদি আবহাওয়া একটু ভালো হয়, দ্রুত বাকি ধানগুলোও কেটে ফেলতে হবে।”