ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ঢাকাসহ দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ কার্যক্রমের আওতায় সেনা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রামে প্রয়োজন অনুযায়ী সেনা মোতায়েন করা হবে। এ বিষয়ে সোমবার (২২ মে) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ও তাদের সমর্থকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে বেআইনি কর্মসূচি, মিছিল কিংবা শোডাউনের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জানমালের সুরক্ষার স্বার্থে উল্লিখিত এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির কিছু নেতা-কর্মী কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিতে পারেন বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য রয়েছে। সরকার এসব উদ্যোগকে আইনবহির্ভূত হিসেবে দেখছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণহত্যার দায়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আকস্মিক মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে, গাজীপুরে যুবলীগের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে গতকাল উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা প্রশাসনের নজরে এসেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে ধাপে ধাপে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আবারও কয়েকটি এলাকায় সেনা সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তী সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের মাধ্যমে ওই সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়।
এদিকে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
পুলিশ জানিয়েছে, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ দুই শতাধিক স্থানে বিশেষ তল্লাশি চৌকি বসানো হবে। এর পাশাপাশি রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে চেকপোস্ট ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি বিশেষ ইউনিটসহ ১৮ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় ০৯:৪৩:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ঢাকাসহ দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ কার্যক্রমের আওতায় সেনা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রামে প্রয়োজন অনুযায়ী সেনা মোতায়েন করা হবে। এ বিষয়ে সোমবার (২২ মে) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ও তাদের সমর্থকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে বেআইনি কর্মসূচি, মিছিল কিংবা শোডাউনের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জানমালের সুরক্ষার স্বার্থে উল্লিখিত এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির কিছু নেতা-কর্মী কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিতে পারেন বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য রয়েছে। সরকার এসব উদ্যোগকে আইনবহির্ভূত হিসেবে দেখছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণহত্যার দায়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আকস্মিক মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে, গাজীপুরে যুবলীগের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে গতকাল উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা প্রশাসনের নজরে এসেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে ধাপে ধাপে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আবারও কয়েকটি এলাকায় সেনা সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তী সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের মাধ্যমে ওই সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়।
এদিকে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
পুলিশ জানিয়েছে, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ দুই শতাধিক স্থানে বিশেষ তল্লাশি চৌকি বসানো হবে। এর পাশাপাশি রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে চেকপোস্ট ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি বিশেষ ইউনিটসহ ১৮ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।