ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি, মিলানে সেনা মোতায়েন Logo ‘মা ভালো’: ১৭ বছরের সেবাযত্ন অচেতন পুত্রবধূকে জাগিয়ে তুললেন চীনা নারী Logo বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে স্পিকারের আমন্ত্রণ Logo ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্ট মার্টিন Logo আমরা যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. শফিকুর রহমান এমপি Logo অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের জন্মদিন আজ Logo সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত প্রবারণা পূর্ণিমা Logo জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম Logo টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব আরোপ রাষ্ট্রপতির Logo বাংলাদেশে পলাতক অপরাধীকে কোন অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘মা ভালো’: ১৭ বছরের সেবাযত্ন অচেতন পুত্রবধূকে জাগিয়ে তুললেন চীনা নারী

চলতি বছরের শুরুতে মধ্য চীনের হেনান প্রদেশের এক স্বামী পক্ষাঘাতে গুরুতরভাবে আক্রান্ত স্ত্রীর ২৫ বছর ধরে সেবাযত্ন করায় অনলাইনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এবার পূর্ব চীনের স্যুয়ান ফেংইং ১৭ বছর ধরে তাঁর অচেতন পুত্রবধূ স্যুয়ের সেবাযত্ন করে আলোচনায় এসেছেন। ২০০৯ সালে শানতুং প্রদেশের ছিংইউন কাউন্টিতে একটি ট্রাকের ধাক্কায় স্যু গুরুতর আহত হন এবং অচেতন অবস্থায় চলে যান। তাঁর শাশুড়ি স্যুয়ান বলেন, “সে আমার ছেলেকে বিয়ে করেছে, তাই সে আমার সন্তান। আমি কীভাবে তাকে পরিত্যাগ করতে পারি?”
চীনের শানদিয়ান নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের মাত্র এক মাস পরই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এরপর থেকে ৬৮ বছর বয়সি শাশুড়ি স্যুয়ান দিনরাত তাঁর সেবাযত্ন করে আসছেন। প্রতিবার এক চামচ করে তরল খাবার খাওয়াতে তাঁর এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। শয্যাশায়ী অবস্থায় ক্ষত সৃষ্টি হওয়া ঠেকাতে তিনি প্রতিদিন ১০ বারের বেশি স্যুয়ের শরীরের পাশ পরিবর্তন করে দিতেন। ঘটনাটি অনলাইনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। একজন লিখেছেন, “মায়ের কী অসাধারণ ভালোবাসা! এই শাশুড়িকে সালাম।” আরেকজন বলেছেন, “এই প্রবীণ নারী সুস্থ থাকুন এবং দীর্ঘজীবী হোন।”
প্রস্রাব-পায়খানার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর স্যুয়ান পুত্রবধূকে পরিষ্কার করতেন, তাঁর পেশিতে মালিশ করতেন এবং পরিবারের ও গ্রামের খবর শোনাতেন। পাশাপাশি স্যুয়ের প্রিয় গান বাজাতেন এবং বারবার তাঁর নাম ধরে ডাকতেন। কয়েক বছর আগে স্যু অচেতন দশা থেকে ফিরে এলেও মস্তিষ্কের গুরুতর ক্ষতির কারণে এখনো তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা চার বছর বয়সি শিশুর মতো রয়ে গেছে। স্যুয়ান তাঁকে হাঁটতে শেখাতে এবং পুনর্বাসনমূলক ব্যায়াম করতেও সাহায্য করছেন। এক ভিডিওতে স্যুকে বলতে শোনা যায়, “মা, ভালো।”
বর্তমানে স্যু কয়েকটি শব্দ বলতে পারেন এবং নিজেই সাধারণ কিছু খাবার রান্না করতে পারেন। স্যুয়ান জানান, বহু বছর ধরে তাঁর পায়ে ব্যথা এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। নিজের মৃত্যুর পরও তিনি ছেলেকে স্ত্রীর যত্ন চালিয়ে যেতে বলেছেন। তিনি বলেন, “সে যেন আরও ভালো হয়ে ওঠে, এর বাইরে আমার আর কোনো চাওয়া নেই। সে রান্না করতে পারছে বলে আমি কিছুটা নিশ্চিন্ত। এতে আমি মারা যাওয়ার পরও সে অন্তত কিছু করে খেতে পারবে।” সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি, মিলানে সেনা মোতায়েন

‘মা ভালো’: ১৭ বছরের সেবাযত্ন অচেতন পুত্রবধূকে জাগিয়ে তুললেন চীনা নারী

আপডেট সময় ০৮:৫৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

চলতি বছরের শুরুতে মধ্য চীনের হেনান প্রদেশের এক স্বামী পক্ষাঘাতে গুরুতরভাবে আক্রান্ত স্ত্রীর ২৫ বছর ধরে সেবাযত্ন করায় অনলাইনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এবার পূর্ব চীনের স্যুয়ান ফেংইং ১৭ বছর ধরে তাঁর অচেতন পুত্রবধূ স্যুয়ের সেবাযত্ন করে আলোচনায় এসেছেন। ২০০৯ সালে শানতুং প্রদেশের ছিংইউন কাউন্টিতে একটি ট্রাকের ধাক্কায় স্যু গুরুতর আহত হন এবং অচেতন অবস্থায় চলে যান। তাঁর শাশুড়ি স্যুয়ান বলেন, “সে আমার ছেলেকে বিয়ে করেছে, তাই সে আমার সন্তান। আমি কীভাবে তাকে পরিত্যাগ করতে পারি?”
চীনের শানদিয়ান নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের মাত্র এক মাস পরই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এরপর থেকে ৬৮ বছর বয়সি শাশুড়ি স্যুয়ান দিনরাত তাঁর সেবাযত্ন করে আসছেন। প্রতিবার এক চামচ করে তরল খাবার খাওয়াতে তাঁর এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। শয্যাশায়ী অবস্থায় ক্ষত সৃষ্টি হওয়া ঠেকাতে তিনি প্রতিদিন ১০ বারের বেশি স্যুয়ের শরীরের পাশ পরিবর্তন করে দিতেন। ঘটনাটি অনলাইনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। একজন লিখেছেন, “মায়ের কী অসাধারণ ভালোবাসা! এই শাশুড়িকে সালাম।” আরেকজন বলেছেন, “এই প্রবীণ নারী সুস্থ থাকুন এবং দীর্ঘজীবী হোন।”
প্রস্রাব-পায়খানার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর স্যুয়ান পুত্রবধূকে পরিষ্কার করতেন, তাঁর পেশিতে মালিশ করতেন এবং পরিবারের ও গ্রামের খবর শোনাতেন। পাশাপাশি স্যুয়ের প্রিয় গান বাজাতেন এবং বারবার তাঁর নাম ধরে ডাকতেন। কয়েক বছর আগে স্যু অচেতন দশা থেকে ফিরে এলেও মস্তিষ্কের গুরুতর ক্ষতির কারণে এখনো তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা চার বছর বয়সি শিশুর মতো রয়ে গেছে। স্যুয়ান তাঁকে হাঁটতে শেখাতে এবং পুনর্বাসনমূলক ব্যায়াম করতেও সাহায্য করছেন। এক ভিডিওতে স্যুকে বলতে শোনা যায়, “মা, ভালো।”
বর্তমানে স্যু কয়েকটি শব্দ বলতে পারেন এবং নিজেই সাধারণ কিছু খাবার রান্না করতে পারেন। স্যুয়ান জানান, বহু বছর ধরে তাঁর পায়ে ব্যথা এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। নিজের মৃত্যুর পরও তিনি ছেলেকে স্ত্রীর যত্ন চালিয়ে যেতে বলেছেন। তিনি বলেন, “সে যেন আরও ভালো হয়ে ওঠে, এর বাইরে আমার আর কোনো চাওয়া নেই। সে রান্না করতে পারছে বলে আমি কিছুটা নিশ্চিন্ত। এতে আমি মারা যাওয়ার পরও সে অন্তত কিছু করে খেতে পারবে।” সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।