ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড এর পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ সভা Logo প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ গড়া দায়িত্ব আমাদের সবার Logo সারা জীবন মুসলিম ছিলাম, অথচ জানতামই না: মার্কিন তরুণী অ্যাঞ্জেলা Logo নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের Logo অবকাঠামো ও শিল্প খাতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনা প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা Logo হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর Logo বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি Logo আইসিএপিপির ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত ইসমাইল জবিউল্লাহ Logo দুম্বা পালন করে রাকিবের ভাগ্য বদল Logo শ্রমিকদের দাবির আড়ালে সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

মধু যাদের জন্য ‘বিষ’!

মধুকে প্রাকৃতিক মিষ্টি ও উপকারী খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঠান্ডা-কাশি থেকে শুরু করে নানা সমস্যায় অনেকেই মধু খেয়ে থাকেন। চিনির বিকল্প হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে। মধুতে আছে নানান স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং ঔষুধি গুণ। তবে মধু সবার জন্য সমান নিরাপদ নয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য মধু মারাত্মক বিপজ্জনক। এছাড়া ডায়াবেটিস ও অ্যালার্জির সমস্যা থাকলেও মধু খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
এক বছরের কম বয়সী শিশু
এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনোভাবেই মধু খাওয়ানো উচিত নয়। এমনকি শিশুর খাবার, পানি, ফর্মুলা দুধ কিংবা প্যাসিফায়ারেও মধু মেশানো যাবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, মধুতে ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে। শিশুর অপরিণত পরিপাকতন্ত্রে এসব স্পোর থেকে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ইনফ্যান্ট বটুলিজম নামের বিরল কিন্তু গুরুতর অসুস্থতা দেখা দেয়।
এ রোগে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য, দুধ খেতে অসুবিধা, দুর্বল কান্না, পেশির দুর্বলতা এমনকি শ্বাসকষ্টও হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় পক্ষাঘাতের ঝুঁকি থাকে। তাই শিশুর বয়স ১২ মাস পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মধু এড়িয়ে চলতে হবে। শুধু মধু নয়, মধু মেশানো খাবারও দেওয়া যাবে না।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
অনেকে মনে করেন, চিনি না খেয়ে মধু খেলে রক্তে শর্করা বাড়বে না। ধারণাটি ঠিক নয়। মধুতেও গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজসহ বিভিন্ন ধরনের শর্করা থাকে। ফলে এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে।
মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার করলে বিশেষ কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না। মধুতেও কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরি রয়েছে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে মধু খেতে চাইলে পরিমাণ হিসাব করে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যাদের মধুতে অ্যালার্জি আছে
কিছু মানুষের মধু খেলে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে। বিশেষ করে পরাগরেণু বা মৌমাছির হুলে অ্যালার্জি থাকলে মধু খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথ জানিয়েছে, পরাগরেণু বা মৌমাছির হুলে অ্যালার্জি আছে, এমন ব্যক্তিদের মধুতেও অ্যালার্জি হতে পারে।
মধু খাওয়ার পর চুলকানি, ফুসকুড়ি, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। শ্বাসকষ্ট বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
যাদের ওজন ও ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়
মধু প্রাকৃতিক হলেও এতে প্রচুর শর্করা ও ক্যালরি রয়েছে। তাই অতিরিক্ত মধু খেলে দৈনিক ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন বা খাবারের চিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদেরও মধু পরিমিত খাওয়া উচিত। চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করলেও এটিকে সীমাহীনভাবে খাওয়ার সুযোগ নেই।
তাহলে কি মধু খাওয়া বন্ধ করতে হবে?
না। এক বছরের বেশি বয়সী এবং মধুতে অ্যালার্জি নেই, এমন সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত মধু সাধারণত নিরাপদ। তবে মধু কোনো ওষুধ নয়, আর প্রাকৃতিক বলেই এটি সবার জন্য উপকারী এমন ধারণাও ঠিক নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও রোগের ধরন বিবেচনা করে মধু খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া একেবারে কাঁচা মধু খাওয়াও ঠিক না। প্রসেস করা মধু স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও একদম কাঁচা মধু পরিষ্কার না হলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
নোট: মধু সবার জন্য সমান নিরাপদ নয়। সেজন্য মধুকে সকাসরি ‘বিষ’ বলাও ঠিক হবে না। যেহেতু এটি অনেকের জন্য ক্ষতিকর তাই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
সূত্র: ডব্লিউএইচও, সিডিসি, মায়ো ক্লিনিক, যুক্তরাষ্ট্রের এনসিসিআইএইচ

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড এর পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ সভা

মধু যাদের জন্য ‘বিষ’!

আপডেট সময় ০৯:৪৯:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

মধুকে প্রাকৃতিক মিষ্টি ও উপকারী খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঠান্ডা-কাশি থেকে শুরু করে নানা সমস্যায় অনেকেই মধু খেয়ে থাকেন। চিনির বিকল্প হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে। মধুতে আছে নানান স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং ঔষুধি গুণ। তবে মধু সবার জন্য সমান নিরাপদ নয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য মধু মারাত্মক বিপজ্জনক। এছাড়া ডায়াবেটিস ও অ্যালার্জির সমস্যা থাকলেও মধু খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
এক বছরের কম বয়সী শিশু
এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনোভাবেই মধু খাওয়ানো উচিত নয়। এমনকি শিশুর খাবার, পানি, ফর্মুলা দুধ কিংবা প্যাসিফায়ারেও মধু মেশানো যাবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, মধুতে ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে। শিশুর অপরিণত পরিপাকতন্ত্রে এসব স্পোর থেকে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ইনফ্যান্ট বটুলিজম নামের বিরল কিন্তু গুরুতর অসুস্থতা দেখা দেয়।
এ রোগে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য, দুধ খেতে অসুবিধা, দুর্বল কান্না, পেশির দুর্বলতা এমনকি শ্বাসকষ্টও হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় পক্ষাঘাতের ঝুঁকি থাকে। তাই শিশুর বয়স ১২ মাস পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মধু এড়িয়ে চলতে হবে। শুধু মধু নয়, মধু মেশানো খাবারও দেওয়া যাবে না।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
অনেকে মনে করেন, চিনি না খেয়ে মধু খেলে রক্তে শর্করা বাড়বে না। ধারণাটি ঠিক নয়। মধুতেও গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজসহ বিভিন্ন ধরনের শর্করা থাকে। ফলে এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে।
মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার করলে বিশেষ কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না। মধুতেও কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরি রয়েছে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে মধু খেতে চাইলে পরিমাণ হিসাব করে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যাদের মধুতে অ্যালার্জি আছে
কিছু মানুষের মধু খেলে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে। বিশেষ করে পরাগরেণু বা মৌমাছির হুলে অ্যালার্জি থাকলে মধু খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথ জানিয়েছে, পরাগরেণু বা মৌমাছির হুলে অ্যালার্জি আছে, এমন ব্যক্তিদের মধুতেও অ্যালার্জি হতে পারে।
মধু খাওয়ার পর চুলকানি, ফুসকুড়ি, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। শ্বাসকষ্ট বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
যাদের ওজন ও ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়
মধু প্রাকৃতিক হলেও এতে প্রচুর শর্করা ও ক্যালরি রয়েছে। তাই অতিরিক্ত মধু খেলে দৈনিক ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন বা খাবারের চিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদেরও মধু পরিমিত খাওয়া উচিত। চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করলেও এটিকে সীমাহীনভাবে খাওয়ার সুযোগ নেই।
তাহলে কি মধু খাওয়া বন্ধ করতে হবে?
না। এক বছরের বেশি বয়সী এবং মধুতে অ্যালার্জি নেই, এমন সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত মধু সাধারণত নিরাপদ। তবে মধু কোনো ওষুধ নয়, আর প্রাকৃতিক বলেই এটি সবার জন্য উপকারী এমন ধারণাও ঠিক নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও রোগের ধরন বিবেচনা করে মধু খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া একেবারে কাঁচা মধু খাওয়াও ঠিক না। প্রসেস করা মধু স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও একদম কাঁচা মধু পরিষ্কার না হলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
নোট: মধু সবার জন্য সমান নিরাপদ নয়। সেজন্য মধুকে সকাসরি ‘বিষ’ বলাও ঠিক হবে না। যেহেতু এটি অনেকের জন্য ক্ষতিকর তাই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
সূত্র: ডব্লিউএইচও, সিডিসি, মায়ো ক্লিনিক, যুক্তরাষ্ট্রের এনসিসিআইএইচ