ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নোয়াখালীতে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট Logo সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে : রিজভী Logo মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ মঙ্গলবার Logo বিএনপি সব সময় ইসলামের পথে থাকে-আমান উল্লাহ আমান Logo জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo তারাকান্দায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা Logo চিফ হুইপের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করলো সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি Logo উত্তরের নদ-নদীতে ধরা পড়ছে ইলিশ Logo কালীগঞ্জে দারিদ্র্যতা হার মানাতে পারেনি রুকাইয়াকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েও উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা

দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের ‘পায়রা ভবন’ উধাও, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন ‘পায়রা ভবন’ ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি অনুসরণ না করেই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং ভবনের ইট, রড, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। যদিও উপজেলা প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে। উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০-এর দশকে নির্মিত ‘পায়রা ভবন’টি দীর্ঘদিন উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সর্বশেষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সুমন সেখানে বসবাস করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন ভবনটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে কিছু আসবাবপত্র ও দরজা-জানালার ক্ষতি হলেও ভবনের মূল কাঠামো অক্ষত ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি ভবন অপসারণের ক্ষেত্রে কনডেমনেশন কমিটির সুপারিশ, নিলাম বিজ্ঞপ্তি, দরপত্র এবং সরকারি কোষাগারে অর্থ জমার মতো বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এতে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ তৎকালীন ইউএনও নাঈমা ইসলাম ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য আবেদন করেন। পরে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কনডেমনেশন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দিলেও পরবর্তী কার্যক্রম আর এগোয়নি। উপজেলা প্রকৌশল অফিস ভবনের মালামালের মূল্য ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫০৪ টাকা এবং ভাঙার ব্যয় ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪ টাকা নির্ধারণ করে। সে হিসাবে অন্তত ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা ভিত্তিমূল্য ধরে নিলাম আহ্বানের সুযোগ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে টানা ১০ থেকে ১২ দিন ধরে ভবনটি ভাঙার কাজ চলে। দিনে ভবন ভাঙা এবং রাতে ট্রাকে করে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নির্দেশে ভবনটির প্রাক্কলিত ব্যয় প্রস্তুত করে জমা দেওয়া হয়েছিল। এরপর কী হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। তবে বর্তমান ইউএনও নাছরীন আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ২০২৫ সালের আগস্টে দাউদকান্দিতে যোগদান করেছি। ভবনটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছিল। কে বা কারা ভবনটি ভেঙে মালামাল নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সাবেক ইউএনও নাঈমা ইসলাম বলেন, তিনি শুধু ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য আবেদন করেছিলেন। বদলির আগে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মফিজ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রোজী আকতার বলেন, এই বিষয়ে আমরা ইউএনও কে নোটিশ দিয়েছি উনি উনার মত কারণটা দেক তারপর আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট

দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের ‘পায়রা ভবন’ উধাও, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

আপডেট সময় ০২:৪৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন ‘পায়রা ভবন’ ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি অনুসরণ না করেই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং ভবনের ইট, রড, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। যদিও উপজেলা প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে। উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০-এর দশকে নির্মিত ‘পায়রা ভবন’টি দীর্ঘদিন উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সর্বশেষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সুমন সেখানে বসবাস করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন ভবনটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে কিছু আসবাবপত্র ও দরজা-জানালার ক্ষতি হলেও ভবনের মূল কাঠামো অক্ষত ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি ভবন অপসারণের ক্ষেত্রে কনডেমনেশন কমিটির সুপারিশ, নিলাম বিজ্ঞপ্তি, দরপত্র এবং সরকারি কোষাগারে অর্থ জমার মতো বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এতে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ তৎকালীন ইউএনও নাঈমা ইসলাম ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য আবেদন করেন। পরে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কনডেমনেশন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দিলেও পরবর্তী কার্যক্রম আর এগোয়নি। উপজেলা প্রকৌশল অফিস ভবনের মালামালের মূল্য ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫০৪ টাকা এবং ভাঙার ব্যয় ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪ টাকা নির্ধারণ করে। সে হিসাবে অন্তত ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা ভিত্তিমূল্য ধরে নিলাম আহ্বানের সুযোগ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে টানা ১০ থেকে ১২ দিন ধরে ভবনটি ভাঙার কাজ চলে। দিনে ভবন ভাঙা এবং রাতে ট্রাকে করে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নির্দেশে ভবনটির প্রাক্কলিত ব্যয় প্রস্তুত করে জমা দেওয়া হয়েছিল। এরপর কী হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। তবে বর্তমান ইউএনও নাছরীন আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ২০২৫ সালের আগস্টে দাউদকান্দিতে যোগদান করেছি। ভবনটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছিল। কে বা কারা ভবনটি ভেঙে মালামাল নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সাবেক ইউএনও নাঈমা ইসলাম বলেন, তিনি শুধু ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য আবেদন করেছিলেন। বদলির আগে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মফিজ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রোজী আকতার বলেন, এই বিষয়ে আমরা ইউএনও কে নোটিশ দিয়েছি উনি উনার মত কারণটা দেক তারপর আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।