ঢাকা ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দৌলতপুরে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে বিশাল জনসভা Logo কালিয়াকৈরে শ্রমিক আন্দোলনে তা-ব Logo খুলনায় জাতীয় যুব দিবস পালিত Logo টাঙ্গাইলে সাড়ে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত মূলহোতা গ্রেপ্তার Logo সালথায় চীনা যুবক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কলেজছাত্রীকে বিয়ে করায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি Logo মীরসরাইয়ে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন Logo পৌলী বুলবুল ক্লাবের আয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ Logo লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক Logo পাহাড় কেটে সাতটি স্থাপনা, চকরিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বাড়িঘর ও মুরগির খামার নির্মাণের অভিযোগ Logo কুড়িগ্রামের কচাকাটা কলেজে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ঢাবি অক্সফোর্ড হলে রাবিকে ক্যামব্রিজ করতে চাই: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি অক্সফোর্ড হয়, তাহলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্যামব্রিজ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে হবে।”
গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, “দীর্ঘদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরে আসার মতো অনুভূতি হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, বিভিন্ন ভবন ও সবুজ চত্বরের সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার যে গর্ব ও আনন্দ, তা আজও স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।”
তিনি বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। তারা বিভিন্ন পেশায় যুক্ত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় জানার পর ওই শিক্ষার্থী যে আন্তরিকতা ও আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন, তা স্মরণীয়।”
বিএনপির এই নেতা বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ও বিদেশে নানা পেশায় যুক্ত থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। নিজের গ্রাম কিংবা বাড়ির মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হলে আনন্দ তৈরি হয়।”
নিজের ছাত্ররাজনীতির স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, “আমাদের সময়ে ছাত্ররাজনীতিতে সমস্যা, সংঘাত ও মনোমালিন্য থাকলেও পারস্পরিক সহাবস্থান ও উদারতা ছিল। শিক্ষকেরা কে কোন ছাত্রসংগঠন করতেন, তা বিবেচনা না করে শিক্ষার্থীদের স্নেহ করতেন। শিক্ষার্থীরাও রাজনৈতিক সংগঠনের বাইরের সামাজিক সম্পর্কগুলো বজায় রাখতেন।”
তিনি বলেন, “ছাত্ররাজনীতির সাংগঠনিক পরিচয়ের বাইরে সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সম্পর্ক ও পারস্পরিক আন্তরিকতা এখনো রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং এর উন্নয়নে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে অনেক ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জড়িয়ে রয়েছে। বরেন্দ্র জাদুঘরও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির দেশ-বিদেশে সুনাম রয়েছে এবং রাজশাহীতে যাওয়া অনেক অতিথি এটি পরিদর্শন করেন।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি প্রাণবন্ত, বৃক্ষশোভিত ও গবেষণাবান্ধব শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে এর ঐতিহ্য ও সুনাম আরো বাড়ানো সম্ভব।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতপুরে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে বিশাল জনসভা

ঢাবি অক্সফোর্ড হলে রাবিকে ক্যামব্রিজ করতে চাই: রিজভী

আপডেট সময় ০৮:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি অক্সফোর্ড হয়, তাহলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্যামব্রিজ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে হবে।”
গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, “দীর্ঘদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরে আসার মতো অনুভূতি হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, বিভিন্ন ভবন ও সবুজ চত্বরের সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার যে গর্ব ও আনন্দ, তা আজও স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।”
তিনি বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। তারা বিভিন্ন পেশায় যুক্ত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় জানার পর ওই শিক্ষার্থী যে আন্তরিকতা ও আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন, তা স্মরণীয়।”
বিএনপির এই নেতা বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ও বিদেশে নানা পেশায় যুক্ত থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। নিজের গ্রাম কিংবা বাড়ির মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হলে আনন্দ তৈরি হয়।”
নিজের ছাত্ররাজনীতির স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, “আমাদের সময়ে ছাত্ররাজনীতিতে সমস্যা, সংঘাত ও মনোমালিন্য থাকলেও পারস্পরিক সহাবস্থান ও উদারতা ছিল। শিক্ষকেরা কে কোন ছাত্রসংগঠন করতেন, তা বিবেচনা না করে শিক্ষার্থীদের স্নেহ করতেন। শিক্ষার্থীরাও রাজনৈতিক সংগঠনের বাইরের সামাজিক সম্পর্কগুলো বজায় রাখতেন।”
তিনি বলেন, “ছাত্ররাজনীতির সাংগঠনিক পরিচয়ের বাইরে সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সম্পর্ক ও পারস্পরিক আন্তরিকতা এখনো রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং এর উন্নয়নে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে অনেক ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জড়িয়ে রয়েছে। বরেন্দ্র জাদুঘরও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির দেশ-বিদেশে সুনাম রয়েছে এবং রাজশাহীতে যাওয়া অনেক অতিথি এটি পরিদর্শন করেন।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি প্রাণবন্ত, বৃক্ষশোভিত ও গবেষণাবান্ধব শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে এর ঐতিহ্য ও সুনাম আরো বাড়ানো সম্ভব।”