বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘বাংলাদেশের গণহত্যাকারী হচ্ছে শেখ হাসিনা। তার বাবাও গণহত্যা চালিয়েছিল বাকশাল কায়েমের মধ্য দিয়ে। এই পরিবারটি আগাগোড়া স্বৈরতন্ত্রের অনুসরণ করেছে।’ গতকাল বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের উদ্যোগে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদু বলেন, ‘স্বৈরাচার হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাদের প্রিয় সঙ্গী হচ্ছে যারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যারা লুটপাট গুম, খুন, হত্যা করেছে তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে পার্শ্ববর্তী একটি দেশ। সেই হিসেবে আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে এবং ৫ আগস্টের যে ঐক্য সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে।’ অন্তর্র্বতী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে একটি কাজ করতে হবে। মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার দিতে হবে। মানুষের নিরাপত্তার দিকে নজর দিতে হবে। মানুষের যে স্বস্তিহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেই স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। এর বাইরে হাসিনার অনুচররা যেসব জায়গায় এখনো রয়ে গেছে সেসব জায়গায় তড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের জনগণ যতই সজাগ থাকুক সরকারকে যদি সজাগ করা না যায়, সরকার যদি সজাগ না হয় তাহলে ফ্যাসিবাদের দোসরদের শক্তি বাড়বে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেবে। সেই ধ্বংসের হাত থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে জাতীয় ঐক্য আমাদেরকে ধরে রাখতে হবে।’
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার দল যদি মনে করে বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে আবার গ্রহণ করবে তাহলে তারা বড় ভুল করছে। কারণ বাংলাদেশে সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন, অন্যায় অবিচার শেখ হাসিনা করেছে, এর আগে কেউ এরকম করেনি। বাংলাদেশের গণহত্যাকারী হচ্ছে শেখ হাসিনা। তার বাবাও গণহত্যা চালিয়েছিল বাকশাল কায়েমের মধ্য দিয়ে। এই পরিবারটি আগাগোড়া স্বৈরতন্ত্রের অনুসরণ করেছে। এই দেশ স্বাধীনতার পর যে পরিস্থিতি ছিল, গত ১৫-১৬ বছরও একই পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু এই দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের স্বৈরতন্ত্রের কাছে কখনো মাথা নত করেনি।’
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এদেশের মানুষ অত্যাচারিত হয়েছে, গুম হয়েছে, খুন হয়েছে, জেল-জুলুমশিকার হয়েছে তারপরও কখনো স্বৈরাচারীর কাছে মাথা নত করেনি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে গেছে।’ এতে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্য সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম প্রমুখ।