ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী বোটসহ ৭৬ জনকে উদ্ধার, আটক ১১

  • ইকবাল হোসেন:
  • আপডেট সময় ১১:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • 5

অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী একটি বোট থেকে ৬৫ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে একটি কাঠের নৌযান থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জনকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। অপর ৬৫ জন মালয়েশিয়া গমনে প্রতারণার শিকার বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন লাইট হাউস থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে গভীর সাগরে অভিযান চালিয়ে টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ বোটটি উদ্ধার করে।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নৌবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় এফভি ক্রিস্টাল-১ সমুদ্রে ভাসমান একটি কাঠের বোট দেখতে পায়। বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে পানি প্রবেশ করছিল। বোটে থাকা কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি নৌবাহিনীকে জানায় ওই ট্রলারেরই লোকজন।
খবর পেয়ে ওই এলাকায় টহলরত বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান নৌযানটিকে উদ্ধার করে। এ সময় সেটিতে পানি প্রবেশ করছিল। নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।
নৌবাহিনী জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। অপর ৬৫ জন মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের অধিকাংশকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা অপহরণ করে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখেছিল। পরে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নেওয়া হচ্ছিল।
নৌবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আটক ব্যক্তিদের এবং জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নৌবাহিনী জানায়, বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে পানি প্রবেশ করায় সেখানে থাকা যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থেকে ৭৬ জনের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গা নাগরিক ও নারী রয়েছেন।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানব পাচার ও চোরাচালান দমন এবং সমুদ্রে সংঘটিত সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী বোটসহ ৭৬ জনকে উদ্ধার, আটক ১১

আপডেট সময় ১১:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে একটি কাঠের নৌযান থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জনকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। অপর ৬৫ জন মালয়েশিয়া গমনে প্রতারণার শিকার বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন লাইট হাউস থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে গভীর সাগরে অভিযান চালিয়ে টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ বোটটি উদ্ধার করে।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নৌবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় এফভি ক্রিস্টাল-১ সমুদ্রে ভাসমান একটি কাঠের বোট দেখতে পায়। বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে পানি প্রবেশ করছিল। বোটে থাকা কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি নৌবাহিনীকে জানায় ওই ট্রলারেরই লোকজন।
খবর পেয়ে ওই এলাকায় টহলরত বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান নৌযানটিকে উদ্ধার করে। এ সময় সেটিতে পানি প্রবেশ করছিল। নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।
নৌবাহিনী জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। অপর ৬৫ জন মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের অধিকাংশকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা অপহরণ করে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখেছিল। পরে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নেওয়া হচ্ছিল।
নৌবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আটক ব্যক্তিদের এবং জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নৌবাহিনী জানায়, বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে পানি প্রবেশ করায় সেখানে থাকা যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থেকে ৭৬ জনের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গা নাগরিক ও নারী রয়েছেন।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানব পাচার ও চোরাচালান দমন এবং সমুদ্রে সংঘটিত সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।