ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নোয়াখালীতে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট Logo সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে : রিজভী Logo মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ মঙ্গলবার Logo বিএনপি সব সময় ইসলামের পথে থাকে-আমান উল্লাহ আমান Logo জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo তারাকান্দায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা Logo চিফ হুইপের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করলো সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি Logo উত্তরের নদ-নদীতে ধরা পড়ছে ইলিশ Logo কালীগঞ্জে দারিদ্র্যতা হার মানাতে পারেনি রুকাইয়াকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েও উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা

খানা-খন্দে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

খানাখন্দে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে চালক ও যাত্রীরা। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে দেশের ব্যস্ততম ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনগুলো। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, পাশাপাশি যানচলাচল ও পণ্য পরিবহনে দেখা দিয়েছে বেশ জটিলতা। গতকাল ১৮ জুলাই শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সীতাকু- উপজেলার সিটিগেইট, ফৌজদারহাট লিঙ্করোড, ভাটিয়ারী, বারআউলিয়া, বড় কুমিরা, বাঁশবাড়ীয়া, বাড়বকু-, ফকিরহাট, সীতাকু- দক্ষিণ ও উত্তর বাজার, মীরেরহাট বটতল, ছোট দারোগারহাট, টেরিয়াইল ও বড় দারোগারহাট সহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং ওঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহজুড়ে আষাঢ়ের একটানা ভারী বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে থাকায় চালকদের জন্য গর্তের আকার কিংবা গভীরতা নির্ণয় করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে অনেক স্পটে যানবাহনের চলমান চাকা গর্তে পড়ে যান্ত্রিক ক্রুটি দেখা দিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে ব্যস্ততম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন স্বল্প ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। পণ্য পরিবহনেও ব্যয় হচ্ছে দীর্ঘ সময়। এমন পরিস্থিতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন সহ উপজেলার শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদিত পন্যের সরবরাহ ব্যবস্থাতেও। উপজেলার বিভিন্ন স্পটে যানবাহন বিকল হয়ে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল। চালকরা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে পানি জমে থাকায় সৃষ্ট গর্তের আকার ও গভীরতা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হঠাৎ চাকা গর্তে পড়ে ইঞ্জিন বিকলসহ গাড়ির যন্ত্রাংশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মহাসড়কের অনেক স্থানে তাৎক্ষণিক ভাবে মেরামতের ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ সময় যানজট। সীতাকু- উপজেলার ৪নং মুরাদপুর ইউনিয়ন গোলাবাড়ীয়া থেকে ফুজিয়া বিনতে মাহমুদ সামি বলেন, মহাসড়কের বেহাল দশায় চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত সাময়িক বন্ধ রেখেছি। সড়ক সংস্কার হলে আবারও যাতায়াত শুরু করবো। সীতাকু- পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা চট্টগ্রাম জজ আদালতের আইনজীবি অ্যাডভোকেট মো. তৌফিক উদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়কে নিয়মিত যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাছাড়া আগের তুলনায় সময়ও ব্যয় হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। আগে প্রতি সপ্তাহে দু‘দিন গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করলেও এবার বাসাতে বসে পেশাগত কাজকর্মেই ছুটি কাটিয়ে দিয়েছি। বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হক বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং ওঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের সতর্কতার সঙ্গে ধীরগতিতে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সীতাকু- মডেল থানার ওসি মো. মহীনুল ইসলাম বলেন, যানজট চলাকালিন মহাসড়কের সার্বিক নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। প্রতিরাতে মহাসড়কজুটে অপ্রীতিকর ঘটনারোধে পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. ফয়সাল জানান, বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে অনুকূল পরিবেশ এলে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্থ অংশগুলোর গর্ত ভরাট করে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট

খানা-খন্দে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

আপডেট সময় ০২:৪৯:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

খানাখন্দে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে চালক ও যাত্রীরা। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে দেশের ব্যস্ততম ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনগুলো। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, পাশাপাশি যানচলাচল ও পণ্য পরিবহনে দেখা দিয়েছে বেশ জটিলতা। গতকাল ১৮ জুলাই শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সীতাকু- উপজেলার সিটিগেইট, ফৌজদারহাট লিঙ্করোড, ভাটিয়ারী, বারআউলিয়া, বড় কুমিরা, বাঁশবাড়ীয়া, বাড়বকু-, ফকিরহাট, সীতাকু- দক্ষিণ ও উত্তর বাজার, মীরেরহাট বটতল, ছোট দারোগারহাট, টেরিয়াইল ও বড় দারোগারহাট সহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং ওঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহজুড়ে আষাঢ়ের একটানা ভারী বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে থাকায় চালকদের জন্য গর্তের আকার কিংবা গভীরতা নির্ণয় করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে অনেক স্পটে যানবাহনের চলমান চাকা গর্তে পড়ে যান্ত্রিক ক্রুটি দেখা দিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে ব্যস্ততম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন স্বল্প ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। পণ্য পরিবহনেও ব্যয় হচ্ছে দীর্ঘ সময়। এমন পরিস্থিতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন সহ উপজেলার শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদিত পন্যের সরবরাহ ব্যবস্থাতেও। উপজেলার বিভিন্ন স্পটে যানবাহন বিকল হয়ে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল। চালকরা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে পানি জমে থাকায় সৃষ্ট গর্তের আকার ও গভীরতা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হঠাৎ চাকা গর্তে পড়ে ইঞ্জিন বিকলসহ গাড়ির যন্ত্রাংশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মহাসড়কের অনেক স্থানে তাৎক্ষণিক ভাবে মেরামতের ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ সময় যানজট। সীতাকু- উপজেলার ৪নং মুরাদপুর ইউনিয়ন গোলাবাড়ীয়া থেকে ফুজিয়া বিনতে মাহমুদ সামি বলেন, মহাসড়কের বেহাল দশায় চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত সাময়িক বন্ধ রেখেছি। সড়ক সংস্কার হলে আবারও যাতায়াত শুরু করবো। সীতাকু- পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা চট্টগ্রাম জজ আদালতের আইনজীবি অ্যাডভোকেট মো. তৌফিক উদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়কে নিয়মিত যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাছাড়া আগের তুলনায় সময়ও ব্যয় হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। আগে প্রতি সপ্তাহে দু‘দিন গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করলেও এবার বাসাতে বসে পেশাগত কাজকর্মেই ছুটি কাটিয়ে দিয়েছি। বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হক বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং ওঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের সতর্কতার সঙ্গে ধীরগতিতে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সীতাকু- মডেল থানার ওসি মো. মহীনুল ইসলাম বলেন, যানজট চলাকালিন মহাসড়কের সার্বিক নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। প্রতিরাতে মহাসড়কজুটে অপ্রীতিকর ঘটনারোধে পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. ফয়সাল জানান, বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে অনুকূল পরিবেশ এলে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্থ অংশগুলোর গর্ত ভরাট করে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।