ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে পালানোর সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেফতার

চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে (মোবারক হোসেন ইমন) তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনগত রাত ৩টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেক পোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার অন্য তিনজন হলেন ঢাকার জুরাইনের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ গ্রামের শামীম (২৮) এবং নোয়াখালীর সাহারপাড়া গ্রামের সাফায়েত হোসেন (২৮)।
গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।
পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছেন, যশোর হয়ে তারা ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরী এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় বেশিরভাগ চাঁদা দাবি ও হামলার নেপথ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা। একসময় ছোট সাজ্জাদ বড় সাজ্জাদের হয়ে সব অপরাধ করে বেড়াতেন। ছোট সাজ্জাদ গ্রেফতারের পর মোবারক হোসেন ইমন এবং মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এই দুজন একের পর এক অপরাধ করে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা হলো।
ভারতে পালানোর সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেফতারগ্রেফতার ডেভিড ইমনসহ (বাঁ থেকে তৃতীয়, ক্লিন শেভড) বাকি তিন সহযোগী/ছবি-সংগৃহীত
সূত্র আরও জানায়, গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। লুট করা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা। ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি এ হামলা চালান। এর আগে ১১ জুলাই ডেভিড ইমন পরিচয়ে দুই কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে ডিডিএন মালিক আদিল বিন মামুনের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করা হয়।

এতে ডেভিড ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনার থেকে জিজ্ঞেস করেন। আপনি আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারকে আমার নম্বরটা দেখাইয়েন। ব্যবসা এখন থেকে আমরা করবো, আপনারা করিয়েন না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কী হয়েছিল ওটা দেখেছেন তো? মুজিবের কাছে আমার কথা জিজ্ঞেস করেন। তাহলে বুঝবেন।’
সূত্র আরও জানায়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালায়। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ পলাতক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)। এর মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে পালানোর সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৭:২০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে (মোবারক হোসেন ইমন) তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনগত রাত ৩টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেক পোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার অন্য তিনজন হলেন ঢাকার জুরাইনের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ গ্রামের শামীম (২৮) এবং নোয়াখালীর সাহারপাড়া গ্রামের সাফায়েত হোসেন (২৮)।
গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।
পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছেন, যশোর হয়ে তারা ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরী এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় বেশিরভাগ চাঁদা দাবি ও হামলার নেপথ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা। একসময় ছোট সাজ্জাদ বড় সাজ্জাদের হয়ে সব অপরাধ করে বেড়াতেন। ছোট সাজ্জাদ গ্রেফতারের পর মোবারক হোসেন ইমন এবং মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এই দুজন একের পর এক অপরাধ করে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা হলো।
ভারতে পালানোর সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেফতারগ্রেফতার ডেভিড ইমনসহ (বাঁ থেকে তৃতীয়, ক্লিন শেভড) বাকি তিন সহযোগী/ছবি-সংগৃহীত
সূত্র আরও জানায়, গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। লুট করা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা। ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি এ হামলা চালান। এর আগে ১১ জুলাই ডেভিড ইমন পরিচয়ে দুই কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে ডিডিএন মালিক আদিল বিন মামুনের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করা হয়।

এতে ডেভিড ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনার থেকে জিজ্ঞেস করেন। আপনি আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারকে আমার নম্বরটা দেখাইয়েন। ব্যবসা এখন থেকে আমরা করবো, আপনারা করিয়েন না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কী হয়েছিল ওটা দেখেছেন তো? মুজিবের কাছে আমার কথা জিজ্ঞেস করেন। তাহলে বুঝবেন।’
সূত্র আরও জানায়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালায়। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ পলাতক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)। এর মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি।