ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আমের খোসায় তৈরি হচ্ছে চা Logo শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির ৯৩০তম সভা Logo স্পিকারের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ Logo স্পিকারের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo এলডিসি উত্তরণ টেকসই করতে পাঁচ পক্ষকে নিয়ে সংস্কার বাস্তবায়ন করবে সরকার Logo সিলেট অঞ্চলের শাখাসমূহ নিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের স্ট্র্যাটেজিক কনক্লেভ অনুষ্ঠিত Logo ঢাবি অক্সফোর্ড হলে রাবিকে ক্যামব্রিজ করতে চাই: রিজভী Logo তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে Logo গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে চড়া মূল্য দিতে হবে : বিরোধীদলীয় নেতা Logo অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে দক্ষিণ কোরিয়ায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল

চলে গেলেন দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। ফাইল ছবি

বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার গতকাল (সোমবার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী মেরী মনোয়ার, ছেলে সাদাত মনোয়ার ও মেয়ে নন্দিনী মনোয়ারসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাক্সক্ষী রেখে গেছেন।
মুস্তাফা মনোয়ারের ব্যক্তিগত সহকারী মো. রুবেল মিয়া বাসসকে জানান, সম্প্রতি নিউমোনিয়াসহ নানা শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর কয়েক দিন ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৯টায় বিটিভিতে নেওয়া হবে।
এছাড়া সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আর্ট কলেজসহ আরও কয়েকটি স্থানে তাঁর মরদেহ নেওয়ার ব্যাপারে পরিবারের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে গণমাধ্যমকে পরবর্তীতে অবহিত করা হবে বলেও জানান রুবেল মিয়া।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা ও জমিলা খাতুনের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার।
কলকাতা আর্ট কলেজে চারুকলায় পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে শিক্ষকতা, শিল্পচর্চা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিজেকে নিবেদিত করেন। চিত্রকলার পাশাপাশি বাংলাদেশের পাপেট শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’-এর পরিকল্পনা ও নির্মাণে বরেণ্য এই চিত্রশিল্পীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সময় সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদক ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে সুলতান স্বর্ণ পদকে ভূষিত হন।
মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সরকারি কর্মকর্তারা শোক প্রকাশ করে দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে মুস্তাফা মনোয়ারের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।
 রাষ্ট্রপতির শোক : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
গতকাল সোমবার এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের চিত্রকলা, পাপেট শিল্প, নাটক ও শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার।
তার মৃত্যু দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ, শিশুদের জন্য সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীলতা চর্চায় তার অনন্য অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর শোক: একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যু দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে এক বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, যা সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতি তাঁর অবদানকে সর্বদা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একইসঙ্গে তাঁর কাজ ও আদর্শ আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মরহুমের আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার সকালে মুস্তাফা মনোয়ার (৯০) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
চিত্রকলা, পাপেটশিল্প, শিশুতোষ অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য মুস্তাফা মনোয়ার দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।
মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রাম তার পৈতৃক নিবাস। প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান তিনি।
 মির্জা ফখরুলের শোক: বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। চিত্রকলার বিকাশ, দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল বিকাশে তার অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার শিল্পকর্ম, সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
তিনি আরো বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যু দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার প্রস্থান জাতির জন্য এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
মন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি জানান।

ডা. শফিকুর রহমানের গভীর শোক

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক মুস্তাফা মনোয়ারের ইন্তিকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

গতকাল সোমবার সকালে এক শোকবার্তায় তিনি এই গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। বিশেষ করে চিত্রকলা এবং শিশুতোষ সৃজনশীল অনুষ্ঠান নির্মাণে তাঁর অনন্য ও কিংবদন্তিতুল্য অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তিনি তাঁর সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমে এ দেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের অবর্তমানে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে অপূরণীয় ক্ষতি ও শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হবার নয়।

জামায়াত আমীর মরহুমের রূহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, অনুসারী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

 

ট্যাগস :

আমের খোসায় তৈরি হচ্ছে চা

চলে গেলেন দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার

আপডেট সময় ১২:১৭:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার গতকাল (সোমবার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী মেরী মনোয়ার, ছেলে সাদাত মনোয়ার ও মেয়ে নন্দিনী মনোয়ারসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাক্সক্ষী রেখে গেছেন।
মুস্তাফা মনোয়ারের ব্যক্তিগত সহকারী মো. রুবেল মিয়া বাসসকে জানান, সম্প্রতি নিউমোনিয়াসহ নানা শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর কয়েক দিন ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৯টায় বিটিভিতে নেওয়া হবে।
এছাড়া সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আর্ট কলেজসহ আরও কয়েকটি স্থানে তাঁর মরদেহ নেওয়ার ব্যাপারে পরিবারের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে গণমাধ্যমকে পরবর্তীতে অবহিত করা হবে বলেও জানান রুবেল মিয়া।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা ও জমিলা খাতুনের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার।
কলকাতা আর্ট কলেজে চারুকলায় পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে শিক্ষকতা, শিল্পচর্চা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিজেকে নিবেদিত করেন। চিত্রকলার পাশাপাশি বাংলাদেশের পাপেট শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’-এর পরিকল্পনা ও নির্মাণে বরেণ্য এই চিত্রশিল্পীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সময় সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদক ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে সুলতান স্বর্ণ পদকে ভূষিত হন।
মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সরকারি কর্মকর্তারা শোক প্রকাশ করে দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে মুস্তাফা মনোয়ারের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।
 রাষ্ট্রপতির শোক : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
গতকাল সোমবার এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের চিত্রকলা, পাপেট শিল্প, নাটক ও শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার।
তার মৃত্যু দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ, শিশুদের জন্য সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীলতা চর্চায় তার অনন্য অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর শোক: একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যু দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে এক বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, যা সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতি তাঁর অবদানকে সর্বদা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একইসঙ্গে তাঁর কাজ ও আদর্শ আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মরহুমের আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার সকালে মুস্তাফা মনোয়ার (৯০) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
চিত্রকলা, পাপেটশিল্প, শিশুতোষ অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য মুস্তাফা মনোয়ার দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।
মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রাম তার পৈতৃক নিবাস। প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান তিনি।
 মির্জা ফখরুলের শোক: বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। চিত্রকলার বিকাশ, দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল বিকাশে তার অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার শিল্পকর্ম, সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
তিনি আরো বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যু দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার প্রস্থান জাতির জন্য এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
মন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি জানান।

ডা. শফিকুর রহমানের গভীর শোক

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক মুস্তাফা মনোয়ারের ইন্তিকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

গতকাল সোমবার সকালে এক শোকবার্তায় তিনি এই গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। বিশেষ করে চিত্রকলা এবং শিশুতোষ সৃজনশীল অনুষ্ঠান নির্মাণে তাঁর অনন্য ও কিংবদন্তিতুল্য অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তিনি তাঁর সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমে এ দেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের অবর্তমানে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে অপূরণীয় ক্ষতি ও শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হবার নয়।

জামায়াত আমীর মরহুমের রূহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, অনুসারী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।