ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ হাফিজ ইব্রাহিম বলেছেন, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জাতি একদলীয় বাকশালী দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে। ৭ নভেম্বরের চেতনা হলো গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য-সংহতি ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা। তিনি ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গতকাল ৭ নভেম্বর শনিবার ভোলার বোরহানউদ্দিনে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধানঅতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেছেন। উল্লেখ্য, তিনি উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত র্যালিতেও নেতৃত্ব দেন। এ সময় বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কাজী আজম, যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল আলম নাসিম কাজী ও ফিরোজ কাজী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান কবির মিয়া, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী আকবর পিন্টু, সহসভাপতি মোঃ বশির আহম্মেদ ও ফাইজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বোরহানউদ্দিন উপজেলার পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা র্যালিতে যোগ দেন। বর্ণাঢ্য এ র্যালি ও আলোচনাসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিতি ছিলো।
র্যালি শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন নেতারা।
আলোচনা সভায় ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অভিষেক হয়েছে। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। জাতির দুর্ভাগ্য হলো,আগ্রাসী অপশক্তির ষড়যন্ত্রে জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করেন। এরপর বিএনপিকে নানা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন সরকারের সময় এবং পরবর্তী আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়ে ফ্যাসিস্টরা।
তিনি আরও বলেন, বোরহানউদ্দিনে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, হাফিজ ইব্রাহিম কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছি। শিক্ষার প্রসারে মানিকার একটি গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ, একজন শিক্ষিত মা একটি শিক্ষিত জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এলাকার ছেলেমেয়েরা যাতে উন্নত ও মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ভোলা-২ আসনে অতীতে বিনা ভোটে ফ্যাসিস্টের দোসররা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েও এলাকার জনগণের জন্য কিছুই করেনি। ঐ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের এমপি মন্ত্রীরা ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে একদিনে পাঁচ লাখ মানুষ মারা যাবে’—এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েও জনগণের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর অপচেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। জনরোষ থেকে বাঁচতে তারা দেশ থেকে পালিয়েছে।
মাহমুদ সোহেল,বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি: 

























