ঢাকার দ্বিতীয় শ্রম আদালত স্বাক্ষরহীন সমন ও আরজির ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ ও বিচার পরিচালনা করছে। গত ৫ জুলাই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির টারমিনেটকৃত কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়ের করা মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী ২৭/২০২৬ নং মামলা থেকে ৪২/২০২৬ নং মোট ১৬ টি মামলার চূড়ান্ত শুনানির তারিখে বাদী পক্ষ সময়ের আবেদন করেন এবং আদালত তা মনজুর করেন।
অতপর বিবাদী ইসলামী ব্যাংকের আইনজীবী জনাব সুলতান মাহমুদ হোসাইনী বলেন বিজ্ঞ আদালতের অবগতি ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মৌখিক ভাবে আবেদন করে বলেন যে মামলা গুলি অবৈধ এগুলি আর অগ্রসর হতে পারে না। এখন পর্যন্ত এই মামলার বৈধ সমন ইস্যু হয়নি। নমুনা হিসেবে দ্বিতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান রাজিয়া সুলতানা কে ৪১ ও ৪২/ ২০২৬ সনের দুটি মামলার সমন এবং আর্জির প্রথম পাতা ফটো কপি বিজ্ঞ আদালতের মাননীয় জজের হাতে তুলে দেন। তিনি দেখালেন যে সমনের কপিতে কারো কোন স্বাক্ষর ও সীলমোহর নাই এবং আরজির কপিতে তারিখ আছে কিন্তু কে তারিখ দিল নাম, স্বাক্ষর ও সীলমোহর নাই।
প্রশ্ন হলো কে মামলা গ্রহণ করল, কে সমন ইস্যু করলো তার কোন পরিচয় নাই, তাহলে এই মামলা নিয়ে কোর্ট কিভাবে অগ্রসর হতে পারে?
এমন তো হতে পারে কর্মকর্তগণ মামলাটি গ্রহণ করেন নাই, অন্য কোন ব্যক্তি সই স্বাক্ষর ও পরিচয় ছাড়া অবৈধ মামলাগুলির এভাবে নোটিশ করেছে। যদি টিকে গেলে তো জিতে গেল, আর ধরা খাইলে কোর্টের কেউ স্বাক্ষর করে নাই। অতএব কোর্টের কেউ দায়ী হবেনা মর্মে পরিকল্পিত ভাবেই করেছে।
যেভাবে ইতোপূর্বে দেখেছি উচ্চ আদালতের বিচারপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে জামিনের আদেশ বের করে আসামি জেল খানা থেকে মূক্ত হয়েছে।
আমরা তো পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে দেখেছি রংপুরের সিভিল সার্জনের ড্রাইভার রোগীর পেট কেটে অপারেশন করেছে।
আপনার কোর্টের কোন লোকের যোগসাজশে এরকম হয়ে থাকতে পারে। যিনি এগুলি পাঠিয়েছেন তার এখতিয়ার ছিলনা, তার পদবী এমন যে তার কোন এখতিয়ার নাই এবং অফিসিয়ালি সীলমোহরাংকিত করে স্বাক্ষর করার কোন অধিকার, দায়িত্ব ও এখতিয়ার ছিলনা বলে এ সকল অপকর্ম আদালতে চলছে।
এ অবস্থায় মাননীয় বিচারক রাজিয়া সুলতানা বলেন যে আপনি তো লিখিত জবাব দিয়েছেন, এখন একথা বলছেন কেন?
জবাবে সুলতান মাহমুদ হোসাইনী বলেন যে অবৈধ মামলার কার্যক্রম যতই প্রসেস অগ্রগতি হোকনা কেন, শুরু থেকে অবৈধ থাকলে পরবর্তীতে তা বৈধ হতে পারে না।
আপনি তো ন্যায় বিচারক, ন্যায় বিচার করার জন্য আপনি যে কোন পর্যায়ে আপনার এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারেন অর্ডার ১৩ এর বিধি ৩ অনুযায়ী।
এই বিধি তে বলা হয়েছে যে “ মামলার যেই কোন পর্যায়ে আদালত যদি মনে করে যে, কোন একটি দলিল অপ্রাসঙ্গিক কিংবা অন্যভাবে অগ্রহণযোগ্য,
তবে অগ্রাহ্যের হেতু রেকর্ড পূর্বক আদালত উক্ত দলিল অগ্রাহ্য করতে পারবে।”
যেহতু মামলাগুলি আইনত ও তামাদি দ্বারা বারিত মামলা, আদালতের কর্মচারীদের যোগসাজসের মামলা বলে সন্দেহ হয়, এজন্য মামলাগুলো গৃহীত ও নিবন্ধিত হয়নি মর্মে বাতিল ঘোষনা করতে পারেন। আপনার কাছে ন্যায় বিচার আশা করছি।
আদালতের নথিতে সমন ঠিক আছে বলার পর
আদালতের অনুমতি নিয়ে আদালতের ফাইল নিয়ে চেক করে এডভোকেট সুলতান মাহমুদ হোসাইনী মাননীয় বিচারক কে দেখালেন যে আপনার কোর্টের ফাইলের সমনেও কাহারো কোন সীলমোহর ও স্বাক্ষর নাই, আর্জির কপিতেও সীলমোহর স্বাক্ষর নাই। বিজ্ঞ আদালত কিসের ভিত্তিতে মামলা পরিচালনা করবেন?
বিজ্ঞ জজ জিজ্ঞেস করলেন যে আগে বলেন নি কেন?
এডভোকেট সুলতান মাহমুদ হোসাইনী বলেন যে আগে বলিনি ইচ্ছে করেই, মামলার এই পর্যায়ে উদঘাটিত রেকর্ড উপস্থাপন করার জন্য। দ্বিতীয় শ্রম আদালতের
মাননীয় চেয়ারম্যান জজ রাজিয়া সুলতানার কোর্টের ফাইলের রেকর্ড সীলমোহর স্বাক্ষর বিহীন প্রমান করে দিয়েছেন বিবাদী ব্যাংকের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ হোসাইনী। এখন আদালত কি ভাবে ন্যায় বিচার করেন তার অপেক্ষা করবে বিবাদী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।
সংবাদ শিরোনাম
ইসলামী ব্যাংকের শ্রম আদালতে মামলা
-
খবরপত্র ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৪:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
- 155
জনপ্রিয় সংবাদ
























