ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সিএমএসএমই নারী উদ্যোক্তা ও রেমিট্যান্স গ্রাহকদের জন্য আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আয়োজন Logo কমিউনিটি ক্যাশ অ্যাপে BO অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা চালু করল কমিউনিটি ব্যাংক Logo তেল-চিনির সরবরাহ সঙ্কট ডিম-সবজিতেও বাড়তি দাম Logo নির্মাণ শেষের আগেই এশিয়ান হাইওয়ের ২৫০ মিটার এলাকাজুড়ে বড় ফাটল Logo সৌর বিদ্যুতের সেচে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে অনাবাদী জমি Logo দেশ-বিদেশে পাটের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার Logo অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনে অনিয়ম, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ কমবে : আইনমন্ত্রী Logo ভোটে নির্বাচিত সরকারকেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo কৃষিপণ্যকে প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার : কৃষিমন্ত্রী Logo জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

জটিলতায় আটকে ৩১ কোটি টাকার হাসপাতালের কাজ: চিকিৎসা ৫ লাখ মানুষ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে শুরু হওয়া নতুন হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ অর্থসংকট ও প্রশাসনিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৩১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৫৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার শাকিল হোসেন জানান, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হলেও প্রায় ৭ কোটি টাকার বিল এখনও বকেয়া রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পের ওপি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বিল আটকে আছে। পাওনা অর্থ না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা। এ বিষয়ে পিরোজপুরের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগে সহকারী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের ওপির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধি না পাওয়ায় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। পরে নতুন করে ডিপিপি অনুমোদন হয়েছে এবং নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পূর্বের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। প্রকল্পের আওতায় পাঁচতলা বিশিষ্ট ১০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, কনসালটেন্ট ল্যাবরেটরি, লিফট, ইউএইচএফপিও কোয়ার্টার, স্টাফ ডরমেটরি, অক্সিজেন ভবন, গ্যারেজ কোয়ার্টার, সাবস্টেশন, অভ্যন্তরীণ সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মূল ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাই পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো হাসপাতাল ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে একটি পুরোনো কোয়ার্টারে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সৌমিত্র সিনহা বলেন, অবকাঠামোগত সংকটের কারণে রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় স্থান ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে হাসপাতাল ভবনটি চালু করা না হলে উপজেলার লাখো মানুষকে চিকিৎসাসেবার জন্য জেলা সদর কিংবা বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হবে, যা তাদের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সিএমএসএমই নারী উদ্যোক্তা ও রেমিট্যান্স গ্রাহকদের জন্য আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আয়োজন

জটিলতায় আটকে ৩১ কোটি টাকার হাসপাতালের কাজ: চিকিৎসা ৫ লাখ মানুষ

আপডেট সময় ০৯:৩৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে শুরু হওয়া নতুন হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ অর্থসংকট ও প্রশাসনিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৩১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৫৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার শাকিল হোসেন জানান, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হলেও প্রায় ৭ কোটি টাকার বিল এখনও বকেয়া রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পের ওপি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বিল আটকে আছে। পাওনা অর্থ না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা। এ বিষয়ে পিরোজপুরের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগে সহকারী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের ওপির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধি না পাওয়ায় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। পরে নতুন করে ডিপিপি অনুমোদন হয়েছে এবং নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পূর্বের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। প্রকল্পের আওতায় পাঁচতলা বিশিষ্ট ১০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, কনসালটেন্ট ল্যাবরেটরি, লিফট, ইউএইচএফপিও কোয়ার্টার, স্টাফ ডরমেটরি, অক্সিজেন ভবন, গ্যারেজ কোয়ার্টার, সাবস্টেশন, অভ্যন্তরীণ সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মূল ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাই পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো হাসপাতাল ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে একটি পুরোনো কোয়ার্টারে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সৌমিত্র সিনহা বলেন, অবকাঠামোগত সংকটের কারণে রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় স্থান ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে হাসপাতাল ভবনটি চালু করা না হলে উপজেলার লাখো মানুষকে চিকিৎসাসেবার জন্য জেলা সদর কিংবা বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হবে, যা তাদের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।