ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ হাইকমিশনার Logo ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তর পরিদর্শন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের Logo ১৯ কার্গো এলএনজি আসছে ঘাটতির আশংকা নেই Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo বিএনপি সরকারের উদ্যোগ : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া Logo ফোন নীরবে যে ৪ কাজ করে Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ ঘর থেকেই শুরু হোক Logo মনের জটিল জট খোলার মতো ১০টি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা

কৃষক কার্ড পাওয়া কবির একজন কৃষকই

ক্ষেতের আঙ্গিনায় কৃষক কবির হোসেন

কৃষক কার্ড পাওয়া কবিরকে ঘিরে বিতর্ক, খোঁজ নিয়ে যা জানা গেল
পহেলা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড নেন কবির হোসেন
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড নেওয়ার পর টাঙ্গাইলের কবির হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে তিনি প্রকৃত কৃষক কি না।
গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তার কাছ থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণ করেন কবির হোসেন। তার বাড়ি সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া এলাকায়। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তার কার্ড নেওয়ার ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দাবি করেন তিনি কৃষক নন এবং তিনি ধনী ব্যক্তি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় কৃষি অধিদপ্তরসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা কবির হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করেন।
সরেজমিন সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কবির হোসেন তার বাড়ির উঠানে ঘরের সামনে ডাটা ও পাট শাকের চাষ করেছেন। গোয়াল ঘরে বাঁধা তিনটি গরু।
স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের মৃত আবু সাইদ মিয়ার ছেলে কবির হোসেনের নিজস্ব জমি রয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে আসছেন।
স্থানীয়দের মতে, তিনি এলাকায় একজন কৃষক হিসেবেই পরিচিত। তবে তিনি কৃষি কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করে আয় করার বিষয়টি সামনে আসার পর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কৃষক কার্ডের সুবিধা কী কেবলমাত্র পেশাদার কৃষকরাই পাচ্ছেন, নাকি অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এর আওতায় চলে আসছেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কবির কৃষিকাজ করলেও তিনি নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরি করেন।
জানা গেছে, কৃষক কার্ড দেওয়ার আগে কয়েক দফা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে তদন্ত করা হয়েছে। করিব হোসেন প্রকৃত কৃষক বলেই তালিকায় তার নাম রাখা হয়।
স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক। বর্তমান সময়ে তথ্য যাচাই-বাছাই না করে গুজবে কান দিয়ে সরকারের মানহানি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে আরো সচেতন হওয়া উচিত।”
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, “কবির যেহেতু বর্গাচাষ করেন এবং তার নিজস্ব জমিও রয়েছে, তাই তিনি কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য। কৃষি কাজই কবিরের মূল পেশা। তাকে নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।”
কৃষক কবির হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কুচক্রী মহল এমন করছে।”
তিনি বলেন, “আমি একজন কৃষক। কৃষি কাজের পাশাপাশি কন্টেন্ট বানিয়ে কিছু অতিরিক্ত আয় করি। এটা তো অন্যায় না।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, “নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, “আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি, কবির প্রকৃতপক্ষে একজন কৃষক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কৃষক কার্ড পাওয়া কবির একজন কৃষকই

আপডেট সময় ১১:০২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কৃষক কার্ড পাওয়া কবিরকে ঘিরে বিতর্ক, খোঁজ নিয়ে যা জানা গেল
পহেলা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড নেন কবির হোসেন
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড নেওয়ার পর টাঙ্গাইলের কবির হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে তিনি প্রকৃত কৃষক কি না।
গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তার কাছ থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণ করেন কবির হোসেন। তার বাড়ি সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া এলাকায়। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তার কার্ড নেওয়ার ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দাবি করেন তিনি কৃষক নন এবং তিনি ধনী ব্যক্তি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় কৃষি অধিদপ্তরসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা কবির হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করেন।
সরেজমিন সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কবির হোসেন তার বাড়ির উঠানে ঘরের সামনে ডাটা ও পাট শাকের চাষ করেছেন। গোয়াল ঘরে বাঁধা তিনটি গরু।
স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের মৃত আবু সাইদ মিয়ার ছেলে কবির হোসেনের নিজস্ব জমি রয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে আসছেন।
স্থানীয়দের মতে, তিনি এলাকায় একজন কৃষক হিসেবেই পরিচিত। তবে তিনি কৃষি কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করে আয় করার বিষয়টি সামনে আসার পর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কৃষক কার্ডের সুবিধা কী কেবলমাত্র পেশাদার কৃষকরাই পাচ্ছেন, নাকি অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এর আওতায় চলে আসছেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কবির কৃষিকাজ করলেও তিনি নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরি করেন।
জানা গেছে, কৃষক কার্ড দেওয়ার আগে কয়েক দফা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে তদন্ত করা হয়েছে। করিব হোসেন প্রকৃত কৃষক বলেই তালিকায় তার নাম রাখা হয়।
স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক। বর্তমান সময়ে তথ্য যাচাই-বাছাই না করে গুজবে কান দিয়ে সরকারের মানহানি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে আরো সচেতন হওয়া উচিত।”
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, “কবির যেহেতু বর্গাচাষ করেন এবং তার নিজস্ব জমিও রয়েছে, তাই তিনি কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য। কৃষি কাজই কবিরের মূল পেশা। তাকে নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।”
কৃষক কবির হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কুচক্রী মহল এমন করছে।”
তিনি বলেন, “আমি একজন কৃষক। কৃষি কাজের পাশাপাশি কন্টেন্ট বানিয়ে কিছু অতিরিক্ত আয় করি। এটা তো অন্যায় না।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, “নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, “আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি, কবির প্রকৃতপক্ষে একজন কৃষক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়।”