ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নোয়াখালীতে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট Logo সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে : রিজভী Logo মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ মঙ্গলবার Logo বিএনপি সব সময় ইসলামের পথে থাকে-আমান উল্লাহ আমান Logo জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo তারাকান্দায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা Logo চিফ হুইপের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করলো সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি Logo উত্তরের নদ-নদীতে ধরা পড়ছে ইলিশ Logo কালীগঞ্জে দারিদ্র্যতা হার মানাতে পারেনি রুকাইয়াকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েও উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা

হালদার স্রোতে ভেসে গেল তিন উপজেলার সংযোগ সাঁকো, দুর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হালদা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন সংলগ্ন নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেছে। এতে হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বহু বছর ধরে হালদা নদীর এই বাঁশের সাঁকোই ছিল তিন উপজেলার মানুষের সবচেয়ে সহজ যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত শত শত মানুষ এই পথ দিয়ে হাটহাজারী সদর, চট্টগ্রাম শহর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। নাঙ্গলমোড়া, নোয়াজিষপুর ও দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর এলাকার শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত এই সাঁকো ব্যবহার করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতেন। কিন্তু কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদীতে নেমে আসা প্রবল ঢলের আঘাতে সাঁকোটি সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ায় এখন তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়ার বোঝাও বহন করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য লায়ন ড. সালাউদ্দীন আলী বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিবছর বর্ষা এলেই বাঁশের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অস্থায়ী ব্যবস্থা দিয়ে বছরের পর বছর পার হলেও স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ কমছে না। তাই দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি এখন আরও জোরালো হয়েছে। জানা গেছে, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি ডিও লেটার দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত স্থায়ী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ হলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা। এদিকে সাঁকোটি দ্রুত পুনঃস্থাপন কিংবা বিকল্প নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না করা হলে বর্ষা মৌসুমজুড়ে কয়েক হাজার পরিবারের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট

হালদার স্রোতে ভেসে গেল তিন উপজেলার সংযোগ সাঁকো, দুর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

আপডেট সময় ০৪:০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হালদা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন সংলগ্ন নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেছে। এতে হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বহু বছর ধরে হালদা নদীর এই বাঁশের সাঁকোই ছিল তিন উপজেলার মানুষের সবচেয়ে সহজ যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত শত শত মানুষ এই পথ দিয়ে হাটহাজারী সদর, চট্টগ্রাম শহর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। নাঙ্গলমোড়া, নোয়াজিষপুর ও দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর এলাকার শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত এই সাঁকো ব্যবহার করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতেন। কিন্তু কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদীতে নেমে আসা প্রবল ঢলের আঘাতে সাঁকোটি সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ায় এখন তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়ার বোঝাও বহন করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য লায়ন ড. সালাউদ্দীন আলী বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিবছর বর্ষা এলেই বাঁশের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অস্থায়ী ব্যবস্থা দিয়ে বছরের পর বছর পার হলেও স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ কমছে না। তাই দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি এখন আরও জোরালো হয়েছে। জানা গেছে, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি ডিও লেটার দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত স্থায়ী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ হলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা। এদিকে সাঁকোটি দ্রুত পুনঃস্থাপন কিংবা বিকল্প নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না করা হলে বর্ষা মৌসুমজুড়ে কয়েক হাজার পরিবারের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।